কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৪, ০৬:৫৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
রূপপুর প্রকল্প

শেখ হাসিনার ৫০০ কোটি ডলার আত্মসাৎ নিয়ে মুখ খুললেন রুশ রাষ্ট্রদূত

রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার ম্যান্টিটস্কি। ছবি : সংগৃহীত
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার ম্যান্টিটস্কি। ছবি : সংগৃহীত

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে শেখ হাসিনা ৫০০ কোটি ডলার আত্মসাৎ করেছেন- এমন খবরটিকে গুজব এবং মিথ্যা বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার ম্যান্টিটস্কি।

রোববার (২৫ আগস্ট) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেন, ৫ বিলিয়ন ডলার একটি বড় অঙ্কের অর্থ, যেখানে প্রকল্পের কাজ এখনো চলমান সেখান থেকে এত বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই। কেউ পাগল নয়, এতগুলো অর্থ দিয়ে দেবে। ইটস রিউমারস অ্যান্ড কমপ্লিটলি ফলস রিউমারস।

তিনি দাবি করেন, গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনের আগেই এই গুজবের প্লট তৈরি করা হয়েছিল।

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কথা হয়েছে। আগামীতে সব ধরনের আর্থিক এবং উন্নয়ন বাংলাদেশের পাশে থাকবে রাশিয়া।

এর আগে গত ১৭ আগস্ট গ্লোবাল ডিফেন্স কর্পের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা রোসাটম মালয়েশিয়ার একটি ব্যাংকের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে এ অর্থ আত্মসাতের সুযোগ করে দেয়। যাতে মধ্যস্থতা করেন ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয় ও ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিক।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাশিয়ার সহযোগিতায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণে খরচ ধরা হয় এক হাজার ২৬৫ কোটি ডলার। প্রয়োজনের তুলনায় যা অনেক বেশি। যাতে মালয়েশিয়ার একটি ব্যাংকের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে এই বাজেট থেকে ৫০০ কোটি ডলার আত্মসাতের সুযোগ করে দেয় প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা রোসাটম। নিজের ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিকের মধ্যস্থতায় রাশিয়ার সঙ্গে এ চুক্তি করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর এ মধ্যস্থতার বিনিময়ে পাচার করা অর্থের ৩০ শতাংশ পেয়েছেন টিউলিপ সিদ্দিক, শেখ রেহানা ও পরিবারের কয়েকজন সদস্য।

২০১৩ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শেখ হাসিনার সাক্ষাতের সময় সঙ্গী ছিলেন টিউলিপ সিদ্দিক। গ্লোবাল ডিফেন্স কর্পের দাবি, সেসময় ঢাকা-মস্কোর বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তির মধ্যস্থতাও করেন তিনি।

২০০৯ সালে ‘প্রচ্ছায়া লিমিটেড’ নামে একটি ভুয়া কোম্পানি চালু করেন টিউলিপ সিদ্দিক, তার মা শেখ রেহানা ও চাচা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক। যুক্তরাষ্ট্রেও জুমানা ইনভেস্টমেন্ট নামে একটি কোম্পানি রয়েছে তাদের।

গ্লোবাল ডিফেন্স কর্পের অভিযোগ, এ কোম্পানির মাধ্যমেই বিভিন্ন দেশের অফশোর অ্যাকাউন্টে অর্থ পাচার করতেন শেখ হাসিনা। তাদের এ কোম্পানিটি ডেসটিনি গ্রুপ নামে একটি চিটিং ফান্ড কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত হয়ে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার পাচার করেছে।

উল্লেখ্য, গ্লোবাল ডিফেন্স কর্প নামে পোর্টালটি ২০১৮ সালে চালু হয়। বিভিন্ন দেশের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতে দুর্নীতির অনুসন্ধান করে থাকে তারা।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ডিআর কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসে শিশুসহ ৩০ জনের মৃত্যু

কাতারের উপহার দেওয়া বিমানই ট্রাম্পের নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে যুক্তরাষ্ট্র

ইরান যুদ্ধে না জড়ানোয় চীনকে ধন্যবাদ দিলেন ট্রাম্প

নারায়ণগঞ্জে সিএনজি-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে প্রাণ গেল শিশুর, আহত ৫

ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের উদ্যোগ নরওয়ের

বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচে বইছে তিস্তার পানি

ফিফার পেজে বাংলায় ব্রাজিল বন্দনা

রাজশাহীতে ককটেল বিস্ফোরণে পুলিশ সদস্য আহত

শনিবার দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

১০

আমার ‘আইডল’ নেইমার হলেও সর্বকালের সেরা মেসি: লামিন ইয়ামাল

১১

হাইতির বিপক্ষে যে কৌশলী একাদশ নিয়ে মাঠে নামতে পারে ব্রাজিল

১২

সকাল ৯টার মধ্যে ঝড় হতে পারে যেসব জেলায়

১৩

হাইতি ছাড়াও যে ম্যাচের সমীকরণ ব্রাজিলের মাথা ব্যাথার কারণ

১৪

কাগজে ১২৭ শ্রমিক, মাঠে ৫০-এর নিচে : খাল খননে ‘অনিয়ম’

১৫

পরীক্ষার্থীদের জন্য তুরস্কে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখানো বন্ধ

১৬

যুক্তরাষ্ট্রে শত শত গোয়েন্দা কর্মীকে বহিষ্কারের পরিকল্পনা 

১৭

পুরোনো ভিডিও দিয়ে নোয়াখালীতে গুজব ছড়াচ্ছে আ.লীগ : পুলিশ

১৮

ব্রাজিলের বিপক্ষে হাইতি দৌড়াবে, স্বপ্ন দেখবে : কোচ মিনিয়ের বার্তা

১৯

৪৮ দলের বিশ্বকাপে সেরা ৩২: তৃতীয় হওয়া ৮ দল উঠবে যে নিয়মে

২০
X