

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)-তে চলমান ১৮তম বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক, প্যাকেজিং ও প্রিন্টিং শিল্প মেলার দ্বিতীয় দিনে বৃহস্পতিবার প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং শিল্পের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সেমিনার দুটি যৌথভাবে আয়োজন করে প্লাস্টিক প্রোডাক্টস বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (পিপিবিপিসি), এসএমই ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ)।
দিনের প্রথম সেমিনারের বিষয় ছিল ‘প্যাকেজিং খাতে রপ্তানি সম্ভাবনা ও সম্ভাব্য পণ্য চিহ্নিতকরণ’। এতে Keynote Speaker হিসেবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. ওয়াসেল বিন শাদাত (PhD), ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার এবং সহকারী অধ্যাপক, ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
কী-নোট উপস্থাপনায় তিনি বলেন, বৈশ্বিক বাজারে প্যাকেজিং শিল্প দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং বাংলাদেশ এই খাতে বড় ধরনের রপ্তানি সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্যাকেজিং, পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশ নতুন বৈদেশিক বাজারে প্রবেশে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে রপ্তানিযোগ্য পণ্য চিহ্নিতকরণ ও বাজারভিত্তিক গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
একই দিনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিনারে আলোচ্য বিষয় ছিল ‘এসএমই প্রবৃদ্ধি কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্লাস্টিক খাত উন্নয়ন নীতি’। এতে Keynote Speaker হিসেবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকৌশলী মো. এলিয়াস হোসেন, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, গ্রিন ওয়াচ কনসালট্যান্টস লিমিটেড।
তিনি বলেন, দেশের প্লাস্টিক শিল্প মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তানির্ভর হওয়ায় এসএমই প্রবৃদ্ধি কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নীতি সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রযুক্তি আধুনিকায়ন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং সহজ অর্থায়ন নিশ্চিত করা গেলে প্লাস্টিক খাত আরও টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।
দ্বিতীয় সেমিনারের প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ড. এ. কে. এম. মাসুদ, অধ্যাপক, আইপিই, বুয়েট এবং মো. গাজী তৌহিদুর রহমান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, এফএম প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এছাড়া উভয় সেমিনারেই সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, শিল্প উদ্যোক্তা, রপ্তানিকারক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন এবং প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং শিল্পের চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।
উল্লেখ্য, চার দিনব্যাপী এই মেলায় চীন, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, যুক্তরাজ্যসহ ১৮টি দেশের ৩৯০টির বেশি ব্র্যান্ডের প্রায় ৮০০টি স্টল অংশগ্রহণ করেছে। মেলায় প্লাস্টিকের গৃহস্থালি পণ্য, প্যাকেজিং সামগ্রী, প্লাস্টিক মোল্ড, ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য, প্লাস্টিক যন্ত্রপাতি ও আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শিত হচ্ছে। মেলা প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত।
মন্তব্য করুন