শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:১৫ এএম
আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:৫৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

বুড়ি তিস্তা খনন প্রকল্পে ক্ষুব্ধ কৃষকরা, প্রতিবাদে মশাল মিছিল

বুড়ি তিস্তা নদী খনন প্রকল্পের প্রতিবাদে মশাল মিছিল করেছে এলাকাবাসী। ছবি : সংগৃহীত
বুড়ি তিস্তা নদী খনন প্রকল্পের প্রতিবাদে মশাল মিছিল করেছে এলাকাবাসী। ছবি : সংগৃহীত

নীলফামারীর ডিমলায় বুড়ি তিস্তা নদী খনন প্রকল্পের প্রতিবাদে মশাল মিছিল করেছে এলাকাবাসী। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাতে কুটিরডাঙ্গা গ্রাম থেকে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ মশাল হাতে বিক্ষোভে যোগ দেন।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, নদী খননের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে হাজারো পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাবে। বর্তমানে এসব জমিতে ধান, ভুট্টা, আলু, মরিচ, বাদাম, পেঁয়াজসহ বছরে তিন থেকে চারটি ফসল হয়। ২০০৯ সাল থেকে এই নদী নিয়ে দুপক্ষের বিরোধ ও বহু মামলা রয়েছে। তারা প্রকল্প বাতিল এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবি করেন।

এলাকাবাসীর সংগঠন ‘জনগোষ্ঠী’র মুখপাত্র মো. আব্দুল আলিম জানান, সরকারের অনুমোদিত একটি ভুল প্রকল্পের বিরুদ্ধেই তাদের এই আন্দোলন। জমির মালিকানা তাদের হাতে থাকা সত্ত্বেও পানি উন্নয়ন বোর্ড তিন ফসলি জমি নষ্ট করতে চায়। স্থানীয়রা এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে দেবে না বলে জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা হেকিম শামিম জানান, পাঁচ গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের জীবিকা এই নদীর দুই পাড়ের জমির ওপর নির্ভরশীল। আমরা হুমকি-ধমকির মুখে জীবন কাটাচ্ছি। মশাল মিছিলের মাধ্যমে আমাদের দুর্ভোগ দেশবাসীর কাছে তুলে ধরতে চায়।

জাহিদুল ইসলাম নামের আরেক কৃষক জানান, নদী খননের পক্ষে থাকলেও মাঝখানে খনন করা হলে চারপাশের জমি হারাতে হবে। সম্পূর্ণ ৭৬ কিলোমিটার খনন হলে তারা জমি ছাড়তে রাজি। তিনি দাবি করেন, ২০১৮ সাল থেকে কৃষকদের নামে ১১টি মামলায় ৭৫০ জনকে ভুগতে হচ্ছে। এ কারণে তারা আদালতে সিভিল মামলা করেছেন।

স্থানীয় বয়স্ক ব্যক্তি হযরত আলী বলেন, ‘দুই বিঘা জমিতে সংসারের ১০ জন মানুষ খাই। বুড়া বয়সে অন্য শহরে গিয়ে কাজ করতে পারব না। জমি না থাকলে বাঁচব কীভাবে?’

২০২২ সালের ডিসেম্বরেও নদী খনন নিয়ে বড় উত্তেজনা তৈরি হয়। চলতি মাসের ২ ডিসেম্বর নতুন করে যন্ত্রপাতি আনার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী বাধা দেয়। পরে পুলিশ, আনসার ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক মন্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধান চান।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নীলফামারী অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান জানান, তারা শুধু অধিগ্রহণকৃত জায়গায় জলাধার পুনঃখনন করছেন। কিছু ব্যক্তি দখল করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। ১ হাজার ২১৭ একর জমির মধ্যে ৬৬৭ একরে খননের কাজ হবে। এতে কৃষকরা স্বল্প খরচে সেচের সুবিধা পাবে এবং পরিবেশ রক্ষা পাবে বলে তিনি জানান।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চোরের মাথা ন্যাড়া করে আঁকা হলো আর্জেন্টিনার পতাকা

হানিফ সংকেতের ‘চৈতন্যে’ জুলাই নাই: সারোয়ার তুষার

ইউরোপ জয়ের অনন্য নজির বাংলাদেশের

তপুর জোড়া গোলে সান মারিনোকে হারাল বাংলাদেশ

মারধরের প্রতিবাদ করায় বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ

সাতক্ষীরায় সীমানা পিলারসহ আটক ৪

শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সে ফের আগুন

উপজেলা স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথে সরকার

বিএনপি আবারও আওয়ামী লীগের ফাঁদে পড়েছে : নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী

পুলিশের উপস্থিতিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের মিছিল

১০

রাত ১টার মধ্যে ঝড় হতে পারে যেসব অঞ্চলে

১১

আল্লাহর রহমতে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছি: নৌ প্রতিমন্ত্রী

১২

কৌশলগত অংশীদারত্ব-বাণিজ্য সম্প্রসারণে সম্মত বাংলাদেশ-তুরস্ক

১৩

দুধে মজাদার স্বাদ: ঘরোয়া ও ঐতিহ্যবাহী কিছু জনপ্রিয় খাবার

১৪

বিশ্বকাপের আগে বর্ষসেরার পুরস্কার জিতলেন ইয়ামাল

১৫

নির্বাচনের পরও ভারত দ্বিচারী ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে: সাইফুল হক

১৬

জেলেনস্কির বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন পুতিন

১৭

সান মারিনো ম্যাচের একাদশে নেই শমিত

১৮

ইউএনওর অভিযানে হামলার ঘটনায় ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

১৯

অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : জয়সওয়াল

২০
X