

হবিগঞ্জ শহরের আধুনিক স্টেডিয়াম সংলগ্ন বাইপাস সড়কটি এখন আর শুধু একটি ব্যস্ত সড়ক নয়, যেন পৌরসভার অস্থায়ী ময়লার ভাগাড়। দিনের পর দিন রাস্তার ওপর ও পাশে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে পৌরসভার বর্জ্য।
এতে একদিকে যেমন যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে তীব্র দুর্গন্ধ, পরিবেশ দূষণ এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, স্টেডিয়াম সংলগ্ন বাইপাস সড়কের প্রায় ২০০ গজ এলাকাজুড়ে গৃহস্থালি ও পৌরসভার বিভিন্ন ধরনের বর্জ্যের বিশাল স্তূপ জমে আছে। কোথাও কোথাও ময়লা রাস্তার মাঝামাঝি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে সড়কের প্রায় অর্ধেক অংশ দখল হয়ে যাওয়ায় যানবাহনকে ধীরগতিতে চলাচল করতে হচ্ছে। বিপরীত দিক থেকে আসা দুটি যানবাহন একসঙ্গে অতিক্রম করতে গিয়ে প্রায়ই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারীরা। পচা বর্জ্য থেকে বের হওয়া তীব্র দুর্গন্ধে ওই এলাকা দিয়ে হেঁটে যাওয়া কষ্টকর হয়ে উঠেছে। প্রচণ্ড রোদে দুর্গন্ধ আরও তীব্র হয়ে ওঠায় অনেককে নাক-মুখ ঢেকে চলাচল করতে দেখা যায়। পাশের আধুনিক স্টেডিয়ামের মার্কেটের দোকানপাট ও বসতবাড়ির বাসিন্দারাও একই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন৷ বর্জ্যের কারণে মাছি-মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্য নিয়েও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি কোনো সাময়িক সমস্যা নয়। দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার বর্জ্য বাইপাস রাস্তার ওপর ফেলে রাখা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে অপসারণ না করায় প্রতিদিনই ময়লার স্তূপ বড় হচ্ছে এবং জনদুর্ভোগও বাড়ছে। দ্রুত ময়লা অপসারণের পাশাপাশি স্থায়ী ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন শহরবাসী।
ময়লা অপসারণে নিয়োজিত পৌরসভার কয়েকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী জানান, বর্জ্য পরিবহনের কয়েকটি গাড়ি বিকল হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ময়লা সরানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কয়েক দিনের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ বর্জ্য জমে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গাড়িগুলো মেরামত হলে দ্রুত ময়লা অপসারণ করা হবে বলে তারা জানান।
পথচারী ও যানবাহন চালকরা বলেন, বাইপাস সড়কটি হবিগঞ্জ শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এই পথ ব্যবহার করে। কিন্তু রাস্তার ওপর ময়লার স্তূপ থাকায় চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দুর্গন্ধ, যানজট ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে প্রতিদিনই এ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সড়কের ওপর এভাবে বর্জ্য স্তূপ করে রাখার কারণে শুধু যান চলাচলই ব্যাহত হচ্ছে না, বরং বর্ষাকালে বর্জ্য ছড়িয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এতে জলাবদ্ধতা, পরিবেশ দূষণ এবং বিভিন্ন রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ ইকবাল চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, শহর থেকে ৫ কি.মিটার দূরে মির্জাপুর এলাকায় ডাম্পিং স্টেশনে পৌরসভার ময়লা আবর্জনা ফেলা হয়। সম্প্রতি হবিগঞ্জ পৌরসভার ২ টা এক্সেভেটর বিকল হয়ে যাওয়ায় ৩ দিনের ময়লা জমে গেছে বাইপাস সড়কের এই জায়গায়। তবে গতকাল থেকে ২৪ জন শ্রমিক ময়লা অপসারণের কাজ শুরু করেছে৷
স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পথচারীদের দাবি, অবিলম্বে রাস্তা থেকে ময়লার স্তূপ অপসারণ, নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবহনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালুর মাধ্যমে হবিগঞ্জ শহরকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য করে তুলতে পৌর কর্তৃপক্ষকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।