শফিকুল ইসলাম
প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:২৮ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

কাঁটা বিছানো পথে আপসহীন পথচলা

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে খালেদা জিয়া একটি অবিস্মরণীয় নাম। সাধারণ এক গৃহবধূ থেকে রাজনীতির কণ্টকাকীর্ণ পথে পা বাড়িয়ে তিনি হয়ে ওঠেন কোটি মানুষের আস্থার প্রতীক, ‘দেশনেত্রী’ এবং ‘আপসহীন নেত্রী’। কাজের মধ্য দিয়ে জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নেন। জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন আর তিনবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশ গঠনে যে অবদান রেখেছেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও সুসংহত করার আন্দোলনে এক অবিসংবাদিত এবং অপরিহার্য নেতৃত্ব খালেদা জিয়া।

দীর্ঘ ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়া যেমন বহু ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়েছেন, তেমনই বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে তার গ্রহণযোগ্যতা ও সুনাম আজও অম্লান। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের আমলে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে কারারুদ্ধ করা হয়। বহুবার তাকে রাজনীতি থেকে বিদায়ের চেষ্টা করা হয়। দৃঢ়চেতা খালেদা জিয়াকে কোনো প্রলোভন-ষড়যন্ত্রই দমাতে পারেনি। আন্দোলন সংগ্রামে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কানাডাভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন খালেদা জিয়াকে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ উপাধিতে ভূষিত করে।

রাজনীতিতে আকস্মিক ও দৃঢ় পদার্পণ: খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক যাত্রা ছিল পরিস্থিতির প্রয়োজনে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী হিসেবে তিনি অন্তরালে থেকেই জীবন অতিবাহিত করছিলেন। কিন্তু ১৯৮১ সালের ৩০ মে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান শাহাদাতবরণের পর বিএনপি চরম সংকটের মুখে পড়ে। দলের ঐক্য ধরে রাখতে এবং জিয়াউর রহমানের আদর্শকে এগিয়ে নিতে ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি খালেদা জিয়া বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেন। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এরশাদ বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। খালেদা জিয়া এর বিরোধিতা করেন। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় তিনি প্রথম বক্তৃতা করেন। দলের মধ্যে একটি অংশের বাধার মধ্যেও বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে খালেদা জিয়া দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে বিএনপি চেয়ারপারসন নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বেই মূলত বিএনপির পূর্ণ বিকাশ লাভ ঘটে।

