রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম
আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

শেখ মুজিবসহ আ.লীগ নেতাদের নিয়ে লেখা ৩০০ বই জব্দ

ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার থেকে ৩০০ বই জব্দ করে জেলা প্রশাসন। ছবি : কালবেলা
ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার থেকে ৩০০ বই জব্দ করে জেলা প্রশাসন। ছবি : কালবেলা

রাজশাহীতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার থেকে শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে লেখা ও তাদের সম্পর্কিত প্রায় ৩০০ বই জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন।

বুধবার (১০ জুন) দুপুরে জেলা প্রশাসনের দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাসটিতে তল্লাশি চালিয়ে বইগুলো জব্দ করেন।

এসময় মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ আবির, রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশিকুজ্জামান প্রীতমসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সকালে রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থানরত ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারের বাসে মহানগর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বই পড়তে যান। এ সময় সেখানে আওয়ামী লীগের সাবেক শীর্ষ নেতাদের নিয়ে লেখা বিভিন্ন বই দেখতে পান বলে দাবি করেন তারা। পরে পাঠাগারের কার্যক্রম বন্ধ করে বাসটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হয়।

বই জব্দের সময় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রশাসনের আলোচনা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার বয়ানসংবলিত কোনো গ্রন্থ, সাময়িকী বা প্রবন্ধ সংরক্ষণ বা প্রদর্শন করা হবে না— মর্মে একটি মুচলেকা দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব ইমদাদুল হক লিমন বলেন, আমাদের নেতা-কর্মীরা ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারে বই পড়তে গিয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে লেখা বিভিন্ন বই দেখতে পান। বিষয়টি নজরে আসার পর আমরা প্রশাসনকে অবহিত করি।

মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিন রায়হান রবিন বলেন, স্বৈরাচার পতনের পরও এসব বই পাঠাগারে থাকা উদ্বেগজনক। এর পেছনে একটি গোষ্ঠী আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে বলে আমাদের আশঙ্কা। আমরা দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।

তবে ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, রাজশাহীতে বই সংরক্ষণের আলাদা কোনো স্থান না থাকায় বইগুলো বাসের ভেতরে রাখা হয়েছিল। এগুলো পাঠকদের জন্য প্রদর্শন বা বিতরণ করা হচ্ছিল না।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে জেলা প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার কর্মসূচি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং বইয়ের সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়ে আসছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জীবিত মাকে মৃত দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

প্রধানমন্ত্রী আসবেন বলে ভাড়ায় আনা রাস্তার ইট তুলে নিলেন ঠিকাদার

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে কবি ফররুখ আহমদের ১০৮তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন

নাহিদকে আইসিসির শাস্তি, নেপথ্যে যে কারণ

পাবনায় আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি, সাত দিনে ৭ খুন

অভিনয়ে ফিরছেন ক্যাটরিনা, তবে বদলে যাচ্ছে পথ

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নাম ১১ দলীয় জোটে ব্যবহার না করার আহ্বান

বিইউবিটিতে সম্পন্ন হলো ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠান

কৃষি ব্যাংকে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল

সৌদিতে ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত অমুসলিম, ভাঙল ৭ দশকের কূটনৈতিক রীতি

১০

জাল দলিল দিয়ে টাকা উত্তোলনের চেষ্টা, দুজনের কারাদণ্ড

১১

ইউনূস সরকারের তিক্ত প্রাপ্তি / তিন নতুন জিরো : শূন্য কার্বন থেকে শূন্য গণতন্ত্র

১২

ডাকবাংলো থেকে মা ও দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার / কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর আত্মহত্যা থেকে হত্যা মামলা

১৩

হাসপাতালকে পরিচ্ছন্ন ও দালালমুক্ত করার ঘোষণা চসিক মেয়রের

১৪

১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

১৫

সরকারি ভাতা বিতরণে নগদের প্রতি আস্থা অব্যাহত

১৬

শেখ মুজিবসহ আ.লীগ নেতাদের নিয়ে লেখা ৩০০ বই জব্দ

১৭

বাংলাদেশের ক্রিকেট তারকারা বিশ্বকাপে কে কোন দলের সমর্থক

১৮

দেশের মাথাপিছু আয় প্রথমবার ৩ হাজার ডলার ছাড়াল

১৯

চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কুৎসার ঘটনা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন: ডা. রফিক

২০
X