

চট্টগ্রাম-৯ সংসদীয় আসনের সার্বিক উন্নয়ন, রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হক।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় নগরের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি ক্ষমতার জন্য নয়, দায়িত্ব নিতে চাই।
সভায় ডা. ফজলুল হক চট্টগ্রাম-৯ আসনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও দীর্ঘদিনের অবহেলার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ আসন থেকে বহু প্রভাবশালী এমপি ও মন্ত্রী নির্বাচিত হলেও সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এটি কোনো একক ব্যক্তির ব্যর্থতা নয়, বরং পরিকল্পনাহীনতা, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক দায়িত্বহীনতার দীর্ঘদিনের ফল।
স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরে তিনি জানান, নির্বাচিত হলে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন করবেন। এসব হেলথ কেয়ার সেন্টারে চিকিৎসক ও নার্স থাকবেন, যাতে সাধারণ রোগের চিকিৎসা স্থানীয়ভাবেই সম্ভব হয়।
তিনি আরও বলেন, মানুষ যেন কাছাকাছি চিকিৎসা পায়, সেটাই আমার লক্ষ্য। ২৪ ঘণ্টা সেবা দেওয়ার চেষ্টা থাকবে, না পারলেও সকাল থেকে রাত পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করব। এতে বড় হাসপাতালের চাপ কমবে এবং সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে।
নগরের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা জলাবদ্ধতা নিয়েও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। ডা. ফজলুল হক বলেন, প্রতিবছর সামান্য বৃষ্টিতেই নগরের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। খণ্ড খণ্ড প্রকল্প নয়, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার। ড্রেনেজ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ, খাল উদ্ধার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।
যানজট নিরসনের জন্য জামায়াতে এ প্রার্থী বলেন, ফ্লাইওভার, ওভারব্রিজ ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থাকলেও সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাচ্ছে না। কোথাও কোথাও যানজট আরও বেড়েছে। উন্নয়ন তখনই সফল, যখন তা মানুষের দৈনন্দিন জীবন সহজ করে। পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থা, বিকল্প সড়ক, সুশৃঙ্খল পার্কিং ও আধুনিক গণপরিবহন ছাড়া যানজট নিরসন সম্ভব নয়।
ফুটপাত দখল ও হকার সমস্যা নিয়ে ফজলুল হক বলেন, হকাররা জীবিকার তাগিদেই ফুটপাতে বসে। একদিনে উচ্ছেদ করে সমস্যার সমাধান হয় না। তিনি প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্দিষ্ট দিনে সাপ্তাহিক হকার মার্কেট চালুর প্রস্তাব দেন, যাতে ফুটপাত দখলমুক্ত থাকে এবং হকারদের জীবিকা নিশ্চিত হয়।
বস্তি উন্নয়ন ও দরিদ্র পরিবারের কল্যাণ নিয়ে পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে আধুনিক আবাসিক এলাকায় রূপান্তর করতে হবে। এতে নগরীর সৌন্দর্য বাড়বে এবং মানুষের জীবনমান উন্নত হবে। কম কিস্তিতে আবাসনের সুযোগ দিলে দরিদ্র পরিবারও সুবিধা পাবে।
দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রসঙ্গে ডা. ফজলুল বলেন, 'দেশের উন্নয়ন ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম কারণ হলো দুর্নীতি। বরাদ্দ সঠিকভাবে ব্যয় না হলে সাধারণ মানুষ সুফল পায় না। জামায়াতে ইসলামের রাজনীতির মূল ভিত্তি হলো আল্লাহভীতি ও জবাবদিহিতা। ক্ষমতা একটি আমানত এই বিশ্বাস থেকেই আমরা দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতিতে বিশ্বাস করি।'
সভা শেষে তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে জলাবদ্ধতা নিরসন, ওয়ার্ডভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা, আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা, পরিবেশ রক্ষা ও দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়ন তার প্রধান অগ্রাধিকার হবে।'ক্ষমতা নয়, আমি দায়িত্ব চাই। একটি বাসযোগ্য, পরিচ্ছন্ন ও মানবিক চট্টগ্রাম গড়াই আমার লক্ষ্য।
মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দসহ নগরে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন