

রংপুর সদর উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নের দীঘলটারী গ্রামে দুটি পরিবারের সদস্যদের মাঝে চেতনানাশক প্রয়োগ করে গভীর রাতে তাদের ঘর থেকে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল চুরি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা বলেছেন, দুটি পরিবার মিলিয়ে প্রায় ১৮ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে পাগলাপীর-ডালিয়া সড়কসংলগ্ন দুটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দুটি কেদার চন্দ্র সরকার ও গজেন্দ্র চন্দ্র সরকারের।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার বিকেল থেকেই তারা অস্বাভাবিক ঝিমুনিভাব ও অসুস্থতা অনুভব করছিলেন। রাতের খাবারের পর সবাই তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যান এবং ঘুমিয়ে পড়েন। রাতে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে টাকা ও মূল্যবান জিনিস চুরি করে নিয়ে যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে তারা দেখেন, দরজা খোলা, আলমারি ও শোকেসের জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। ট্রাঙ্ক ও বাক্স বাড়ির বাইরে নিয়ে খুলে মূল্যবান জিনিস নিয়ে গেছে এবং ট্রাঙ্ক ও বাক্স ফেলে রেখে গেছে।
ভুক্তভোগী গজেন্দ্র চন্দ্র সরকার বলেন, সকালে ঘুম ভাঙার পর মাথা ভারী লাগছিল। উঠেই দেখি সব তছনছ। দেড় ভরি স্বর্ণ, ৫০ হাজার টাকা, কাসার বাসন ও ২৫টি দামি শাড়ি নিয়ে গেছে।
অন্যদিকে কেদার চন্দ্র সরকারের ছেলে জীবন কৃষ্ণ সরকার শুভ জানান, বাড়িতে কয়েক দিন পরই বোনের ছেলের অন্নপ্রাশন অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। এ উপলক্ষ্যে প্রায় দেড় লাখ টাকা ও সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালংকার আনা হয়েছিল। এছাড়া নিজেদের দেড় ভরি স্বর্ণের গহনা ও প্রায় ৬৫ হাজার টাকাও ছিল। সবই নিয়ে গেছে।
প্রতিবেশী বাবু মনোরঞ্জন জানান, সকালে ট্রাঙ্ক ও বাক্স বাড়ির বাইরে পড়ে থাকতে দেখেন, তবে ভেতরের মূল্যবান জিনিসপত্র নেই।
স্থানীয়দের ধারণা, ওই দুটি পরিবারের সদস্যদের অচেতন করার জন্য কোনো চেতনানাশক ব্যবহার করা হয়েছে। একই রাতে পাশাপাশি দুটি বাড়িতে চুরির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মেজবাহুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি অবিলম্বে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
পূজা উদযাপন পরিষদের রংপুর জেলা কমিটির সভাপতি রামজীবন কুন্ডুও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
গঙ্গাচড়া থানার ওসি মো. আব্দুর সবুর বলেন, চেতনানাশক স্প্রে করে লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে, বিষয়টি তদন্তাধীন।