কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০১ এএম
আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৪ এএম
অনলাইন সংস্করণ

প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্যে উজাড় হচ্ছে কুয়াকাটার ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’

কুয়াকাটার ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’। ছবি : কালবেলা
কুয়াকাটার ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’। ছবি : কালবেলা

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা ঝাউবন ও ম্যানগ্রোভ অরণ্যে সাজানো কুয়াকাটার চর গঙ্গামতি সমুদ্রসৈকত, যা একসময় পর্যটকদের কাছে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিত ছিল। আজ স্থানীয় প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্যে ধীরে ধীরে হারাচ্ছে তার ঐশ্বর্য। অবাধে গাছ কাটা ও বন উজাড়ের ফলে শ্রীহীন হয়ে পড়ছে সৈকতের বিস্তীর্ণ এলাকা, কমছে জীববৈচিত্র্য, আর হতাশ হয়ে ফিরছেন ভ্রমণপিপাসুরা।

দেশের দক্ষিণ প্রান্তে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে অবস্থিত পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার গঙ্গামতির চর প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সমুদ্রসৈকত। এই সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এখানকার বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল। ঝাউ ও বিভিন্ন ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছপালার ছায়ায় পর্যটকরা খুঁজে পেতেন প্রশান্তি, আর লাল কাঁকড়া ও বন্যপাখির বিচরণে মুখর থাকত পুরো এলাকা।

কিন্তু বর্তমানে সেই দৃশ্য অনেকটাই অতীত। বন উজাড়ের ফলে সৈকতের বিভিন্ন অংশ এখন অনেকটাই বিরানভূমির মতো। তীব্র রোদে ছায়াহীন হয়ে পড়েছে পর্যটন এলাকা, ফলে ভোগান্তিতে পড়ছেন দর্শনার্থীরা।

নরসিংদী থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটক সুবর্ণা ঘোষ বলেন, ‘মিনি সুইজারল্যান্ডের কথা অনেক শুনেছিলাম। কিন্তু এখানে এসে দেখলাম গাছ নেই, ছায়া নেই— ছবি তুলতেও ভালো লাগে না। কাটা গাছের গুঁড়ি চোখে পড়ে। রোদে বসা যায় না।’

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান খুলনা থেকে আসা পর্যটক সিয়াম আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আগে এখানে অনেক গাছ ছিল, লাল কাঁকড়াও বেশি দেখা যেত। এখন গাছ কমে যাওয়ায় কাঁকড়ার সংখ্যাও কমে গেছে। আগের সেই সৌন্দর্য আর নেই।’

স্থানীয় জেলে মামুন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, ‘বন বিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে দিন-রাত চলছে গাছ কাটা। প্রভাবশালীরা ট্রলার নিয়ে এসে গাছ কেটে নিয়ে যায়। অনেকেই জ্বালানি কাঠ বানিয়ে বিক্রি করে।’

এ বিষয়ে গঙ্গামতি ফরেস্ট ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক কালবেলাকে জানান, স্থানীয় কমিউনিটির বাসিন্দারাই বনখেকো দলের হোতা, আর চিহ্নিত করে নিয়মিত মামলা দেওয়া হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে। এখনো পর্যন্ত আটটি মামলা করা হয়েছে।

মহিপুর রেঞ্জের বন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান কালবেলাকে জানান, বন বিভাগের পক্ষ থেকে টহল আরও জোরদার করা হয়েছে। বন রক্ষায় আমরা সোচ্চার রয়েছি। এছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সব বিষয়ে অবহিত করা হয়। আর চিহ্নিত করে বনখেকোদের বিরুদ্ধে মামলা রুজুর কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভিসা মিলেছে কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে রাত কাটাতে বাধা ইরানি ফুটবলারদের

প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে আ.লীগ নেতার চিঠি

গ্রামে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, অভিযোগ রুমিন ফারহানার

৫৫ বছরে শহীদ জিয়া গবেষণা কেন্দ্র কেন হয়নি, প্রশ্ন মঈন খানের

আগামী ২০ বছর বিশ্ব ক্রিকেটকে শাসন করতে চান সূর্যবংশী

আল জাজিরা বিশ্লেষণ / ইরান যুদ্ধের ১০০তম দিন, কোথায় দাঁড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্য?

কেন্দ্রীয় কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে সাতক্ষীরায় জেলা যুবদলের শুভেচ্ছা মিছিল

এনসিটিবি ও ৪ শিক্ষা বোর্ডে নতুন চেয়ারম্যান 

নারী-শিশু নির্যাতন মামলা, হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির নতুন সভাপতি হলেন তামিম

১০

মহিলা দল নেত্রীর অডিও ভাইরাল / ‘তুমি বেশি কমাইও না, ৬ হাজারের মধ্যে দিও’

১১

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ‘এমটিবি ট্রেড এক্স’ চালু, মিলবে যে সুবিধা

১২

শান্তি চুক্তি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে মুক্ত হবে না ইরানের জব্দকৃত সম্পদ : ট্রাম্প

১৩

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা উত্তর কোরিয়ার

১৪

নিরাপদ খাদ্যে মুনাফা দেখলে চলবে না: এমপি রতন

১৫

বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিল শিবিরে দুঃসংবাদ, চোটে কাঁদলেন এই তারকা

১৬

রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় সরকারের অদক্ষতা জনগণকে হতাশ করেছে : হামিদুর রহমান

১৭

ডিসি কার্যালয়ে বিএনপি দুই নেতার হাতাহাতি

১৮

লেবাননের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীর সদরদপ্তরে ইসরায়েলি হামলা

১৯

পরিবারের জন্য কেনাকাটা করে ফেরার পথে প্রবাসী নিহত

২০
X