চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৬:৩০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

আবদুল্লাহ আল নোমানের জানাজায় গণমানুষের ঢল

আবদুল্লাহ আল নোমানের জানাজায় গণমানুষের উপচেপড়া ভিড়। ছবি : কালবেলা
আবদুল্লাহ আল নোমানের জানাজায় গণমানুষের উপচেপড়া ভিড়। ছবি : কালবেলা

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ আল নোমানের জানাজায় গণমানুষের ঢল নেমেছে। প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো এক নজরে দেখতে চট্টগ্রাম নগর ও বিভিন্ন উপজেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী অনেক জেলা-উপজেলা থেকে আসা নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় নগরের জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের মাঠ।

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জুমার নামাজের পর বীর চট্টলার এই রাজনীতিকের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়াসার মোড়ে মানুষের ভিড়। পাশে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের ভিতরে রাখা হয়েছে দেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ আল নোমানের মরদেহ। বাইরে চলছে জানাজার প্রস্তুতি। কেউ মাঠে, কেউ রাস্তায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পড়েছেন জানাজা পড়তে। কেউ কেউ লাইনের বাইরেও ঘুরছেন। ভিন্ন ধর্মের অনেকে আবার জানাজায় আসা নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করছেন।

জুমার নামাজ শেষ হতে না হতেই মসজিদ প্রাঙ্গণে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে যান বিএনপি, জাতীয় পার্টি, সিপিবি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা। কিছুক্ষণ পর মরহুম আবদুল্লাহ আল নোমানের মরদেহ নামানো হয় অ্যাম্বুল্যান্স থেকে। প্রিয় নেতার মুখ দেখতে শৃঙ্খলা ভেঙে নেতাকর্মীরা ছুটে যান অ্যাম্বুলেন্সের সামনে। পরে তাদের শান্ত করে মরদেহ রাখা হয় জানাজার মঞ্চে। তপ্ত রোদে দাঁড়িয়ে থাকা নেতাকর্মীরা শুনেন প্রিয় নেতার স্মৃতিচারণ।

এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মীর হেলাল, মাহবুবে রহমান শামীম, নগর আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহ আলম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রামের আমির সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী বক্তব্য দেন।

এছাড়া প্রথম সারিতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বিএনপির উত্তর জেলা আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকার, চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাবেক সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, মরহুমের ছেলে সাঈদ আল নোমান, জাতীয় পার্টির সোলায়মান আলম শেঠ, আনজুমানে রাহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়ার আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। জানাজা শেষে সাবেক মন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ আল নোমানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের এই সময়ে সাবেক মন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ আল নোমানের বড়ই প্রয়োজন ছিল। নোমান ভাইয়ের নেতৃত্বে আমরা চট্টগ্রাম মহানগরের রাজনীতি করেছি। চট্টগ্রামের রাজনীতিতে, আন্দোলন, সংগ্রামে রাজপথে আমরা একসাথে কাজ করেছি। নোমান ভাই ছাত্র রাজনীতি করেছেন, শ্রমিক রাজনীতি করেছেন, বিএনপির রাজনীতি করেছেন।

তিনি বলেন, তিনি একজন পরিপূর্ণ রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনি সার্বক্ষণিকভাবে রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সংগঠিত করার জন্য চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর, দক্ষিণসহ এই অঞ্চল এবং যেখানেই দলের ডাক দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে সেখানে ছুটে গেছেন। তার রক্তের সঙ্গে রাজনীতি মিশে গেছে। নোমান ভাইয়ের সঙ্গে চট্টগ্রামের রাজনীতি ও কেন্দ্রীয়ভাবে অনেক স্মৃতি আছে।

জানাজা শেষে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মীর হেলাল বলেন, নোমান ভাই প্রতিহিংসার রাজনীতি করতেন না। ছাত্র ও শ্রমিকদের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন তিনি। তিনি সাধারণ মানুষের কথা ভাবতেন। চট্টগ্রামে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন বুঝে তিনি প্রথম দাবি তোলেন। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ও তার অবদান।

এদিকে মরহুম আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে ব্যারিস্টার সাঈদ আল নোমান জানিয়েছেন, জানাজা শেষে তার বাবার মরদেহ নেতাকর্মীরা দেখার জন্য আধাঘণ্টার মতো অ্যাম্বুলেন্সে রাখা হবে। পরে তাকে রাউজানের গহিরার নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে বাদে আসর স্থানীয় গহিরা হাই স্কুল মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসায় ইন্তেকাল করেন আবদুল্লাহ আল নোমান। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে হেলিকপ্টার যোগে তার মরদেহ চট্টগ্রাম আউটার স্টেডিয়ামে আনা হয়। সেখান থেকে তার মরদেহ রাখা হয় কাজির দেউড়িস্থ ভিআইপি টাওয়ারের বাসভবন প্রাঙ্গণে।

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টায় চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, ৯টায় ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি নেওয়া হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারী-কর্মকর্তারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর বেলা ১১টার দিকে নিয়ে যাওয়া হয় নগর বিএনপির দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবন মাঠে। সেখানে রাখা হয় দুপুর ১টা পর্যন্ত। পরে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় জমিয়তুল ফালাহ্ মসজিদ প্রাঙ্গণে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মুখে মাস্ক ও হেলমেট পরে মহাসড়কে ছাত্রলীগের মিছিল

হাওরে বিলুপ্তির পথে দেশি প্রজাতির মাছ

নেত্রকোনার বজ্রপাতে ২ জনের মৃত্যু

জামায়াত আমিরের সঙ্গে পাকিস্তান হাইকমিশনারের বৈঠক

অভিনেতা জাহের আলভী কারাগারে 

‘বিএনপি সরকারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ’

অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা, আটক ৩

ইউএনওর আইডি জটিলতায় জন্মনিবন্ধন সেবা বন্ধ, চরম ভোগান্তি

ফুটবলে বাংলাদেশের পাশে থাকবে আর্জেন্টিনা

শ্যালা নদীতে কুমিরের হামলায় নারী জেলে নিহত

১০

গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডের নতুন স্থান জানালেন মন্ত্রী

১১

শারীরিক যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ কৃষকের আত্মহত্যা

১২

মোদিকে ‘কিলার’ বলে কী বুঝিয়েছেন ট্রাম্প

১৩

নবম পে-স্কেল / বেতন বৃদ্ধি ও বিশেষ সুবিধা বাতিলের রূপরেখা চূড়ান্তে বৈঠক

১৪

হাসপাতালের শয্যায় থাকা মাকে নিয়ে এমপি জসিমের আবেগঘন পোস্ট

১৫

রাজধানীতে ককটেল ফাটিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, আটক ২

১৬

কোস্টগার্ডের অভিযান, টেকনাফে ২০ কেজি গাঁজা জব্দ

১৭

ইকরার মৃত্যু : আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন অভিনেতা আলভী 

১৮

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যাথ ল্যাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার : ববি হাজ্জাজ

১৯

প্রবাসীর স্ত্রী-সন্তান নিয়ে গেল ‘জিনের বাদশা’

২০
X