সাইদুল ইসলাম ও আবুল হাসনাত, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

বাসায় হাসনাতের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে মুখ খুললেন আ.লীগ নেতা মনজুর

চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা এম. মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা এম. মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামে সাবেক সিটি মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা এম. মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে ছাত্রদল, জুলাই আন্দোলনের কর্মী ও ছাত্র-জনতার তোপের মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে নগরের আকবর শাহ থানার উত্তর কাট্টলী এলাকার ‘এইচ এম ভিলা’ নামের একটি বাসভবনে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে তাকে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় যান। তার আগমনকে ঘিরে এলাকার বাসিন্দা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই খবরটি আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং ছাত্রদল, জুলাই আন্দোলনের কর্মী ও ছাত্রজনতা বাসার সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। তারা জানতে চান, কী উদ্দেশ্যে তিনি ওই বাসায় এসেছেন এবং সেখানে কোনো ধরনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছিল কি না।

স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে মনজুর আলম দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। সেই প্রেক্ষাপটে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বর্তমান সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচিত হাসনাত আবদুল্লাহর সেখানে উপস্থিতি ঘিরে ছাত্রদল, যুবদল, জুলাই আন্দোলনের কর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে কৌতূহল ও ক্ষোভ তৈরি হয়। তারা বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন এবং তার কাছে অবস্থানের ব্যাখ্যা দাবি করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসার সামনে জড়ো হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কেউ উচ্চস্বরে স্লোগান দেন এবং হাসনাত আবদুল্লাহকে লক্ষ্য করে নানা প্রশ্ন তোলেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সেখানে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এ সময় আশপাশের বাসিন্দা ও পথচারীদের মধ্যেও কৌতূহল দেখা দেয় এবং অনেকে ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক যুবক সরাসরি হাসনাত আবদুল্লাহর কাছে তার ওই বাসায় যাওয়ার কারণ জানতে চাইছেন। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি তাকে আওয়ামী লীগের ‘দালাল’ বলে আখ্যা দেন এবং কেন তিনি সাবেক মেয়রের বাসায় গেছেন- সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দাবি করেন। ঘটনাটি মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরাপত্তাজনিত কারণে হাসনাত আবদুল্লাহ বাসা থেকে বের হয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। স্থানীয়দের মতে, সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতেই তিনি সেখানে বেশি সময় অবস্থান করেননি এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় যুবদল নেতা শাহেদ আকবর বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে বাসার সামনে যাই এবং হাসনাত আবদুল্লাহর কাছে তার আগমনের কারণ জানতে চাই আমরা। তিনি জানান, হাসনাত আবদুল্লাহ সেখানে চা খেতে গিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন। পরে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তাকে সম্মানের সঙ্গে গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে আকবর শাহ থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে রূপ নেয়নি। কয়েকজন ব্যক্তি বাসার সামনে এসে স্লোগান দিলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে হাসনাত আবদুল্লাহকে বলতে শোনা গেছে, রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে ব্যক্তিগত বা সামাজিক সম্পর্ক আলাদা বিষয়। আমি সেখানে চা খেতে গিয়েছিলাম।

চট্টগ্রামে সাবেক সিটি মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা এম. মনজুর আলম কালবেলাকে বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ বিকেল ৩টার দিকে আমার বাসায় আসেন এবং কিছু সময় অবস্থান করে পরে চলে যান। এখানে কোনো ধরনের ঝামেলা বা সমস্যা হয়নি। এটি রাজনৈতিক কোনো বৈঠক ছিল না, বরং ব্যক্তিগত সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল।

জাতীয় নাগরিক পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ চট্টগ্রামে ব্যক্তিগত কাজে এসেছিলেন। এ সময় কিছু ছাত্রদল কর্মী তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ছবি তুলতে না পেরে সামান্য হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।

উল্লেখ্য, মোহাম্মদ মনজুর আলম ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইসরায়েলি হামলায় লেবাননের জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা নিহত

মধ্যস্থতার বার্তা নিয়ে তেহরানে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নতুন বাজেটে পে-স্কেল নিয়ে বড় ধামাকা

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা / বড় অঙ্কের জরিমানাও দিতে হবে সোহেল-স্বপ্নাকে

 বাহরাইন-কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

ঈদযাত্রায় প্রাণ হারালেন ৪৩৮ জন

নতুন উড়োজাহাজ কিনছে আমিরাতের ইতিহাদ এয়ারওয়েজ

চট্টগ্রামজুড়ে ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা

গাজায় শৌচাগার সংকটে মানবেতর জীবন, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু

১০

‘শুধু ফাঁসির আদেশ দিলেই হবে না, কার্যকরও করতে হবে’

১১

পল্লবীর সেই ধর্ষণ ও হত্যা মামলা : আদালতে যা প্রমাণিত হলো

১২

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা / রায়ের পর কাঁদছেন স্বপ্না, নির্বাক সোহেল

১৩

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা / আসামি সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

১৪

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় পড়া চলছে

১৫

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা / আদালত প্রাঙ্গণে যেসব দাবি জানাচ্ছেন রায় শুনতে আসা মানুষ

১৬

মেয়ে হত্যার রায় শুনতে আদালতে রামিসার বাবা 

১৭

শাপলা চত্বর হত্যা মামলা / দীপু মনি-ফারজানা রূপাসহ ৯ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির

১৮

বিশ্বকাপ ভিসা প্রত্যাখ্যান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা ইরানের

১৯

ট্রেনের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ, চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ

২০
X