রহমান মৃধা
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম
আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

রহমান মৃধার দুটি কবিতা

রহমান মৃধা। ছবি : সংগৃহীত
রহমান মৃধা। ছবি : সংগৃহীত

সুখ

সুখ কোনো ঝলমলে মঞ্চের আলো নয় না কোনো উল্লাসের কোলাহল সুখ হলো ভোরের প্রথম নিঃশ্বাস যখন আকাশ ধীরে ধীরে খুলে দেয় তার নীল দরজা

সুখ মানে অকারণে হেসে ওঠা একটি পরিচিত কণ্ঠের উষ্ণতা বৃষ্টির দিনে জানালায় টুপটাপ শব্দ আর মনের ভেতর অদৃশ্য এক আশ্বাস

সুখ থাকে খুব সাধারণ জায়গায় মায়ের ডাকে প্রিয় মানুষের চোখে অথবা এক কাপ চায়ের ধোঁয়ায় ভেসে থাকা বিকেলে

সুখ কোনো সম্পদের মাপজোক জানে না সে হিসেব বোঝে না সে আসে চুপচাপ বসে থাকে হৃদয়ের পাশে

কখনো সে শিশুর মতো দৌড়ে যায় কখনো নীরব বৃদ্ধের মতো বসে থাকে স্মৃতির আঙিনায় তবু তাকে ধরতে গেলে সে মুঠো ফসকে আলো হয়ে ছড়িয়ে পড়ে

তবু সুখ বা ভালো থাকা সবাইকে শান্তি দিতে পারে না একজনের হাসি কখনো অন্যের শূন্যতা ভরাতে পারে না

কিন্তু দুঃখ পারে কষ্ট পারে একটি কান্না ছড়িয়ে যেতে পারে সীমান্ত পেরিয়ে একটি বেদনা কাঁদাতে পারে গোটা বিশ্বকে

কিন্তু যদি আমার একার সুখ কারো অশ্রু মুছতে না পারে তবে সেই সুখের অর্থ কতটুকু

তাই হয়তো আমাদের লক্ষ্য হোক অন্যরকম শুধু নিজের ভেতর আলো জ্বালানো নয় বরং সেই আলো ভাগ করে দেওয়া

যদি পারি

একটি কষ্ট কমাতে একটি মন শান্ত করতে একটি মানুষের ভাঙা স্বপ্ন জোড়া লাগাতে

তাহলেই সত্যিকারের সুখ নিজের সীমানা ছাড়িয়ে মানুষ থেকে মানুষের মাঝে শান্তির মতো ছড়িয়ে পড়বে

সুখ আসলে পাওয়া নয় সুখ এক অনুভব যা ভাগ করলে বাড়ে আর আঁকড়ে ধরলে হারিয়ে যায়

তাই সুখকে খুঁজে বেড়িও না দূরের পথে সে আছে তোমার ভেতরেই একটি শান্ত স্বীকারোক্তির মতো একটি নিঃশব্দ ভালোবাসার মতো

সুখ আসলে পাওয়া নয় সুখ এক দায়িত্বও যা ভাগ করলে বাড়ে আর নিজের মধ্যে আটকে রাখলে ছোট হয়ে যায়

তাই আসো আমার একার সুখ নয় সকলের জন্য ভালো কিছু করার চেষ্টাই হোক আমাদের লক্ষ্য সকলের মুখে শান্তির রেখা আঁকার প্রয়াসেই আমরা খুঁজে নেবো সত্যিকারের সুখ।

হঠাৎ দেখা

আজ শহরের ভিড়ের ভেতর হঠাৎই তার সাথে হয়েছিল দেখা। সে অবাক চোখে বলল, আজকাল কী করি আমি?

কেন আর কোনো খবর দিই না? কত দিন হয়ে গেল আমাদের শেষ দেখা হয়েছিল।

তুমি কি এখনো থাকো সেই ছোট্ট দুই কক্ষের বাসায়? কী কাজ করো এখন? একটার পর একটা প্রশ্ন ঝরছিল তার ঠোঁট থেকে।

আমি উত্তর দিচ্ছিলাম, আর হঠাৎই সে থামাল আমাকে তার সেই মায়াবী হাসিতে।

আমি বলেছিলাম ফোন করব খুব শিগগিরই। সে নিল আমার নম্বর আর নতুন ঠিকানা।

তারপর তাড়াহুড়ো পায়ে চলে গেল সে দূরে।

এতটাই তাড়া ছিল তার যে খেয়ালই করল না আমি বিস্ময়ে ভরা চোখে তার চলে যাওয়া দেখছিলাম।

কত কথা ছিল বলার, কত অজানা অনুভব যা থেকে গেল নীরবতায়। সে শুধু চলে গেল ভিড়ের ভেতর হারিয়ে।

আজও বুঝতে পারি না সেদিন ঠিক কী হয়েছিল। শুধু জানি কোথাও যেন সব ভুল হয়ে গেল।

এখনো দেওয়ার মতো অনেক ভালোবাসা ছিল। আমাদের মাঝখানে নীরবে বেঁচে ছিল এক সম্পর্ক।

তবু কেন সে লড়াই করার বদলে ব্যাগ গুছিয়ে চলে গেল?

আজ হঠাৎ কেন এসব কথা মনে পড়ে বারবার। সাধ জাগে দেখিবারে সময়ের সেই স্মৃতিটারে।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যুক্তরাষ্ট্রের বি-৫২ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৮

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা হলেও ইরানে শান্তি নিয়ে সংশয় কাটেনি

মহাখালী-তেজগাঁও সড়ক অবরোধ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ দলে ফিরলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার

আলুবোখারা চাষে বদলে যাচ্ছে পাহাড়ের কৃষি চিত্র

কাবা শরিফে পরানো হলো স্বর্ণখচিত নতুন গিলাফ 

আজকে স্বর্ণের বাজারদর

পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ / সিলেটে ট্রাফিক সপ্তাহ আসে-যায়, যানজট পরিস্থিতির পরিবর্তন হয় না

বিশ্বকাপ নায়ক থেকে রাতারাতি সোশ্যাল মিডিয়া তারকা কেপ ভার্দে গোলরক্ষক 

সাংবাদিক আবদুল হাই সিদ্দিকের বাবার মৃত্যুবার্ষিকী আজ

১০

সেই ওমরাহযাত্রীর মৃত্যু, মরদেহ পাঠানোর ব্যবস্থা করলেন ধর্মমন্ত্রী

১১

প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ভেষজ উদ্ভিদ সাদা মটমটিয়া

১২

সমতায় শেষ ইরান-নিউজিল্যান্ডের দুর্দান্ত লড়াই

১৩

আজকের নামাজের সময়সূচি

১৪

আমগাছে উঠে অনলাইনে হাজিরা দিলেন প্রধান শিক্ষক

১৫

পারদ গলল ইরান-যুক্তরাষ্টের, হিম হচ্ছেন নেতানিয়াহু?

১৬

এলাকাবাসীর সহযোগিতায় একের পর এক পুশইনচেষ্টা প্রতিহত বিজিবির

১৭

পিরোজপুরে মায়ের হাতে ছেলে খুন

১৮

দক্ষিণ লেবাননে ৩০ সেনা সদস্য হারাল ইসরায়েল

১৯

দুপুরে কাজ নিষিদ্ধ করল সৌদি সরকার

২০
X