

মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস তার কর্মীদের কাছে স্বীকার করেছেন, সাবেক স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক থাকা অবস্থায় তিনি দুই রুশ নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। তিনি আরও জানান, বিতর্কিত অর্থনৈতিক
ব্যক্তিত্ব ও যৌন কেলেঙ্কারিতে দণ্ডিত জেফ্রি এপস্টাইন এই সম্পর্কগুলোর কথা জানতেন। তবে এপস্টাইনের কথিত যৌন নির্যাতনের ঘটনায় নিজের কোনো সম্পৃক্ততার কথা গেটস স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছেন।
মঙ্গলবার গেটস ফাউন্ডেশনের কর্মীদের নিয়ে আয়োজিত এক টাউন হলে তিনি এ বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন। পরে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সেই আলোচনা পর্যালোচনা করে। সেখানে গেটস স্বীকার করেন, তার সম্পর্ক ছিল এক রুশ ব্রিজ খেলোয়াড়ের সঙ্গে এবং আরেকটি এক রুশ পারমাণবিক পদার্থবিদের সঙ্গে। তিনি বলেন, পরে এপস্টাইন বিষয়টি জানতে পারেন। ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে এ তথ্য ব্যবহার করে এপস্টাইন তাকে চাপ দিয়েছিলেন—এমন প্রতিবেদন আগেও প্রকাশিত হয়েছিল।
গেটস বলেন, তিনি কয়েকবার এপস্টাইনের সঙ্গে দেখা করেছেন। তবে তিনি কখনো তার ব্যক্তিগত দ্বীপে যাননি, কখনো রাত কাটাননি এবং কোনো ‘অবৈধ’ কিছু করেননি বা দেখেননি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এপস্টাইনের যৌন পাচারের অভিযোগে থাকা কোনো ভুক্তভোগীর সঙ্গে তিনি কখনো সময় কাটাননি।
গেটস জানান, তার ও এপস্টাইনের যোগাযোগ শুরু হয় ২০১১ সালে, যা ছিল এপস্টাইনের অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের দায়ে দণ্ডিত হওয়ার কয়েক বছর পর। এ সম্পর্ক ছিল ২০১৪ সাল পর্যন্ত। এরপর এপস্টাইন তাকে ইমেইল করলেও তিনি আর সাড়া দেননি।
গেটস বলেন, মেলিন্ডা ‘এপস্টাইন বিষয়টি নিয়ে সব সময়ই কিছুটা সন্দিহান ছিলেন।’ মেলিন্ডা আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এপস্টাইনের সঙ্গে গেটসের সম্পর্ক তাদের বিবাহবিচ্ছেদের একটি কারণ ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত এপস্টাইন-সংক্রান্ত নথিতেও গেটসের নাম এসেছে। সেখানে এপস্টাইন গেটস সম্পর্কে কিছু গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তবে গেটস ফাউন্ডেশন সেগুলোকে ‘সম্পূর্ণ হাস্যকর ও ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। গেটসও সম্প্রতি বলেন, ‘আমি কখনো দ্বীপে যাইনি। কোনো নারীর সঙ্গে দেখা করিনি। সময়টা ভুল ছিল; কিন্তু ওই ধরনের আচরণের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।’
নথিতে এমন কোনো প্রমাণ নেই যে, গেটস এপস্টাইনের যৌন পাচার সম্পর্কে জানতেন বা তাতে জড়িত ছিলেন। গেটস বারবার বলেছেন, তাদের সম্পর্ক ছিল কেবল ব্যবসা ও দাতব্য কাজকেন্দ্রিক। তিনি কর্মীদের জানান, এপস্টাইন তাকে বলেছিলেন যে তিনি অনেক ধনী ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ, বিশেষ করে ওয়াল স্ট্রিটের বিলিয়নিয়ারদের সঙ্গে, এবং গেটসের দাতব্য উদ্যোগে অর্থ সংগ্রহে সাহায্য করতে পারেন।
২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। একটি ইমেইলে গেটস লিখেছিলেন, এপস্টাইনের জীবনধারা ‘ভিন্নধর্মী ও কিছুটা আকর্ষণীয়, যদিও তা আমার জন্য উপযোগী নয়।’ শেষ পর্যন্ত যৌথ দাতব্য তহবিল গঠনের পরিকল্পনা এগোয়নি।
ফোর্বসের হিসাবে, বুধবার পর্যন্ত বিল গেটস বিশ্বের ১৮তম ধনী ব্যক্তি। তার সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ১০৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। গেটস ও মেলিন্ডা একসঙ্গে এখন পর্যন্ত ৪৭ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার দান করেছেন। তাদের দানের মূল লক্ষ্য বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ও দারিদ্র্য বিমোচন।