

বছরের ১৬৮ দিন বই পড়ে কৃতিত্ব অর্জন করা বরিশাল নগরীর ৩৫টি বিদ্যালয়ের ২ হাজার ৭৭৫ শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করেছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। শুক্রবার (১৭ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
আলোকিত প্রজন্ম গড়ার প্রত্যয়ে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে দিনব্যাপী এই পুরস্কার বিতরণ উৎসব আয়োজন করে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. ওবায়দুল্লাহ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক সচিব মো. আসাদুজ্জামান।
অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. আবদুন নূর তুষার, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বরিশাল অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসাইন, এভারেস্ট বিজয়ী পর্বতারোহী এম এ মুহিত, ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আ. জব্বার, বরিশাল পিটিআই’র তত্ত্বাবধায়ক শিরীন শবনম ও বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবা হোসেন প্রমুখ।
সকাল ৮টায় জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে বই বিতরণ উৎসবের অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর অতিথিরা বই পড়ে তিনটি ক্যাটাগরিতে বিজয়ী ৩৫টি বিদ্যালয়ের ২ হাজার ৭৭৬ জন শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এর মধ্যে ২০৩৭ জন ‘শুভেচ্ছা’, ৬৯০ জন ‘অভিনন্দন’ এবং ৪৯ জন ‘সেরা পাঠক’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার লাভ করে।
এর মধ্যে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত ২৪ সপ্তাহে ২০টি বইয়ের মধ্যে যারা ১০টি বই পড়েছে তারা শুভেচ্ছা পুরস্কার বই, যারা ১৬টি পড়েছে তারা অভিনন্দন পুরস্কার হিসেবে বই এবং যারা ২০টি বই পড়েছে তারা সেরা পাঠক হিসেবে সনদপত্রসহ বই উপহার পেয়েছেন। একইভাবে ২০ সপ্তাহে ১৬টি বই পড়ে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও তিনটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের নিজেদের গড়ে তোলার এটাই উপযুক্ত সময়। তিনি শিক্ষকদের সঠিক দিক-নির্দেশনা এবং পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. আবদুন নূর তুষার বলেন, ভ্রমণ শুধু স্থান বদল নয়; বই পড়েও নতুন দেশ, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া যায়। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই পাঠকের জ্ঞান ও চিন্তার পরিধি বিস্তৃত করে এবং সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা জোগায়।