কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ মে ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

‘সোজা গুলি করার’ ওপেন নির্দেশনা ছিল শেখ হাসিনার: চিফ প্রসিকিউটর

সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর। ছবি: সংগৃহীত
সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা— এমনটাই জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ‘লেথাল ওয়েপন’ ব্যবহার করে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

রোববার (১০ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে হওয়া এক কথোপকথনে শেখ হাসিনার নির্দেশনার বিষয়টি উঠে এসেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা বলেছিলেন— ‘আমার নির্দেশনা দেওয়া আছে, ওপেন নির্দেশনা দিয়ে দিছি। এখন লেথাল ওয়েপন ব্যবহার করবে, যেখানে পাবে সোজা গুলি করবে’।

তিনি বলেন, একজন সরকারপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনার এমন নির্দেশনা ছিল অমানবিক ও ভয়াবহ। এর ফলেই সারাদেশে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর প্রবণতা বেড়ে যায় এবং হাজারো মানুষ নিহত হন।

এই নির্দেশনার ভয়াবহতা তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘একজন সরকারপ্রধান যিনি এই দেশের মানুষের অভিভাবক ছিলেন, ছাত্র-জনতার মাতৃতুল্য নেত্রী ছিলেন, যার ওপরে মানুষের এতো আশা ভরসা ছিল, হয়তো এই দেশের ছাত্র-জনতা কোনোদিন চিন্তা করে নাই তিনি এইরকম একটা হুকুম তিনি দিতে পারেন। তিনি আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রীয় নানান কলাকৌশল ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু এরকম একটা ভয়াবহ আদেশ যার ফলশ্রুতিতে সারা দেশে লেথাল ওয়েপন ব্যবহারের প্রবণতা বেড়ে যায় এবং নির্বিচারে গুলি করে হাজারো মানুষকে হত্যা করা হয়।’

এদিকে এক-এগারো (১/১১) সরকারের প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তা লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়েও কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর। তাকে ওই সময়ের ডি ফ্যাক্টো গভর্নমেন্টের অন্যতম নিয়ন্ত্রক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘সে সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের নেপথ্যের মূল মহানায়ক ছিলেন তিনি। এছাড়া বিগত জুলাই আন্দোলনেও ফ্যাসিস্ট কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।’

একটি মিস কেসে তাকে অ্যারেস্ট দেখিয়ে সেফ হোমে একদিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে বলে তিনি জানান।

এছাড়া জুলাই-আগস্টের ঘটনায় থানা ও ট্রাইব্যুনালের তদন্তের মধ্যে যাতে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেজন্য পুলিশকে ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারাধীন মামলাগুলোতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) জমা না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, গুম সংক্রান্ত তথ্যের জন্য সেনাসদরে চিঠি পাঠানোর বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের 'তদন্তের প্রয়োজনে অভ্যন্তরীণ কাজ' বলে উল্লেখ করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এবার পর্দায় ভিলেন হতে চান পূর্ণিমা

চাকরি দিচ্ছে কারিতাস, বেতন ৫৫ হাজার

প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে ইট নিক্ষেপ, তদন্তে নেমেছে পুলিশ

জর্ডানের বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ট্রাম্পের সমর্থনে হুতিদের ওপর হামলা চালাল সৌদি আরব

যমুনা গ্রুপে চাকরির সুযোগ, বেতন ৩০ হাজার

বানভাসিদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানালেন রাশেদ সীমান্ত

ইকরা হবিগঞ্জে ফল উৎসব অনুষ্ঠিত

ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ দস্যুর আত্মসমর্পণ

সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে কর্মীদের মাছ চাষের নির্দেশ বিএনপি নেতার

১০

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে সায়েন্সল্যাব মোড়ে শিক্ষার্থীদের অবরোধ

১১

‘পর্দায় এমন অভিনয় করা আমিই প্রথম নই’

১২

কাতারের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

১৩

প্রথমবার ‘কামিকাজে ড্রোন বোট’ দিয়ে ইরানে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র

১৪

এদের খুঁটির জোর কোথায়? / চট্টগ্রামের ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন বিরোধীদলীয় নেতার

১৫

ঝাঁঝ বেড়েছে কাঁচামরিচের

১৬

খোয়াই বাঁধ ভেঙে তছনছ ৩০ গ্রাম, বালুখেকোদের বিরুদ্ধে মামলা

১৭

স্বর্ণের দামে ফের বড় পতন, ভরি কত?

১৮

দীর্ঘ বিরতির পর মঞ্চে ফিরছে ‘র‍্যাডক্লিফ লাইন’

১৯

এবার ইরানের পিক্যাক্স মাউন্টেনে হামলার হুমকি ট্রাম্পের

২০
X