

দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ রাষ্ট্রের অন্যান্য কমিশনের মতো স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন করে অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। গত মঙ্গলবার রাতে এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এর আগে গত ৫ ডিসেম্বর এই অধ্যাদেশ উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদন দেওয়া হয়।
অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, পুলিশের সততা, পেশাদারিত্ব, দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, মানবাধিকার সুরক্ষা করে ও প্রভাবমুক্ত রেখে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন এবং জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গঠন, পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে নাগরিক অভিযোগের তদন্ত ও নিষ্পত্তি এবং পেশাগত বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের সংক্ষোভ নিরসন ও ন্যায্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি নিরপেক্ষ ও কার্যকর কর্তৃপক্ষ হিসেবে এই কমিশন গঠন করা হয়েছে। তবে এ কমিশনের কার্যক্রমকে সীমিত ও শুধু সুপারিশকেন্দ্রিক করায় সমালোচনা হচ্ছে। কিছু নামমাত্র ক্ষমতা দিয়ে অনেকটা ‘নখদন্তহীন’ কমিশন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুধু সুপারিশ সংবলিত কমিশন হলে তাতে লাভ কী—এমন প্রশ্ন রেখে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ নুরুল হুদা গতকাল সন্ধ্যায় কালবেলাকে বলেন, ‘কোনো অধ্যাদেশ শুধু সুপারিশ সংবলিত বিধান দিয়ে কখনো হতে দেখিনি। সুপারিশ করার জন্য সরকারের আরও বডি রয়েছে। সাধারণত, সুপারিশের ভিত্তিতে কোনো আইন বা অধ্যাদেশ হয়। কিন্তু পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ শুধু সুপারিশ সংবলিত হলে লাভ কী? কমিশন বলবে, কী করতে হবে। এটা সুনির্দিষ্ট করে কমিশনকে বলতে হবে। তা না, শুধু সুপারিশ করে লাভ হবে না।’
তবে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল এ বিষয়ে একটি গণমাধ্যমকে বলেছেন, পুলিশ কমিশন নিয়ে প্রত্যাশার অনেক কিছুই পূরণ হয়েছে। প্রায় সবকিছু রাখা গেছে। এটি বাস্তবায়িত হলে নাগরিক ভোগান্তি কমবে, পুলিশের জবাবদিহি অনেকখানি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং পুলিশের ওপর রাজনৈতিক খবরদারি হ্রাস পাবে।
‘কমিশন গঠন’: পাঁচ সদস্যের কমিশনে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বা হাইকোর্ট বিভাগের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক পুলিশ কমিশনের চেয়ারপারসন হবেন। এ ছাড়া সরকারের জাতীয় বেতন স্কেলের (গ্রেড-১) পদমর্যাদার (জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন) নিচে নয়, এমন একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা; সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক; মানবাধিকার উন্নয়ন বা বাস্তবায়নে কিংবা সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে অন্যূন ১৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন মানবাধিকার কর্মী; অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (গ্রেড-১)-এর নিচে নয়—এমন একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা, যিনি কমিশনের সদস্য সচিব হবেন। কমিশনের সদস্যগণের মধ্যে কমপক্ষে দুজন নারী থাকতে হবে। কমিশনের মেয়াদ হবে চার বছর।
এই কমিশন গঠনের জন্য সরকার একটি বাছাই কমিটি গঠন করবে। প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি; জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন; মন্ত্রিপরিষদ সচিব; জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি কর্তৃক মনোনীত একজন সরকার দলীয় এবং একজন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব; বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান এই বাছাই কমিটির সদস্য হবেন। বাছাই কমিটি শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগযোগ্য ব্যক্তিগণের নামের তালিকা প্রণয়ন করে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ প্রদান করবে।
‘আইজিপি নিয়োগের সুপারিশ’মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) নিয়োগে সততা, মেধা, দক্ষতা, জ্যেষ্ঠতা ও সন্তোষজনক দায়িত্ব পালনের ভিত্তিতে পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শকের নিম্নপদস্থ নয়—এমন তিনজন কর্মকর্তার নাম অন্তর্ভুক্ত করে একটি প্যানেল সরকারের কাছে সুপারিশ আকারে প্রেরণ করবে।
