এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় মাঠে সেনাবাহিনী

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা রক্ষায় সেনাবাহিনী বাংলাদেশের অন্যতম আস্থার প্রতীক। যুদ্ধকালীন বীরত্বের ইতিহাসের পাশাপাশি শান্তিকালেও এই বাহিনী বারবার প্রমাণ করেছে—জাতীয় সংকটে তারা কেবল প্রস্তুতই নয়, দায়িত্বশীল ও সংযত ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে সক্ষম। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা এবং রাষ্ট্রীয় স্থিতি বজায় রাখতে মাঠপর্যায়ে সেনাবাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি ইতিবাচক বার্তাই বহন করে।

দেশে যখন সামাজিক অস্থিরতা, সহিংসতার আশঙ্কা কিংবা বড় কোনো জাতীয় আয়োজনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়, তখন বেসামরিক প্রশাসনের সহায়ক শক্তি হিসেবে সেনাবাহিনীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সংবিধান ও আইনের আলোকে, নির্ধারিত সীমার মধ্যে থেকে সেনাবাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করে—এটাই বাংলাদেশের চর্চা। এই সহায়তামূলক ভূমিকার মূল লক্ষ্য শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং পরিস্থিতি শান্ত রাখা, ভয়ভীতি দূর করা এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বর্তমানে মাঠপর্যায়ে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম বহুমাত্রিক। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সরকারি অফিস, পরিবহন কেন্দ্র ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এতে করে অপরাধপ্রবণতা কমার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি হচ্ছে। সেনা সদস্যদের শৃঙ্খলাবদ্ধ উপস্থিতি অনেক ক্ষেত্রেই উত্তেজনা প্রশমনে কার্যকর ভূমিকা রাখছে—যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক।

এছাড়া, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বিতভাবে চেকপোস্ট পরিচালনা, সন্দেহভাজন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া টিম (কুইক রেসপন্স) গঠন করে সেনাবাহিনী পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সক্ষমতা সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্বেরই প্রমাণ। এই সমন্বিত উদ্যোগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকারিতা বাড়িয়েছে।

সেনাবাহিনীর মাঠপর্যায়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানবিক সহায়তা ও জনসম্পৃক্ততা। কোথাও সহিংসতা বা অস্থিরতায় সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেনা সদস্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা, নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং জরুরি সহায়তা প্রদানে এগিয়ে আসেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সেনাবাহিনীর অভিজ্ঞতা এখানে কাজে লাগে—যা শান্তিকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সময়েও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে জোরদার করে।

নির্বাচন বা বড় জাতীয় ইভেন্টের সময় সেনাবাহিনীর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যেতে পারেন, কেউ যেন ভয়ভীতি বা সহিংসতার শিকার না হন—সে লক্ষ্যে সেনাবাহিনী দায়িত্বশীল অবস্থান নেয়। মাঠে তাদের উপস্থিতি অনেক সময়ই প্রতিরোধমূলক ভূমিকা পালন করে, সহিংসতা ঘটার আগেই পরিস্থিতি শান্ত রাখে। এতে করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ে।

সমালোচনার ঊর্ধ্বে উঠে বলা যায়, সেনাবাহিনী সবসময়ই বেসামরিক প্রশাসনের সাথে কাজ করেছে এবং আইন ও শৃঙ্খলার সীমা মেনেই দায়িত্ব পালন করেছে। রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, মানবাধিকার সম্মান করা এবং জনগণের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ—এই নীতিগুলো মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান। ফলে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ইতিবাচক জনমত গড়ে উঠছে, যা রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

আজকের বিশ্ব বাস্তবতায় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কেবল একটি বাহিনীর পক্ষে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সমন্বয়, আস্থা ও পেশাদারিত্ব—এই তিনের সমন্বয়েই স্থিতিশীলতা আসে। সেনাবাহিনী সেই সমন্বয়ের একটি শক্ত ভিত্তি। মাঠে তাদের কার্যক্রম আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে শুধু নিয়ন্ত্রণেই রাখছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক আস্থার পরিবেশ তৈরি করছে।

সবশেষে বলা যায়, দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় মাঠে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি একটি সময়োপযোগী ও দায়িত্বশীল উদ্যোগ। এটি কোনো বিকল্প শাসনব্যবস্থা নয়, বরং সংবিধানসম্মত সহায়ক শক্তি হিসেবে জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্থিতির পক্ষে কাজ করছে। এই ইতিবাচক ভূমিকা অব্যাহত থাকলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুসংহত হবে এবং জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হবে—যা একটি স্থিতিশীল, নিরাপদ ও আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য।

কালবেলা/এমএ
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিশ্বকাপে ‘পাতানো ম্যাচ’ নিয়ে ফিফার প্রতিবেদন প্রকাশ

ফিলিস্তিনি বন্দি রাখা কারাগারের চারপাশে কুমিরের পরিখা খনন শুরু করেছে ইসরায়েল

৫ বছরে ছানিজনিত অন্ধত্ব নির্মূলের ঘোষণা স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

বিশ্ববাজারে কমলো স্বর্ণের দাম

ইকনকে লাখ টাকা দিল কৃষি ব্যাংক, সঙ্গে মাসব্যাপী ছুটি

১৮ হাজার মাখলুকাত বলা কি সঠিক? জানালেন ইসলামি স্কলার

বি-১ বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের খবর জানিয়ে সিইসি-স্পিকারকে জামায়াতের চিঠি

বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ল বিরল ‘প্যারটফিশ’

বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার এখন কে

১০

স্কুলছাত্রী ঝুমা হত্যায় আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১৯ কার্যদিবসে বিচার শেষ

১১

‘চোখের বদলে চোখ’, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

১২

শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের দাবি উড়িয়ে দিলেন রাষ্ট্রপতি

১৩

আগামীকালই পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি

১৪

চট্টগ্রাম বোর্ডে পুনরায় শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

১৫

‘এখানে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই’, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৬

পিরোজপুরে জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ের সামনে আগুন

১৭

শিক্ষার্থী বিক্ষোভে দিল্লির ১৬ মেট্রো স্টেশন বন্ধ

১৮

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসন নিয়ে চীনের প্রতিক্রিয়া

১৯

সীমান্তে ৭ পুশইন: দুজনের খোঁজ মিলেলেও নিরুদ্দেশ ৫

২০
X