

বকেয়া মজুরি, মাসিক বেতন, ভবিষ্যৎ তহবিল (পিএফ), চিকিৎসা সুবিধা ও আবাসন সংকটসহ বিভিন্ন দাবিতে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন হবিগঞ্জের মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার ৪টি চা বাগানের শ্রমিকরা।
রোববার (৭ জুন) সকালে দেউন্দি কোম্পানির অধীন নোয়াপাড়া, লালচান, দেউন্দি ও মৌলভীবাজারের মিরতিঙ্গা চা বাগানের শ্রমিকদের পক্ষে নোয়াপাড়া চা বাগান শ্রমিক সভাপতি কমেড নায়েক এ স্মারকলিপি জমা দেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে চারটি চা বাগানের শ্রমিকরা নিয়মিত মজুরি ও বিভিন্ন পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। গত ২৬ মে শ্রমিক প্রতিনিধি, বাগান কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক ত্রিপক্ষীয় সভায় দেউন্দি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওয়াহিদুল হক শ্রমিকদের বকেয়া পাওনার অর্ধেক ২৭ মে ও ১ জুনের মধ্যে পরিশোধের ঘোষণা দেন। এ ছাড়া ২ জুন ও ৪ জুন দুই সপ্তাহের মজুরি পরিশোধ করা হলেও চলতি সপ্তাহের মজুরি এখনো দেওয়া হয়নি।
শ্রমিকদের অভিযোগ, ৪৫ মাসের ভবিষ্যৎ তহবিলের (পিএফ) টাকা, এরিয়ার বিল, আবাসন মেরামত ও চিকিৎসা সুবিধার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। ফলে শ্রমিক পরিবারগুলো চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। তারা বাগানগুলোর দায়িত্ব সরকারের অধীনে নেওয়ারও দাবি জানান।
নোয়াপাড়া চা বাগান শ্রমিক সভাপতি কমেড নায়েক বলেন, ‘বকেয়া মজুরি ও পাওনা না পেয়ে শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বারবার আশ্বাস পেলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।’
এ বিষয়ে দেউন্দি কোম্পানির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘চা শ্রমিকরাই বাগানের মূল প্রাণশক্তি। তবে গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে কোম্পানির চারটি বাগান ধারাবাহিকভাবে লোকসানের মুখে রয়েছে। চায়ের বাজারমূল্য কম, উৎপাদন ব্যয় বেশি এবং ব্যাংক ঋণ সুবিধা না পাওয়ায় আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে কিছু পাওনা বকেয়া রয়েছে। আমরা অর্থের সংস্থান করে ধাপে ধাপে সব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।’
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ বিন কাসেম বলেন, ‘শ্রমিকদের দেওয়া স্মারকলিপির বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। বাগান মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে চলমান সমস্যার সমাধানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’