স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলন ও আপসহীন খেতাব: নব্বইয়ের দশকে সামরিক স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে খালেদা জিয়া যে অকুতোভয় ভূমিকা পালন করেছিলেন, তা তাকে জনমানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে দেয়। সে সময় অনেক রাজনৈতিক দল আপস করলেও খালেদা জিয়া নীতিতে ছিলেন অটল। বারবার কারাবরণ ও গৃহবন্দি থাকার পরও তিনি রাজপথ ছাড়েননি। তার এই আপসহীন দৃঢ়তাই এরশাদ সরকারের পতন ত্বরান্বিত করে এবং তাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব এনে দেয়।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ পুনর্গঠন ও উন্নয়ন: খালেদা জিয়া দলীয় নেতৃত্ব ও সরকার পরিচালনায় শুধু গণতন্ত্র সুরক্ষার জন্যই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন না, বরং ব্যাপক ঝুঁকির মধ্যেও সোচ্চার ছিলেন আধিপত্যবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে, যারা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদাকে হুমকির মুখে ফেলেছিল। এজন্য ‘খালেদা জিয়া ও ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’ পারস্পরিকভাবে সমার্থক হয়ে ওঠে। বিএনপির সাংগঠনিক বিপর্যয়কর অবস্থার মধ্যেই দলের হাল ধরে ১৯৮৩ সালে তিনি সাত দলীয় ঐক্যজোট গঠন করেন। এরপর শুরু করেন এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন। মূলত ১৯৮৩ সালের সেপ্টেম্বরে সাত দলীয় ঐক্যজোটের মাধ্যমে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটান খালেদা জিয়া। ওই সময় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৫ দলের সঙ্গে যৌথভাবে আন্দোলনের কর্মসূচি শুরু করেন। ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত পাঁচ দফা আন্দোলন চলতে থাকে। কিন্তু ১৯৮৬ সালের ২১ মার্চ রাতে আওয়ামী লীগ হঠাৎ করে এরশাদের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে ভাটা পড়ে। নির্বাচন প্রশ্নের বিরোধে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৫ দল ভেঙে আট দল ও পাঁচ দলে ভাগ হয়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আট দল এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১৯৮৬ সালে প্রেসিডেন্ট এরশাদের সাজানো নির্বাচনে অংশ নেয়। অন্যদিকে, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সাত দল, বাম দলগুলোর পাঁচ দলীয় ঐক্যজোট থাকে রাজপথে। ১৯৮৭ সাল থেকে খালেদা জিয়া ‘এরশাদ হটাও’ একদফার আন্দোলন শুরু করেন। সংসদ ভেঙে দিতে বাধ্য হন এরশাদ। আওয়ামী লীগ সংসদ থেকে বের হলে ফের শুরু হয় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। রাজপথে দীর্ঘ ৮ বছর একটানা আপসহীন সংগ্রামে ১৯৯০ সালে ৬ ডিসেম্বর এরশাদ ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসে দেশবাসীর কাছে পেয়ে যান ‘আপসহীন নেত্রী’র খেতাব।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও খালেদা জিয়ার অর্জন ছিল ঈর্ষণীয়। ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিশেষ করে নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে তার প্রগতিশীল ভূমিকা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ (ফেব্রুয়ারি) এবং ২০০১ সালে দুই মেয়াদে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তার শাসনকাল ছিল প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের যুগ। তার উল্লেখযোগ্য কিছু সাফল্য হলো—শিক্ষা ও নারী উন্নয়ন। খালেদা জিয়া প্রথম দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করেন এবং নারী শিক্ষার প্রসারে উপবৃত্তি প্রথা চালু করেন। ফলে বাংলাদেশে নারী শিক্ষার হার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়। ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আসার পর তিনি রাষ্ট্রপতির শাসন ব্যবস্থা থেকে সরে এসে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করেন, যা ছিল দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক। যমুনা বহুমুখী সেতু নির্মাণের সিংহভাগ কাজ তার সময়েই সম্পন্ন হয়। এ ছাড়া কৃষি উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে তিনি সার ও সেচ ব্যবস্থায় ব্যাপক ভর্তুকি প্রদান করেন। সামাজিক নিরাপত্তা তথা বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং দুস্থ নারীদের জন্য বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি তার আমলেই জোরালোভাবে শুরু হয়।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিরল সম্মান: খালেদা জিয়া শুধু দেশের অভ্যন্তরেই নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন। ২০০৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ ও বাণিজ্যবিষয়ক ফোর্বস ম্যাগাজিনের তালিকায় বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ নারীর মধ্যে খালেদা জিয়া ৩৩তম স্থান অধিকার করেন। ২০১১ সালের ২৪ মে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি স্টেট সিনেটে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘ফাইটার ফর ডেমোক্রেসি’ পদক প্রদান করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট সিনেট কর্তৃক কোনো বিদেশিকে এ ধরনের সম্মান প্রদানের ঘটনা এটাই ছিল প্রথম। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই তাকে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ সম্মাননা দেয় কানাডিয়ান হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (সিএইচআরআইও) নামে একটি সংগঠন। ২০২২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য জানান। এ সময় কানাডার ওই প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া ক্রেস্ট ও সনদপত্র সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করেন তিনি। তা ছাড়া খালেদা জিয়ার সুযোগ্য নেতৃত্বে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) শক্তিশালী ভিত্তি পায়। বিশেষ করে পরিবেশ রক্ষা এবং নারী শিক্ষা প্রসারে তার উদ্যোগগুলো বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছে।

বিশ্বনেতাদের সঙ্গে খালেদা জিয়া: প্রধানমন্ত্রী হয়ে ক্ষমতায় থাকাকালে বিশ্বের অনেক দেশ সফরে গিয়ে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন খালেদা জিয়া। ২০০৬ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর সেই সুযোগ স্বাভাবিকভাবেই সীমিত হলেও ২০১২ সালে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফর করেন। ওই বছরের আগস্টে তিনি রাজ পরিবারের আমন্ত্রণে সৌদি আরবে যান এবং পবিত্র ওমরাহ পালন করেন। সে সময় তিনি সৌদি রাজপুত্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাদের বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সৌদি আরবে বাংলাদেশের শ্রম বাজারের সংকট উত্তরণের বিষয়ে আলোচনা হয়। খালেদা জিয়া অক্টোবরে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন সফর করেন। সফরকালে তিনি চীনের রাষ্ট্রীয় ও দলীয় ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে দেখা করেন। চীনের উপরাষ্ট্রপতি ও ভবিষ্যৎ একচ্ছত্র নেতা শি জিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও পদ্মা সেতু নির্মাণে বিনিয়োগের ব্যাপারে আলোচনা করেন। বৃহত্তর অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক বিষয়াবলিও তাদের আলোচনায় উঠে আসে। শি জিন পিং ছাড়াও খালেদা জিয়া কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

