

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন উপলক্ষে বিশ্বের বৃহত্তম ইউনিভার্সাল এক্সচেঞ্জ বিটগেট তাদের ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ ‘ব্লকচেইন ফোর হার’-এর আওতায় একটি বৈশ্বিক প্রচারণা শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটি মনে করে, ব্লকচেইন খাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি ও টেকসই প্রসারের জন্য নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
এবারের প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘নারীদের বাদ দিয়ে কীভাবে এই প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসার সম্ভব?’ বিটগেট এই বাস্তবতাকে সামনে এনেছে যে, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার অর্ধেককে বাদ দিয়ে উদ্ভাবন, তারল্য বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। প্রতিষ্ঠানটি লিঙ্গ সমতাকে কেবল সামাজিক দায়বদ্ধতা হিসেবে নয়, বরং একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তা হিসেবে দেখছে।
বিটগেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) গ্রেসি চেন বলেন, আমরা জানি যে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত ফিল্ড এবং বিশেষ করে ক্রিপ্টো সেক্টরে নারীদের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি বড় ব্যবধান রয়েছে। নারীদের সক্ষমতা এবং আর্থিক খাতে তাদের প্রভাবকে স্বীকৃতি দেওয়া এখন বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব। প্রতিটি ছোট পদক্ষেপই এই ব্যবধান ঘোচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে বিটগেট একটি বৈশ্বিক সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন শুরু করেছে, যার লক্ষ্য ওয়েব৩ প্ল্যাটফর্মে বিদ্যমান অদৃশ্য বৈষম্যগুলো চিহ্নিত করা এবং তা মোকাবিলা করা। এ প্রচারণার অংশ হিসেবে একটি বিশেষ ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে ঐতিহাসিকভাবে পুরুষশাসিত এ খাতে নারীদের ক্রমবর্ধমান সাফল্যের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া শিল্প বিশেষজ্ঞ, নির্মাতা এবং ব্যবহারকারীদের অন্তর্ভুক্তিমূলক ওয়েব৩ কাঠামো তৈরিতে মতামত শেয়ার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি, বিটগেট ওয়ালেটের সঙ্গে যৌথভাবে একটি ‘লিমিটেড এডিশন কার্ড’ চালু করা হয়েছে। মাস্টারকার্ড ও ভিসা সমর্থিত এই কার্ডটি ইউরোপ, এশিয়া-প্যাসিফিক এবং লাতিন আমেরিকার ৫০টিরও বেশি দেশে ব্যবহার করা যাবে। বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তির বার্তা বহনকারী এই কার্ডটি ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহকরা লিঙ্গ সমতার প্রতি তাদের সমর্থন প্রদর্শন করতে পারবেন।
অনলাইন প্রচারণার পাশাপাশি অফলাইনেও বিটগেট ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। গত বছরের ‘লেডি ফরোয়ার্ড’ উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ এবং লাতিন আমেরিকায় ধারাবাহিক ইন্টারঅ্যাক্টিভ ইভেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। এসব আয়োজনে সৃজনশীল কর্মশালা (যেমন: পারফিউম মেকিং, পটারি, নেইল আর্ট) থেকে শুরু করে পেশাদার প্যানেল আলোচনার ব্যবস্থা থাকছে, যেখানে ওয়েব২ ও ওয়েব৩ খাতের নারী নেত্রীরা তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন। বিশেষভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় একটি মিনি-কনফারেন্স এবং ইফতার মাহফিলেরও পরিকল্পনা করা হয়েছে।