‘কমিশনের কার্যাবলি’কমিশনের কার্যাবলি সম্পর্কে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, পুলিশি কার্যক্রমে দক্ষতা ও উৎকর্ষ আনয়ন, শৃঙ্খলা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান: নিয়মিত পরিবীক্ষণের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের সততা, শৃঙ্খলা, দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান; নাগরিকদের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার এবং মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যবোধ সুরক্ষায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসারে পুলিশি কার্যক্রম পরিবীক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান; সমাজে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় অপরাধ তদন্ত ও প্রসিকিউশন কার্যক্রমে বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও উত্তরণে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান; আটক, জিজ্ঞাসাবাদ ও বলপ্রয়োগ সংক্রান্ত কাজে মানবাধিকার রক্ষায় প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির ব্যবহারে দিকনির্দেশনা প্রদান ও এতদ-সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশি কার্যক্রমের নিয়মিত তদারকি ও পরিবীক্ষণ পরিচালনা এবং আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও পরামর্শ প্রদান; পুলিশের আইনানুগ কার্যক্রমে কোনো ব্যক্তি বা সত্তা বিধিবহির্ভূত বা অযাচিত প্রভাব বিস্তার করলে তদন্তপূর্বক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সুপারিশ প্রদান; পুলিশ বাহিনীর দুর্নীতি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ প্রদান এবং অবৈধ সম্পত্তির তথ্য উদ্ঘাটিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ প্রদান; জনগণ ও পুলিশের পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির জন্য গণশুনানি, পরামর্শ সভা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আয়োজন; এবং কমিশনের কার্যক্রম ও গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রণয়ন ও প্রকাশ।
‘নাগরিকের অভিযোগ অনুসন্ধান’কমিশনের কার্যাবলির মধ্যে আরও রয়েছে, নাগরিক কর্তৃক পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগের অনুসন্ধান, দায় নির্ধারণ, নিষ্পত্তি ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জবাবদিহি-সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা; অভিযোগের প্রকৃতি ও গুরুত্ব বিবেচনায় শাস্তি প্রদানের যৌক্তিকতা নিরূপণ এবং তাহা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ প্রদান; নাগরিকের অভিযোগ অনুসন্ধান কার্যক্রম ন্যায়সংগত ও সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি বিভাগে শাখা বা কার্যালয় স্থাপন ও পরিচালনা; অভিযোগকারীর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষা নিশ্চিতকরণ—পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পর্যালোচনা করিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ প্রদান ও এ বিষয়ে প্রতিবেদন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রকাশ; এবং নাগরিকের অধিকার লঙ্ঘনে পুলিশকে অপব্যবহারের কোনো ঘটনা বা উদ্যোগ পরিলক্ষিত হলে, তা প্রতিরোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান।
‘পুলিশ সদস্যদের সংক্ষোভ নিরসন’কমিশনের কার্যাবলি সম্পর্কে অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, পুলিশ সদস্যদের সংক্ষোভ নিরসনে প্রয়োজনীয় পদ্ধতি নির্ধারণ ও সংক্ষোভ নিরসনের কার্যক্রম পরিচালনা; বিধিবহির্ভূত প্রভাব, বৈষম্য ও অনিয়ম, অবৈধ নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাধ্যকরণ, হয়রানি, বঞ্চনা বা অন্যায্য আচরণ ইত্যাদি-সংক্রান্ত সংক্ষোভ নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ প্রদান; পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সুপারিশ প্রদান; এবং সংক্ষোভ নিরসন-সংক্রান্ত বিষয়াবলি ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ প্রদান এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রকাশ।
