

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দিনে ও রাতের বেশিরভাগ সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না বলে অভিযোগ করছেন সাধারণ মানুষ। সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারে ডুবে যায় নগরের বেশিরভাগ এলাকা।
স্থানীয়রা জানান, দিন-রাতে মিলিয়ে ৪-৫ ঘণ্টা টানা বিদ্যুৎ না থাকার ঘটনা প্রায় নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে এখানে। কখনো বিদ্যুৎ এলেও তা ১৫-২০ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয় না। ফলে ঘরোয়া কাজ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য- সবখানেই বিরূপ প্রভাব পড়ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে আসন্ন এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীরা।
উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, আগে বিদ্যুতের সেবা মোটামুটি ভালো ছিল। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। কয়েকদিন ধরে টানা বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বাস্তবে দিনে ১৮ ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ থাকে না।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহিম আহমদ জানায়, ২১ এপ্রিল থেকে আমাদের এসএসসি পরীক্ষা শুরু। কিন্তু গত দুই মাস ধরে বিদ্যুতের সমস্যা এতটাই বেশি যে সন্ধ্যার পর পড়াশোনা করা সম্ভব হচ্ছে না। রাতে অন্তত এক-দুই ঘণ্টা টানা বিদ্যুৎ থাকলেও কিছুটা প্রস্তুতি নিতে পারতাম।
একই ধরনের অভিযোগ করেন বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক। গত এক মাস ধরে দিনের বেলায় তো বিদ্যুৎ থাকেই না, সন্ধ্যার পরও ক্ষণিকের জন্য এসে আবার চলে যায়। শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমার এলাকায়।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ লাইনে বা ট্রান্সফরমারে সমস্যা দেখা দিলেও তা দ্রুত সমাধান করা হয় না। অভিযোগ কেন্দ্রে যোগাযোগ করেও তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায় না। ফলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হয়। এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নয়ন ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
এদিকে, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষও বিদ্যুতের এ সমস্যার কথা স্বীকার করছে। ধর্মপাশা সাব জোনাল অফিস এজিএম (ওএন্ডএম) মো. হাফিজুর রহমান জানান, শুধু মধ্যনগর নয়, পুরো অঞ্চলে একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বর্তমানে গড়ে ৪০-৪৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে ৫৫-৬০ শতাংশ সময় লোডশেডিংয়েই থাকতে হচ্ছে। এছাড়া, বিকল্প উপায় নেই। তিনি আরও বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় দ্রুত সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না, যার ফলে ভোগান্তি আরও বাড়ছে।