

কুমিল্লা-১০ আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন মুফতি মো. শামছুল্লাহ। পেশায় একজন খতিব ছিলেন এ প্রার্থী। বৃহস্পতিবার ঘোষিত ফলাফলে তিনি পরাজিত হন। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কারণে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে চিঠি দিয়েছে মসজিদ কমিটি।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানান মুফতি মো. শামছুদ্দোহা।
মসজিদের অব্যাহতি পত্রে বলা হয়েছে, ‘‘মুফতী মো. শামছুদ্দোহা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১০ আসন হতে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হওয়ায় আপনার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আপনার ১৯.০১.২০১৬ তারিখের ‘খতিব’ পদে নিয়োগপত্রের ৪ নং শর্ত ও সেই আনুযায়ী আপনার যোগদান, ‘বিসিএসআইআর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিচালনা নীতিমালা, ২০২৫’-এর ৪.২.৭ (ঘ) নং শর্ত এবং সরকার প্রণীত ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫’-এর ২৩.২ (গ) অনুযায়ী আপনি চাকুরির শর্ত ভঙ্গ করেছেন।’’
‘বিসিএসআইআর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটির ২২.০১.২০২৬ তারিখের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আপনার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, খতিব পদে আপনার নিয়োগের শর্ত এবং বিসিএসআইআর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিচালনা নীতিমালা ও সরকার প্রণীত মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালার শর্ত ভঙ্গের বিষয় সভাপতি কর্তৃক আপনাকে ২৩.০১.২০২৬ তারিখে মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।’
‘‘এমতাবস্থায়, মসজিদ পরিচালনা কমিটির ২৯.০১,২০২৬ তারিখের সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত সিদ্ধান্ত এবং বিসিএসআইআর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিচালনা নীতিমালা, ২০২৫-এর ৪.২.৫ অনুযায়ী বিসিএসআইআর কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে আগামী ১৪.০২.২০২৬ তারিখ হতে আপনাকে বিসিএসআইআর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ‘খতিব’ পদ হতে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।’’
মুফতি শামছুদ্দোহা দীর্ঘ একযুগ থেকে ঢাকা ধানমন্ডির সাইন্সল্যাব কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
অব্যাহতি প্রসঙ্গে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘আমি সর্বশেষ গত ২৩ জানুয়ারি জুমা পড়িয়ে মসজিদ থেকে ছুটি নিয়েছি। ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমার ছুটি ছিল। তাই নিয়ম অনুযায়ী ১৩ ফেব্রুয়ারি জুমা পড়ানোর উদ্দেশে আমি মসজিদের মুয়াজ্জিনকে কল দিয়ে জানাই। তাকে কল করার আধাঘণ্টার মধ্যেই মসজিদ কমিটির সভাপতি ড. সোহরাব আমার হোয়াটসঅ্যাপে একটি অব্যাহতি পত্র পাঠান। কিন্তু এ বিষয়ে আমাকে পূর্ব কোনোকিছু জানানো হয়নি। এমনকি ১৩ ফেব্রুয়ারি জুমা পড়াতে মসজিদে গেলে সেখানেও কিছু বলা হয়নি। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি।’
শামছুদ্দোহা অভিযোগ তুলে জানান, জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা রাখার কারণে আরিফ বিন হাবিব নামে অপর এক আলেমকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। এবারও একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সমর্থক ব্যক্তির প্রভাব ও সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার কারনে পরিকল্পিতভাবে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এভাবেই আলেমসমাজকে জাতীয় রাজনীতিতে ভূমিকা রাখা থেকে বিরত রাখা হয়। পরে প্রশ্ন তোলা হয়, আলেমরা কেন জাতীয় ইস্যুতে ভূমিকা রাখেন না।’
তিনি মসজিদ কমিটির এ সিদ্ধান্তকে অন্যায্য আখ্যা দিয়ে কথিত বানোয়াট নীতিমালার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
তবে মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কালবেলা থেকে মসজিদ সভাপতির ফোনে একাধিক কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।