

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আসামিরা আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন। প্রধান আসামি সোহেল বলেছেন, রামিসাকাণ্ডে ডলারও জড়িত। তিনি ডলারকে ধরার জন্য অনুরোধ করেছেন। একইসঙ্গে নিজেকে নির্দোষ ও তাকে খালাসের কথাও উল্লেখ করেন।
বুধবার (৩ জুন) বেলা ১১টা ৯ মিনিটে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আদালতে হাজির হন। এরপর আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শুরু হয়।
আদালতে হাজির করা হলে বিচারক প্রধান আসামি সোহেল রানাকে এ মামলার সব সাক্ষীর জবানবন্দি পড়ে শোনান। আদালত সোহেল রানার কাছে জানতে চান, আপনার কিছু বলার আছে কি না।
এ সময় সোহেল আদালতের উদ্দেশে বলেন, ‘স্যার আমার সঙ্গে ডলার ছিল, তাকে কেউ দেখেনি। তাকে ধরেন। আমিও দোষ করেছি। কিন্তু একা দোষী না। আমার একটা ছাওয়াল আছে। আমাকে ক্ষমা করে দেন। আমি নির্দোষ, খালাস চাই।’
এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘আরেকটা কথা আছে স্যার, আমার বউ নির্দোষ।’
এরপর আদালত আসামি স্বপ্নার কিছু বলার আছে কিনা জানতে চান। তখন স্বপ্না বলেন, ‘আমি কিছু করিনি স্যার। আমি নির্দোষ।’
বিচারক তখন প্রশ্ন করেন, আপনাকে দরজা খুলতে বলা হয়েছে। খোলেননি কেন। ভিডিও তো আছে।
তখন স্বপ্না আবার বলেন, ‘আমি কিছু করিনি, নির্দোষ আমি।’
বিচারক তাদের বক্তব্য নথিভুক্ত করেন। এরপর মামলার আত্মপক্ষ শুনানি শেষে পরবর্তী ধাপ রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামীকালের দিন ধার্য করেন।
এর আগে মঙ্গলবার রামিসার বাবা, মা, বোন, স্বজন, প্রতিবেশী প্রত্যক্ষদর্শী ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৬ জন সাক্ষ্য দেন। এরপর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করার নিবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ। আবেদন মঞ্জুর করে আদালত মামলার পরবর্তী ধাপ আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আজ দিন ধার্য করেন।
এর আগে গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছরের শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ফ্ল্যাটটিতে বসবাসকারী সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের কাছে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেন সোহেল।