একই মাসে খালেদা জিয়া ভারত সরকারের আমন্ত্রণে ভারত সফরে যান। সফরের শুরুতে তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় বিরোধীদলীয় প্রধান ও বিজেপি নেত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠক করেন। সফরকালে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিব শংকর মেনন ও পররাষ্ট্র সচিব রঞ্জন মাথাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। খালেদা জিয়ার ভারত সফরের আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে ছিল দ্বি-দেশীয় সম্পর্ক, সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা, তিস্তা পানি চুক্তি এবং বৃহত্তর অঞ্চলের ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তা।

ষড়যন্ত্র ও কারাজীবন: সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। ২০০৭ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে অসংখ্য মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এক-এগারোর সময় তিনি বিদেশে যেতে রাজি না হয়ে বলেছিলেন, ‘বিদেশে আমার কোনো বাড়ি নেই, দেশই আমার সব’। এ দেশপ্রেম তাকে জনগণের কাছে আরও সম্মানিত করে তোলে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও তিনি নানা শারীরিক অসুস্থতা ও আইনি জটিলতার মধ্যে দিনযাপন করেছেন। তবুও তার রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। দেশপ্রেম আর সততায় অটল থাকার কারণে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করা হয়। মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিলে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকার শর্তসাপেক্ষে তাকে মুক্তি দেয় (কারাগারের সাজা স্থগিত করে বাসায় চিকিৎসার অনুমতি)। তবে আইনি শর্তে তা গৃহবন্দিত্বের মতো অবস্থা ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরদিন মুক্তি পান খালেদা জিয়া।

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক কালবেলাকে বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতির এমন এক ধ্রুবতারা, যাকে উপেক্ষা করা অসম্ভব। এক সাধারণ গৃহবধূ থেকে উঠে এসে তিনি যেভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন এবং শিক্ষা, অর্থনীতি থেকে শুরু করে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন, তা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা। গণতন্ত্র রক্ষা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় খালেদা জিয়ার আপসহীন অবস্থান তাকে ইতিহাসের পাতায় চিরভাস্বর করে রাখবে। দেশ গঠনে এবং মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে তার রাখা ছাপ বাংলাদেশের মানচিত্রে সদাসর্বদা অম্লান থাকবে।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘বিশ্ব এলপিজি দিবস-২০২৬’ উদযাপন করল ফ্রেশ এলপি গ্যাস

আর্জেন্টিনা যেন মিনি হাসপাতাল!

বিশ্বকাপ এলেই রং বদলান নেইমার

রামিসা হত্যাকাণ্ডের রায়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পড়লেন জামায়াত আমির

সাতক্ষীরা পৌর নির্বাচনে নতুন সমীকরণ, আলোচনায় নাসিম ফারুক খান মিঠু

বিশ্বকাপে সেদিন আবির্ভাব হয়েছিল এক ‘ফুটবল দেবতার’, নাম তার ম্যারাডোনা

লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও, এস আই প্রত্যাহার

বাজেট ২০২৬-২৭ / মানবসম্পদ উন্নয়নের রূপরেখা চান বিশেষজ্ঞরা

সেই তিন ভাইয়ের অ্যাকাউন্টে জমা হলো ১২ লাখ টাকা

চমেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা, ইনডোর ও আউটডোর শাটডাউনের হুঁশিয়ারি

১০

এনসিপির ফল উৎসবে হামলা

১১

সাড়ে ৯ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে

১২

মেহেদী অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, কারাগারে দুই যুবক

১৩

বিএমডিসির নিবন্ধনবিহীন চিকিৎসকের পক্ষে মানববন্ধন, মামলা প্রত্যাহারের দাবি

১৪

ফেনী জেলা বিএনপির মিডিয়া সেলের কমিটি অনুমোদন

১৫

কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর সংসদ সচিবালয়ের তদন্ত কমিটি

১৬

সাভার থানা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা, সভাপতি মাশফি-সম্পাদক সামির

১৭

‘বাপের দোয়া’ থেকে ‘ক্রিকেটের দোয়া’ করতে চান তামিম

১৮

‘আমার বউ নিয়ে গেছে, তাই আমি ওর বউ নিয়ে এসেছি’

১৯

জঙ্গল সলিমপুরে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহ দিলেন এসপি মাসুদ আলম

২০
X