

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি। দেশের ভূ-তাত্ত্বিক ইতিহাসের এক ব্যতিক্রমী মাস। এ মাসে মাত্র ২৬ দিনেই ভূমিকম্প হয়েছে আটবার। বড় কোনো ভূমিকম্পের আভাস হিসেবে দেখা যায় এই ঘটনাকে। এ ছাড়া বাংলাদেশের ভূ-তাত্ত্বিক অবস্থানের কারণেও একে আলাদা গুরুত্ব দিতে হয়।
ভূতত্ত্ববিদরাও তাই সতর্ক বার্তা দিচ্ছেন। ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, এই ঘন ঘন কম্পন বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বলক্ষণ হতে পারে। বাংলাদেশ ভারতীয় এবং ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে বড় ধরনের ভূ-অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা বিরাজ করছে। তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন শক্তি জমা হয়ে থাকলে তা বড় বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।
যদি বড় ধরনের কোনো ভূমিকম্প অনুভূত হয়, তাহলে ঝুঁকিতে পড়বে রাজধানী ঢাকা। কারণ, মেগা সিটিটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ। এ ছাড়া শহরটির অনেক ভবন বিল্ডিং কোড মেনে তৈরি হয়নি। ফলে বড় ভূমিকম্প হলে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
সেজন্য সময়ের আগেই সবাইকে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। এক্ষেত্রে শুধু উদ্ধার তৎপরতা নয়; বরং বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে অনুসরণ করা এবং ভূমিকম্প-সহনশীল স্থাপনা নির্মাণ করাতেও জোর দিচ্ছেন তারা। এ ছাড়া নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা ও নিয়মিত মহড়া বড় দুর্যোগে প্রাণহানি কমাতে সাহায্য করতে পারে। সেজন্য ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেওয়া যেতে পারে।
সতর্কতার বিষয় হলো, ভূমিকম্পে আগে থেকে পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়। বরং ছোট কম্পন দেখে ঝুঁকি আঁচ করে নিতে হয়। কখনো যদি ভূমিকম্পের সময় ঘরের ভেতরে থাকা হয়, তাহলে ‘ড্রপ, কভার অ্যান্ড হোল্ড অন’ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। শক্ত টেবিল বা খাটের নিচে আশ্রয় নিতে হবে এবং কাঁচের জানালা থেকে দূরে থাকতে হবে।
অবশ্য শহরের চেয়ে পাহাড় বা সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বেশি। কারণ, ভূমিকম্প হলে পাহাড়ী অঞ্চলে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ে এবং সমুদ্র উপকূলে সুনামির আশঙ্কা তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, মাসের শুরু থেকেই দেশজুড়ে ধারাবাহিকভাবে ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে। ১ ফেব্রুয়ারি সিলেটে ৩ মাত্রার মৃদু কম্পন দিয়ে শুরু হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি একই দিনে তিনবার ভূকম্পন অনুভূত হয়। এর মধ্যে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ৪.১ মাত্রা এবং মিয়ানমারে ৫.৯ ও ৫.২ মাত্রার দুটি কম্পন ছিল। এরপর ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেটে আরও দুবার এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতকে ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। সব মিলিয়ে ২৬ দিনে আটবার কেঁপেছে দেশ।