

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার আলোচিত জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। ঢাকার পর এবার চট্টগ্রামের জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) দায়িত্ব নিয়েই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোরভাবে কাজ করতে মাঠে নেমে পড়েছেন মাসুদ আলম।
শুক্রবার কালবেলার সঙ্গে এক আলাপচারিতায় জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে পুলিশের পরিকল্পনার কথা জানান মাসুদ আলম। তিনি বলেন, জনগণর নিরাপত্তা আগে। জঙ্গল সলিমপুরে এখন থেকে আর কোনো সন্ত্রাসের স্থান হবে না।
পুলিশ সুপার জানান, জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা সন্দেহজনক বিষয়ে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
মাসুদ আলম বলেন, সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নেও পুলিশ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। জঙ্গল সলিমপুরকে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ এবং অপরাধমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। জনগণের সহযোগিতা থাকলে কোনো অপরাধী বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পক্ষে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করা সম্ভব হবে না।
তিনি আরও বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন চলবে। পুলিশ জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
এক সময় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি এবং নানা অপরাধের কারণে আলোচিত ছিল জঙ্গল সলিমপুর। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করলেও পরিস্থিতি পরিবর্তনে কাজ করছে জেলা পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যার কথা শোনা, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ দূর করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং স্থাপিত অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি কার্যক্রম আরও জোরদারের আশ্বাস দেন। ঈদের সময়ও তিনি এলাকাবাসীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় চট্টগ্রাম র্যাবের উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। এরপর ৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধীদের আস্তানা নির্মূল এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান চালায়। এতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনের প্রায় চার হাজার সদস্য অংশ নেন। এরপর ওই এলাকায় যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।
গত ২৪ মে রাতে হঠাৎ জঙ্গল সলিমপুরে স্থাপিত একটি যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে সশস্ত্র আক্রমণ করে সন্ত্রাসী দল। জবাবে পুলিশ ও র্যাব পাল্টা গুলি ছুড়লে সন্ত্রাসীরা পিছু হটে। তবে তার আগে সন্ত্রাসীরা ওই এলাকায় নির্মাণাধীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়। এ সময় পুলিশের পাল্টা আক্রমণ ঠেকাতে সন্ত্রাসীরা ওই এলাকার একটি রাস্তা কেটে দেয়। এরপর ৩১ মে জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির।