চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

আমরা যা ভাবব, চট্টগ্রামবাসীকে সঙ্গে  নিয়েই ভাবব : রেলমন্ত্রী

চট্টগ্রামের সিআরবি এলাকা। ছবি : কালবেলা
চট্টগ্রামের সিআরবি এলাকা। ছবি : কালবেলা

চট্টগ্রামের ফুসফুস খ্যাত সিআরবি এলাকায় পূর্ববর্তী সরকারের সময় হাসপাতাল নির্মাণের যে পরিকল্পনা ছিল, সে বিষয়ে বর্তমান সরকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং যে কোনো সিদ্ধান্ত চট্টগ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়েই নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

রেলমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার আগে যে পরিকল্পনা করেছিল, সেটি বাস্তবায়নে আমরা এখনো কোনো পদক্ষেপ নেইনি। আমরা যা কিছু করব, চট্টগ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়েই করব। চট্টগ্রাম রেলওয়ের জায়গা কাউকে লিজ দেওয়া বা কোনো সুবিধা স্থাপনার জন্য সরকার কাউকে নির্দেশ দেয়নি। কন্টেইনার ডিপো স্থাপনের বিষয়েও কোনো সিদ্ধান্ত নেই।’

তিনি বলেন, শুরুতে ২৫০ শয্যার হাসপাতালের প্রস্তাব ছিল, যা পরে ২০২০ সালে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রস্তাব আসে। তবে সে সময় পরিবেশ ও সিআরবির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষার দাবিতে আন্দোলনের কারণে প্রকল্পটি এগোয়নি।

রেলমন্ত্রী আরও বলেন, সর্বশেষ যে প্রস্তাবনা ছিল, তা সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও চট্টগ্রাম নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন মহলের সঙ্গে আলোচনা করে স্থায়ী কমিটির পর্যায়ে রয়েছে। এখনো সেটি সেই পর্যায়েই আছে এবং এ বিষয়ে নতুন করে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যেহেতু এটি একটি পিপিপি (PPP) প্রকল্প হিসেবে প্রস্তাবিত হয়েছিল, তাই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে হবে। সম্ভাব্য সমাধান কী হতে পারে, তা সবার সঙ্গে বসে আলোচনা করেই নির্ধারণ করা হবে।'

হাসপাতাল হবে কি না— এমন প্রশ্নে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনই কিছু বলার মতো অগ্রগতি নেই। তবে যদি করা হয়, তাহলে পরিবেশের ক্ষতি না করে, কোনো গাছ না কেটে এবং এলাকার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে করার বিষয়টি বিবেচনায় ছিল। এর বাইরে নতুন কোনো বিকল্প সিদ্ধান্ত হয়নি। কাজটি করব কি না বা কীভাবে করব— এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি ‘

এ সময় রেলমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রেল সচিব ফাহিমুল ইসলাম, রেলের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হেসেন ও জিএম মো. সুবক্তগীনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রামের ফুসফুস খ্যাত সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে সিআরবি রক্ষা পরিষদ নামে একটি সংগঠন।

রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে সিআরবির সাত রাস্তার মোড়ে সংগঠনটির ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের সদস্যরা সংহতি প্রকাশ করেন।

মানববন্ধনে সিআরবি রক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘সিআরবি সরকার ঘোষিত একটি হেরিটেজ এলাকা। সেখানে বেসরকারি কোনো স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। এর আগে একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু নাগরিক আন্দোলনের মুখে সরকার সরে যেতে বাধ্য হয়েছিল। কালো টাকার মালিকরা এখানে বেসরকারি হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে। জনগণ তাদের এ অপতৎপরতা প্রতিহত করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামে হাসপাতাল নির্মাণের প্রয়োজন হলে বিকল্প স্থান হিসেবে পাহাড়তলির পরিত্যক্ত হজ ক্যাম্প কিংবা কুমিরা এলাকায় অবস্থিত টিবি হাসপাতালের জায়গা বিবেচনা করা যেতে পারে। তার ভাষ্য, পরিবেশ ও ঐতিহ্য ধ্বংস করে উন্নয়ন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’

চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, গতকাল রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে কথা বলেছি। ওনাকে বলেছিলাম যে, এখানে গাছ কেটে সিআরবিতে কখনো কোনো হাসপাতাল কিংবা স্থাপনা আমরা করতে দেব না এবং এটা চট্টগ্রামবাসী কখনো মেনে নেবে না। উনিও এ ব্যাপারে একমত। উনি বলেছেন, পুরোনো যে হাসপাতাল আছে, সে হাসপাতালটা উনি দেখবেন। ওই হাসপাতাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার (অবকাঠামো), ওইখানে দরকার হলে ওটা ভেঙে কীভাবে একটা সুন্দর হাসপাতাল করা যায়, এটাও আমাদের সময়ের দাবি।

সিআরবি এলাকায় প্রায় ছয় একর জমিতে হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব প্রথম অনুমোদন পায় ২০১৩ সালে। পরে ২০২০ সালে তৎকালীন সরকার প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় এবং একই বছরের মার্চে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের মধ্যে এ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই প্রকল্পের পরিকল্পনা ও তদারকি সংস্থা ছিল সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষ (পিপিপি)।

প্রকল্প অনুযায়ী পূর্ব রেলের সদর দপ্তর (সিআরবি) এলাকায় পিপিপি ভিত্তিতে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল, ১০০ আসনের মেডিকেল কলেজ এবং ৫০ আসনের নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এটি বাস্তবায়ন ও পরিচালনার দায়িত্ব পায় ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ কোম্পানি লিমিটেড। প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৪০০ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা ছিল ১২ বছর।

তবে নাগরিক সমাজের টানা আন্দোলনের মুখে ২০২২ সালের নভেম্বরে সরকার সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ না করার আশ্বাস দিলে আন্দোলন স্থগিত করা হয়।

কিন্তু সম্প্রতি আবারও এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে- এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে চট্টগ্রামে নতুন করে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন সংগঠন পৃথকভাবে বিবৃতি দিয়ে এই উদ্যোগের নিন্দা জানায় এবং প্রকল্পটি স্থায়ীভাবে বাতিলের দাবি তোলে। সিআরবি এলাকায় কোনো ধরনের স্থাপনা বা হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ বন্ধ করে বিষয়টি স্থায়ীভাবে বাতিলের আহ্বান জানান তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় (ড্যাপ) সিআরবিকে কালচারাল হেরিটেজ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যা ২০০৯ সালের ২৯ জানুয়ারি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। ড্যাপের নির্দেশনা অনুযায়ী, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে সিআরবির কোনো অংশকে ব্যবহার করা যাবে না এবং কোনো বহুতল ভবন নির্মাণ করা যাবে না। শুধু পর্যটকদের আকর্ষণ করতে পাখির অভয়ারণ্য, জাদুঘর, প্রজাপতি উদ্যান প্রতিষ্ঠা করা যাবে।

ইফেক্টিভ ক্রিয়েশন অন হিউম্যান অপিনিয়নের (ইকো) গবেষণায় পাওয়া গেছে, সিআরবিতে ২২৩ প্রজাতির উদ্ভিদ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ১৮৩টি ঔষধি গাছ। গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ ৩৪ প্রজাতির। লতাজাতীয় উদ্ভিদ ৩৪ প্রজাতির। বিপন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ৯টি। এখানে রয়েছে ৮৮টি বৃক্ষ, যার মধ্যে শতবর্ষী গর্জন ও শিরীষ গাছ। এসব বৃক্ষ ও উদ্ভিদের কারণে সিআরবি এলাকাকে চট্টগ্রামের ফুসফুস বলে থাকেন পরিবেশবিদরা।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দীর্ঘ ছুটি শেষ / খুলেছে স্কুল-কলেজ, এখনো বন্ধ অনেক প্রতিষ্ঠান

চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে ২ পা বিচ্ছিন্ন হওয়া সেই যুবকের মৃত্যু

মিসরকে হারিয়ে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি শেষ করলো ব্রাজিল

দেশের ১৭ অঞ্চলে ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরেও সতর্কতা

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে রহস্যজনক তাপ, উৎস খুঁজছে পুলিশ-ফায়ার সার্ভিস

আন্তর্জাতিক রোবটিক্স অলিম্পিয়াডে স্বর্ণপদক পেলেন বাংলাদেশের প্রিয়ন্ত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ

রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ

৩০০ জনকে চাকরি দেবে আবুল খায়ের গ্রুপ, অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদন

নিয়োগ দিচ্ছে এসিআই কোম্পানি, অনলাইনে আবেদন শুরু

১০

রেড ক্রিসেন্টে চাকরির সুযোগ, আবেদন করতে পারবেন যারা

১১

এসএসসি পাসেই চাকরির সুযোগ, বেতন ছাড়াও থাকছে বিভিন্ন সুবিধা

১২

দাওয়াত খেয়ে ফেরার পথে আ.লীগ নেতাকে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ

১৩

আজকের নামাজের সময়সূচি

১৪

গভীর রাতে হঠাৎ ক্ষুধা লাগলে কী খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন?

১৫

ডিজিটাল গণমাধ্যম অগ্রদূতের আত্মপ্রকাশ

১৬

মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদল নেতাদের ওপর ‘আ.লীগের’ হামলা, আহত ১৮

১৭

রাজনীতিতেই থাকতে চাই, চাকরি নয় : ছাত্রদল নেতার আবেগঘন স্ট্যাটাস

১৮

কালবেলায় সংবাদ প্রকাশ / জিম্মায় নেওয়া চুরির মালামাল থানায় ফেরত দিলেন কর্মকর্তা

১৯

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের সভা অনুষ্ঠিত

২০
X