

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন প্রেসিডেন্টীয় বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা বোয়িং ৭৪৭-৮ উন্মোচন করেছেন। প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই বিলাসবহুল বিমানটি গত বছর কাতার সরকারের উপহার হিসেবে গ্রহণ করে যুক্তরাষ্ট্র।
শুক্রবার (১৯ জুন) ওয়াশিংটনের বাইরে অবস্থিত জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ সামরিক ঘাঁটির একটি হ্যাঙ্গারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বিমানটি প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে প্রদর্শন করেন। বিমান থেকে নেমে তিনি বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং উপস্থিত সেনাসদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।
ট্রাম্প বলেন, এ ধরনের আরেকটি বিমান কখনো হবে না। এটি সত্যিই অনন্য। এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল বিমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যখন এটি নির্মাণ করা হয়েছিল, তখন এমন মানে তৈরি করা হয়েছিল যা হয়তো আর কখনও দেখা যাবে না।
তিনি জানান, নতুন বিমানটির আকার এত বড় যে এটি রাখার জন্য বিশেষভাবে একটি হ্যাঙ্গার নির্মাণ করতে হয়েছে। আগামী ৪ জুলাই, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ওয়াশিংটনে আয়োজিত বিশেষ উড়াল প্রদর্শনীর নেতৃত্বও দেবে এই বিমান।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, বিমানটি শিগগিরই চূড়ান্ত পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন শুরু করবে। এই ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হলেই প্রেসিডেন্টের সরকারি যাতায়াতে বিমানটি ব্যবহারের অনুমোদন পাবে।
বিমানবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন লাল-সাদা-নীল রঙের নকশা এবং প্রয়োজনীয় সরকারি প্রযুক্তিগত পরিবর্তন শেষে বিমানটি এখন প্রেসিডেন্টের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রস্তুত। এতে প্রেসিডেন্টীয় দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় অত্যাধুনিক নিরাপত্তা ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে।
তবে বিমানটির অভ্যন্তরীণ নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়নি। ফলে এর বিলাসবহুল চামড়ার আসন এবং অভিজাত সাজসজ্জা বহাল রয়েছে।
বিমানবাহিনী আরও জানায়, নতুন মডেলের জন্য পাইলট ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে গত বছর একটি বোয়িং ৭৪৭-৮ লিজ নেওয়া হয়েছিল। একইসঙ্গে প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে লুফথানসার ব্যবহৃত আরেকটি ৭৪৭-৮ বিমানও কেনা হয়।
নতুন বিমানটি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত সামরিক মানের বোয়িং ৭৪৭-২০০ মডেলের এয়ার ফোর্স ওয়ানের স্থলাভিষিক্ত হবে। ইউরোপ সফর শেষে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প পুরোনো বিমানেই দেশে ফেরেন। পরে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা সামাজিক মাধ্যমে বিমানটির বিদায়ী বার্তা প্রকাশ করেন।
বিদেশি সরকারের কাছ থেকে এমন উপহার গ্রহণ নিয়ে স্বার্থের সংঘাত ও নিরাপত্তা ঝুঁকির যে সমালোচনা উঠেছে, তা বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছেন ট্রাম্প। গত এক বছরে কাতারের উপহার দেওয়া বিমানটিকে প্রেসিডেন্টীয় ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে।
গত বছর ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছিলেন, যখন একটি দেশ আমাদের ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিনামূল্যে বিমান দিতে চায়, তখন কেন সামরিক বাহিনী এবং করদাতাদের শত শত মিলিয়ন ডলার খরচ করতে হবে? দেশের পক্ষ থেকে এই উপহার গ্রহণ না করলে সেটি হবে বোকামি।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, ২০২৮ সালে বোয়িংয়ের নতুন প্রেসিডেন্টীয় বিমানবহর সরবরাহ না হওয়া পর্যন্ত কাতারের দেওয়া এই বিমানটি ব্যবহার করা হবে।
নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানের বাজারমূল্য প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া বিমানটিকে প্রেসিডেন্টীয় ব্যবহারের উপযোগী করতে আরও কয়েকশ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।
সূত্র : সিবিএস নিউজ