কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৫, ১০:২২ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

শাটডাউনে অচল যুক্তরাষ্ট্র, বিপাকে হাজারো কর্মী

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বাজেট অনুমোদন নিয়ে অচলাবস্থার জেরে শুরু হয়েছে ‘শাটডাউন’। সিনেটে ব্যয় বাজেট বিল পাসে ব্যর্থ হওয়ায় প্রায় ছয় বছর পর কোনো প্রশাসন অনির্দিষ্টকালের জন্য অচল হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

যদিও এই পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বৈঠক করেছিলেন সিনেটের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান সদস্যরা। কিন্তু তহবিল নিয়ে একমত হতে পারেননি তারা। এর আগে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও সিনেট সদস্যদের নিয়ে হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেন। মতানৈক্য চলতে থাকায় শাটডাউনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে দেয় হোয়াইট হাউস। পরে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১২টা (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ১০টা) থেকে ‘শাটডাউন’ শুরু হয় উত্তর আমেরিকার এই দেশটিতে। এর ফলে দেশটির হাজারো ফেডারেল কর্মী ছাঁটাই-অবৈতনিক ছুটিতে বাধ্য হচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প শিবিরে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে, শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ। এ ঘটনার জন্য ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান পার্টি পাল্টাপাল্টি দোষারোপ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি অর্থবছরে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কাজ চালানোর জন্য মার্কিন কংগ্রেসকে অর্থ বরাদ্দ করতে হয়। অর্থবছর শুরু হয় ১ অক্টোবর থেকে। যদি এ সময়ের মধ্যে সিনেট সদস্যরা একমত হয়ে ব্যয় বরাদ্দ চূড়ান্ত করতে না পারেন, তবে বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে যতদিন পর্যন্ত কংগ্রেস থেকে অর্থ বরাদ্দ না করা হচ্ছে, ততদিন দপ্তরগুলো বন্ধ থাকবে। ১০০ সদস্যের মার্কিন সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যা ৫৩। যে কোনো বিল পাস করাতে অন্তত ৬০টি ভোটের প্রয়োজন হয়। সেই হিসেবে সাতজন ডেমোক্র্যাট সদস্যের সমর্থন তাদের প্রয়োজন ছিল। সরকারি তহবিল সংক্রান্ত বিলে তা হয়নি। বিলটি ৪৭-৫৩ ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়। আর সে কারণে সিনেটের অনুমোদনও মেলেনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ব্যয় বাজেট গঠনকারী ১২টি বিলের কোনোটি এখনো আইনসভার দুই কক্ষে পাস হয়নি। ফলে শাটডাউনটি হতে চলেছে ‘সম্পূর্ণ শাটডাউন’।

কী কী বন্ধ, কী কী খোলা: ‘শাটডাউন’-এ মার্কিন সরকারের অধিকাংশ দপ্তরের কাজই বন্ধ হয়ে যাবে। চালু থাকবে কেবল জরুরি পরিষেবাগুলো। কোন কোন দপ্তর চালু থাকবে, কতজন কর্মীকে নিয়ে চলবে, তা আলোচনার মাধ্যমে স্থির করা হয়।

যারা শাটডাউন চলাকালীনও কাজ করবেন, তাদের অধিকাংশই বেতন পাবেন না। এর ফলে হাজার হাজার কর্মী অবৈতনিক বেতনে ছুটিতে যেতে বাধ্য হবেন। ‘শাটডাউন’ শেষ হলে আবার তাদের বেতন দেওয়া হবে।

এ ছাড়া শাটডাউনের প্রভাব পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য দপ্তরে। জরুরি পরিষেবা চালু থাকলেও অনেক কাজই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কোনো কোনো কাজ পিছিয়ে যেতে পারে বা সাময়িকভাবে বন্ধও হতে পারে। মার্কিন শিক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, অধিকাংশ কর্মীকেই আপাতত বসিয়ে রাখা হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দপ্তর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি চালু থাকবে। এই দপ্তরের কর্মীদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে। শুল্ক এবং সীমান্তরক্ষা দপ্তরের কর্মীদেরও কাজ করতে হবে। এ ছাড়া শাটডাউনের মধ্যেও অভিবাসন, পরিবহন নিরাপত্তা, সিক্রেট সার্ভিস, নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার কাজ চালু থাকবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরে বাছাই করা কিছু অংশ খোলা রাখা হবে। তার মধ্যে দক্ষিণ সীমান্ত, পশ্চিম এশিয়া এবং গোল্ডেন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অগ্রাধিকার পাবে বলে দপ্তর থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বয়স্ক নাগরিক, প্রতিবন্ধী এবং অন্যদের মার্কিন সরকারের তরফ থেকে যে সামাজিক সুরক্ষা ভাতা দেওয়া হয়, তা বন্ধ হচ্ছে না। মার্কিন শ্রম বিভাগ জানিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত প্রক্রিয়াকরণের জন্য তহবিল রয়েছে, ততক্ষণ মার্কিন বেকারদের সুযোগ-সুবিধাগুলো বন্ধ হবে না। তবে বিনা বেতনে কাজ করতে হবে এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণকারীদের।

