নারী ও শিশু নির্যাতন
প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৫, ০৪:৪২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

আরও ২শ ট্রাইব্যুনাল গঠনের আহ্বান জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

দেশে বিদ্যমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলো নানা কারণে তাদের প্রত্যাশিত কার্য সম্পাদন করতে পারছেন না বলে মনে করে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। অ্যাসোসিয়েশন দেশে বিদ্যমান মামলা এবং বাস্তবতা বিবেচনায় এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার দ্রুত বিচারের স্বার্থে অবিলম্বে কমপক্ষে আরও ২০০টি ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আহ্বান জানিয়েছে।

শুক্রবার (১৪ মার্চ) অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আমিরুল ইসলাম ও মহাসচিব মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তারা এ আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নারীর প্রতি সহিংসতা, নির্যাতন ও নিপীড়ন দমন ও দ্রুত বিচার নিশ্চিতে সরকার ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০’ প্রণয়নপূর্বক বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো- ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আইনটি করা হয়েছিলো তা পরিপূর্ণ বাস্তবায়িত হয়নি। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বেশ কিছু ধর্ষণের ঘটনা আমাদের সবাইকে ব্যথিত করেছে। দেশের সচেতন ছাত্র-জনতা ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। এমন গর্হিত অপরাধের পুনরাবৃত্তিতে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন’ তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যমান বিচার ব্যবস্থার মূল সমস্যা হচ্ছে অপরাধ প্রমাণ করার ক্ষেত্রে যেসব স্টেকহোল্ডার আছে তারা অনেক ক্ষেত্রেই সমন্বিত উপায়ে কাজ করতে পারছেন না। নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে মামলার সংখ্যার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দেশে পর্যাপ্ত সংখ্যক ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল’ না থাকা। আবার বিদ্যমান ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল’-এর মামলার পাশাপাশি ‘শিশু আদালত’ ও ‘মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’-এর বিচারক হিসেবেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। সারা দেশে ১ লাখ ৫১ হাজার ৩১৭ হাজার মামলার বিপরীতে মাত্র ১০১টি ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল’ রয়েছে। সে হিসাবে গড়ে প্রতিটি ট্রাইব্যুনালে প্রায় ১,৫০০টি মামলা বিচারাধীন আছে। উপরন্তু ট্রাইব্যুনালে পর্যাপ্ত সংখ্যক সহায়ক কর্মচারীর পদ সৃজন করা হয়নি। এসব কারণে বিদ্যমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলো তাদের প্রত্যাশিত কার্য সম্পাদন করতে পারছেন না।

নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সংঘটিত অপরাধগুলোর দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির স্বার্থে পর্যাপ্ত সংখ্যক কর্মচারীসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল’ প্রতিষ্ঠা জরুরি বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোর ওপর অর্পিত ‘শিশু আদালত’ ও ‘মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’-এর অতিরিক্ত দায়িত্ব পরিবর্তনপূর্বক পৃথক ‘শিশু আদালত’ ও ‘মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ গঠনেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিপিএল থেকে বাদ পড়ে পাল্টা ‘যুক্তি’ ভারতীয় উপস্থাপিকার

বাধ্যতামূলক হচ্ছে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল : এনবিআর চেয়ারম্যান

দেশের প্রথম ‘সনি হোম থিয়েটার এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার’ চালু করল সনি-স্মার্ট

বাংলাদেশিরা এখন যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট ৩ বিমানবন্দর দিয়ে ঢুকতে পারবেন

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ

কীভাবে শরীর নিজে থেকেই ডিটক্স হয় জেনে নিন

ভোট হচ্ছে জনগণের মৌলিক অধিকার : জিলানী

দেশের বাইরে পড়াশোনার জন্য ফেসবুক যেভাবে ব্যবহার করবেন

মাঘের আগেই ‘হাড় কাঁপানো শীত’, শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে নতুন পূর্বাভাস

শীতকালে বাংলাদেশের ভ্রমণের জন্য ৫ সেরা জায়গা

১০

বিসিবির মেইলের জবাব দিল আইসিসি, যা আছে সেই মেইলে

১১

কুয়াশা পড়লে ঠান্ডা বাড়ে নাকি কমে?

১২

২৩ বছর পর ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন তারেক রহমান

১৩

এবার গ্রিনল্যান্ড দখলের ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের

১৪

ডিসেম্বরে সর্বাধিক রেমিট্যান্স এলো যেসব দেশ থেকে

১৫

মন ভালো রাখতে বিজ্ঞানসম্মত ৯ উপায়

১৬

ভরাট করা পুকুর উদ্ধার করল প্রশাসন

১৭

পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে অস্ত্র, গুলি ও ককটেল উদ্ধার

১৮

আগুনে ঘি ঢালল ভারত, দুঃসংবাদ বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের

১৯

জকসুর ৮ কেন্দ্রের ফল প্রকাশ, ভিপি পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

২০
X