

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ৩ শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়াও মধ্যরাত থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে পুরো এলাকায়।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত ১২টা ৪০ মিনিটে হঠাৎই তীব্র হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে এ সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার।
বাতাসের তীব্রতায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ও পৌর শহর এলাকায় অর্ধশতাধিক টিনশেডের ঘর, কুঁড়ে ঘর ও আধাপাকা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে বলে কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন কলাপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।
এর মধ্যে ধানখালীর দুটি বসতঘর কলাপাড়া পৌর শহরের চারটি ও কুয়াকাটার অন্তত ১৪ টি দোকান ঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও উপজেলায় আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ৩ শতাধিক ঘরবাড়ি।
অপরদিকে বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় গাছ উপরে পড়ে একাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থাপনা চাপা পড়ে আছে। এ উপজেলায় ঠিক কতটা ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কুয়াকাটা এলাকার বাসিন্দা ফারুক জানান, রাতের কালবৈশাখী ঝড়ে এখানে অন্তত ১৪টি দোকান পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়াও শুটকির দোকান ও আচার দোকানঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ধানখালির ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. মামুন জানান, পাঁচজুনিয়া গ্রামের ছিদ্দিক মিয়ার ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। একই ইউপির বাসীন্দা সম্রাট জানান, রাতের আচমকা ঝড়ে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জলিল হাওলাদারের বাড়ি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। এ সময় ঘরের মধ্যে শবে কদরের নামাজরত অবস্থায় থাকা ঘরের সদস্যরা নিচে চাপা পড়েন। কিন্তু মালামালের ক্ষতি হলেও তারা অক্ষত আছেন।
কলাপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোকছেদুল আলম জানান, ৫০ টিরও বেশি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর এখন পর্যন্ত পেয়েছি। এছাড়া আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে অন্তত তিন শতাধিক ঘর বাড়ি। এর সংখ্যা আরো বাড়বে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অতিগ্রস্ত পরিবারে ঢেউটিন এবং সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানান তিনি।
কলাপাড়ার খেপুপাড়া রাডার স্টেশন কেন্দ্রের কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন জানান, ১৭ মার্চ মধ্যরাতে কালবৈশাখী ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার। এছাড়া এ সময়ে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।