

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত এবং তার পরিণতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন। এরপরই প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে টানা রাতের বিমান হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে হামলা স্থগিত করেছে। এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
রোববার (২৬ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইরান যুদ্ধ আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে জেনারেল কেইন সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের পাশাপাশি মার্কিন অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার ঝুঁকি এবং যুদ্ধ বিস্তারের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেন।
একটি মার্কিন প্রতিরক্ষা সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, শুক্রবার রাত থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে এই বিরতি কতদিন থাকবে বা আবার হামলা শুরু হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিয়াং এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবসময় কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালি বা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে প্রয়োজনীয় সব বিকল্প তার হাতে রয়েছে।
চিয়াং আরও বলেন, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং টানা ১৩ দিনের সামরিক হামলার মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। এখন তেহরানের জন্য আলোচনার পথে এগোনোই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ, অন্যথায় তারা পরিণতি সম্পর্কে অবগত।
এদিকে শুক্রবার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রয়োজনে সামরিক অভিযান আবার শুরু হতে পারে, এমনকি হামলার মাত্রাও আরও বাড়ানো হতে পারে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগেই জেনারেল কেইনসহ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন যে দীর্ঘমেয়াদি অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
তবে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল বলেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সব সক্ষমতা রয়েছে এবং প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী যেকোনো সময় ও স্থানে অভিযান পরিচালনায় তারা প্রস্তুত।