এ ছাড়া কমিশনের কার্যাবলির মধ্যে রয়েছে, আধুনিক, দক্ষ, সুশৃঙ্খল ও সেবামুখী পুলিশ গঠনের লক্ষ্যে পুলিশ বাহিনীর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার প্রশিক্ষণ, নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ, আবাসন, লজিস্টিকস, পুরস্কার ও কল্যাণমূলক ব্যবস্থা ইত্যাদি-সংক্রান্ত বিষয়ে কৌশলগত পরিকল্পনা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে পরামর্শ বা সুপারিশ প্রদান; আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি, মেধাবী ও দক্ষ প্রশিক্ষক পুল গঠন ইত্যাদি বিষয়ে সুপারিশ প্রদান; প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক উপায়ে পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনা, পুলিশি প্রশিক্ষণ কারিকুলাম সদস্যদের নৈতিক মূল্য প্রণয়নে সুপারিশ প্রদান; পুলিশ সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নয়ন, দক্ষ চিকিৎসক ও মনোবিদ সমন্বয়ে চিকিৎসক পুল গঠন-সংক্রান্ত সুপারিশ প্রদান; এবং মানবাধিকার বা সুশাসনবিষয়ক সংগঠনসহ নাগরিক সমাজ, বিশেষজ্ঞ, যুবসমাজ, গণমাধ্যম ও অন্যান্য অংশীজনের সম্পৃক্ত করে জননিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সেমিনার, কর্মশালা ও সিম্পোজিয়াম আয়োজন করা। আইন, বিধি ও নীতি প্রণয়নে এবং গবেষণা পরিচালনায় পরামর্শ বা সুপারিশ প্রদান: ফৌজদারি অপরাধ সংশ্লিষ্ট আইনসমূহ, পুলিশ আইন, পুলিশ রেগুলেশনস, পুলিশের দায়িত্ব পালনে আইনি সুরক্ষাসহ পুলিশ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আইন, বিধি ও প্রবিধান ইত্যাদি প্রণয়ন, সংশোধন বা পরিমার্জনের প্রয়োজন দেখা দিলে, তাহা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের নিকট সুপারিশ প্রদান; এ লক্ষ্যে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে কমিশন গঠনের পর পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করিবার মাধ্যমে একটি যুগোপযোগী পুলিশ আইনের খসড়া প্রস্তুতপূর্বক তাহা প্রণয়নের জন্য সরকারের নিকট প্রস্তাব করা; পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ, পেশাগত উন্নয়ন ও পুরস্কার, নৈতিক মূল্যবোধ ও জনসংযোগ দক্ষতা বৃদ্ধির মানদণ্ড নির্ধারণে সুপারিশ প্রদান; জননিরাপত্তা ও মানবাধিকারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় নীতিমালা প্রণয়নে সুপারিশ প্রদান; জাতীয় নিরাপত্তা নীতির আলোকে জননিরাপত্তা নীতি প্রণয়নে সরকারকে সুপারিশ ও সহায়তা প্রদান; আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানের সহিত সমন্বয় সাধনপূর্বক আধুনিক পুলিশিং এবং আইন প্রয়োগবিষয়ক গবেষণা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়; এবং পুলিশি কার্যক্রম-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় জরিপ, জনমত, কেস স্টাডি ও গবেষণা পরিচালনা।
‘পুলিশের নিজস্ব অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা’নাগরিক অভিযোগ ও পুলিশের অভ্যন্তরীণ সংক্ষোভ নিষ্পত্তির জন্য পুলিশের একটি নিজস্ব ব্যবস্থা থাকবে, যা এ অধ্যাদেশের ভিত্তিতে প্রথম কমিশন গঠন হওয়ার তিন মাসের মধ্যে কমিশনের সুপারিশের আলোকে পুলিশ কর্তৃপক্ষ কার্যকর করবে; উক্ত ব্যবস্থার আওতায় অভিযোগ ও সংক্ষোভ নিরসনের পর্যায়সমূহের জন্য এমনভাবে সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করতে হবে, যেন প্রাথমিক পর্যায় থেকে চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত যে কোনো ধরনের অভিযোগ বা সংক্ষোভ অনধিক ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করা যায়। এর বাইরে পুলিশের নিজস্ব অভিযোগ নিষ্পত্তিতে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে, তা নিরসনের জন্য তিন সদস্যের নাগরিক অভিযোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং পুলিশ সংক্ষোভ নিরসন কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে অধ্যাদেশে।
সূত্র জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশ বাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের জোর দাবি ওঠে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আইন উপদেষ্টার নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি পুলিশ কমিশনের খসড়া তৈরি করে। সে খসড়ায় পুলিশ কমিশনকে খুবই সামান্য ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়। এরপরও সেখানে যা ছিল, সেগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গেলে পাল্টে যায়। গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ বাদ দেওয়া হয়। এ কারণে পুলিশ কমিশনের খসড়া নিয়েই শুরু থেকে আপত্তি করে আসছিল পুলিশসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন। এ খসড়া অনুমোদন হলে পুলিশের ওপর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের পুরোনো ধারা থেকে যাবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। পুলিশকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার বন্ধে নীতিমালা করে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি কমিশনের অধীনে নিয়ে আসার দাবি ছিল তাদের। পুলিশের পক্ষ থেকে বাহিনী পরিচালনায় কার্যগত স্বায়ত্তশাসন চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু জারি করা অধ্যাদেশে সেই চাওয়া পূরণ হবে না বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।