

সত্তর ও আশির দশকে প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে অসম্ভব খ্যাতি পেয়েছিলেন প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী আবিদা সুলতানা। রুনা লায়লা ও সাবিনা ইয়াসমিনের গাওয়া জনপ্রিয় সব গানের ভিড়ে তিনিও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মেলোডিয়াস গান গেয়ে শ্রোতাদের হৃদয় জয় করেছিলেন, যা এখনো দর্শক মহলে জনপ্রিয়। নিজের সংগীতজীবন ও বর্তমানে তরুণদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে এই শিল্পীর কথা হয় কালবেলার সঙ্গে। লিখেছেন মহিউদ্দীন মাহি।
আপনার যেভাবে সময় কাটছে এখন...
গান, গল্পে পরিবারের সঙ্গে ভীষণ সুন্দর সময় কাটছে। এ ছাড়া গানসহ বিভিন্ন প্রোগ্রাম থাকে, যেগুলোয় উপস্থিত হলে সবার সঙ্গে আড্ডা হয়, গান হয়। এসব মিলিয়ে সবার দোয়ায় জীবনের দারুণ সময় কেটে যাচ্ছে।
মনের দিক থেকে আপনি এখনো তরুণ। তাই তরুণদের সঙ্গে কাজ করতে কেমন লাগে আপনার?
আমি সবসময়ই তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে কাজ করতে পছন্দ করি। কারণ এরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাই তাদের সঙ্গে কাজ করা আমার যেমন দায়িত্ব, তেমনই নিজের অভিজ্ঞতা থেকে এদের পরামর্শ দেওয়াটাও আমার কর্তব্য। তবে শুধু সংগীতে নয়, তরুণদের যে কোনো ভালো কাজের সঙ্গেই আমি যুক্ত থাকতে পছন্দ করি।
আপনার অনেক কালজয়ী গান আছে, যা বর্তমান সময়ের অনেক শিল্পীই কাভার করছে। এ বিষয়টি নিয়ে আপনার অনুভূতি...
নিঃসন্দেহে এটি চমৎকার অনুভূতি। কারণ তরুণরাই তো আমাদের সংগীত এগিয়ে নিয়ে যাবে। আজকেও দেখলাম আমার দুটি গান কভার করেছে দুজন শিল্পী। তারা দারুণ গেয়েছে। তবে গাওয়ার সময় গানটি কার লেখা, সুর ও গায়ক-গায়িকা কে—এটা বলে দিলে ভালো হয়। এর কারণ, গানগুলো অনেকেই প্রথমবার শুনে। তারা তো আর জানবে না যে এর প্রধান স্রষ্টা কারা। তাই কাভার করার সময় গানের পরিচিতি দিলে ভালো হয়।
একটা সময় পর কালজয়ী গান আর হচ্ছে না। এর কারণ কী বলে আপনার মনে হয়?
এ বিষয়ে আমি জানি না। তবে আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হচ্ছে এ সময়ের কিছু গান ত্রিশ বছর, চল্লিশ বছর পর যে প্রজন্ম আসবে, তারা শুনবে। কারণ, অনেক মেধাবী এখন সংগীত করছে। যাদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে এটি আমি বুঝতে পারছি।
গান নিয়ে আপনার ব্যস্ততা কেমন?
আমি প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গান করছি, যা তরুণ মিউজিশিয়ানদের সঙ্গে বেশি হচ্ছে। তারা আমাকে মাথায় রেখে গান লিখে বা সুর করে। তরুণদের এই দায়িত্ববোধ আমাকে মুগ্ধ করে। আর মিউজিকের প্রতি তাদের যে ভালোবাসা, সেটিও প্রশংসনীয়।
আপনাদের প্রজন্ম এবং বর্তমান প্রজন্মের মিউজিশিয়ানদের মধ্যে যে তফাত খুঁজে পান...
তফাত তো অনেক। কারণ, আমরা যাদের সঙ্গে গান করেছি তারা কারা ছিলেন? তারা ছিলেন দেশের সংগীতের কিংবদন্তি। যেমন, আমরা গান করেছি খন্দকার নুরুল আলম, সুবল দাস, সত্য সাহা, আব্দুল আহাদ সাহেব, আলাউদ্দিন আলী, ইমতিয়াজ বুলবুল ও লাকি আখন্দের মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গে। এই প্রজন্ম তো আর তাদের পায়নি। তাই তফাতটা এই জায়গাতেই। তারপরও নতুনরা ভালো করছে, তাদের জানাশোনা ভালো।
সংগীত নিয়ে তরুণদের জন্য আপনার পরামর্শ...
আমি পরামর্শ দিতে পছন্দ করি না। তবে তাদের একটা কথাই বলব, গান ভালোবেসে করতে হবে। তাহলেই সংগীত তোমাদের গ্রহণ করবে।