অবশ্য ঠিক কতদিন এই শাটডাউন চলতে পারে, তা স্পষ্ট নয়। ২০১৮ সালে ট্রাম্পের প্রথম দফায় মার্কিন প্রশাসন ৩৫ দিনের জন্য অচল হয়ে পড়েছিল। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সেটাই সবচেয়ে বড় শাটডাউন।

যদিও তহবিল সংক্রান্ত আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় ডেমোক্র্যাটদেরই দোষারোপ করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি এরই মধ্যে গণছাঁটাইয়ের হুমকি দিয়ে রেখেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ‘শাটডাউনের অনেক ভালো দিকও রয়েছে। আমরা যেগুলো চাই না, তেমন অনেক জিনিস ফেলে দিতে পারি। অনেককে ছাঁটাই করা হবে। তারা প্রত্যেকেই হবেন ডেমোক্র্যাট।’

ট্রাম্পের দ্বৈত অবস্থান: মার্কিন প্রেসিডেন্ট শাটডাউন প্রসঙ্গে দুই ধরনের কথাই বলেছেন। একদিকে তিনি বলেন, আমরা মোটেও শাটডাউন চাই না। আবার তিনিই মন্তব্য করেন, শাটডাউনের মাধ্যমে আমরা অনেক অপ্রয়োজনীয় ব্যয় থেকে মুক্তি পেতে পারি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে শাটডাউনকে ব্যবহার করছেন ট্রাম্প। শাটডাউন দীর্ঘস্থায়ী হলে বাজার ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

জনমতই হবে নির্ধারক: বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতি নির্ভর করবে জনগণ কাকে দায়ী করে তার ওপর। ইতিহাসে দেখা গেছে, অনমনীয় ও আপসহীন পক্ষই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার যেহেতু সব কিছুর ওপর রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, তাই তাদের জন্য দায় এড়ানো কঠিন হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৩০০ জনকে চাকরি দেবে আবুল খায়ের গ্রুপ, অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদন

নিয়োগ দিচ্ছে এসিআই কোম্পানি, অনলাইনে আবেদন শুরু

রেড ক্রিসেন্টে চাকরির সুযোগ, আবেদন করতে পারবেন যারা

এসএসসি পাসেই চাকরির সুযোগ, বেতন ছাড়াও থাকছে বিভিন্ন সুবিধা

দাওয়াত খেয়ে ফেরার পথে আ.লীগ নেতাকে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ

আজকের নামাজের সময়সূচি

গভীর রাতে হঠাৎ ক্ষুধা লাগলে কী খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন?

ডিজিটাল গণমাধ্যম অগ্রদূতের আত্মপ্রকাশ

মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদল নেতাদের ওপর ‘আ.লীগের’ হামলা, আহত ১৮

রাজনীতিতেই থাকতে চাই, চাকরি নয় : ছাত্রদল নেতার আবেগঘন স্ট্যাটাস

১০

কালবেলায় সংবাদ প্রকাশ / জিম্মায় নেওয়া চুরির মালামাল থানায় ফেরত দিলেন কর্মকর্তা

১১

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের সভা অনুষ্ঠিত

১২

সকাল ৯টার মধ্যে ১৮ জেলায় ঝড়ের আভাস

১৩

পদ্মায় ডুবে যাওয়া সেই বাসের চালকসহ গ্রেপ্তার ৩ জনের জামিন

১৪

৩৫.৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড / সিলেটে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন

১৫

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে নাহিদ ইসলামের বৈঠক

১৬

মধ্যরাতে দেশে পৌঁছাবে লেবাননে নিহত ২ বাংলাদেশির মরদেহ

১৭

শেষ মুহূর্তে বড় ধাক্কা, আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারের বিশ্বকাপ শেষ

১৮

বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল ৩ অটোরিকশা যাত্রীর

১৯

রোগীকে আটকে ইনজেকশন পুশের টাকা দাবি, নার্সকে শোকজ  

২০
X