কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬, ০১:০২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক

এলজিইডি। ছবি : কালবেলা গ্রাফিক্স
এলজিইডি। ছবি : কালবেলা গ্রাফিক্স

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী পদে আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন মো. আব্দুর রশীদ মিয়া। অনিয়ম-দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ মাথায় নিয়ে অবসরে গেলেও ফের এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে চলতি দায়িত্বে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন তিনি। সেসময় ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে অবসরে যান। বিএনপি সরকার অবসর থেকে নিয়ে এসে রশীদ মিয়াকে আবার প্রধান প্রকৌশলী করেছেন। ২৪ মার্চ তাকে নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এলজিইডি সূত্র বলছে, প্রকৌশলী রশীদ মিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির কয়েকটি অভিযোগের তদন্ত চলমান। অথচ ফের একই পদে তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।

তারা বলছেন, আব্দুর রশীদ মিয়া আওয়ামী লীগ আমলেও সুবিধাভোগী ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও তিনি পদোন্নতি এবং এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। সব আমলে সুবিধাভোগী একজনকে নতুন সরকার ফের এ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ায় যোগ্য কর্মকর্তারা বঞ্চিত হয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলজিইডির এক প্রকৌশলী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভিন্নমতের প্রকৌশলীরা সবসময়ই বঞ্চিত ছিলেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিএনপি-জামায়াত ট্যাগ দিয়ে তাদের ডাম্পিং পোস্ট দেওয়া হতো। হাজারের বেশি মানুষ রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদ বিদায় করলো, কিন্তু এলজিইডি থেকে তার দোসরদের বিদায় করতে পারলাম না।

আরেক প্রকৌশলী বলেন, আব্দুর রশীদ মিয়া আওয়ামী লীগের আমলে সুবিধাভোগী। অন্তর্বর্তী সরকারও তাকে পুরস্কার দিয়েছে। আর বিএনপি সরকার এসে অবসর ভাঙিয়ে আবার তাকে চিফ ইঞ্জিনিয়ার পদে বসালো। তিনি যে আবার চিফ হবেন, এটা আমরা স্বপ্নেও ভাবিনি।

দুদক সূত্রে জানা যায়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে ২০২৩ সাল থেকে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। এর পরের বছর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থেকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পান তিনি। অভিযোগের কোনো সুরাহা না হলেও অন্তর্বর্তী সরকার তাকে চলতি দায়িত্বে প্রধান প্রকৌশলী পদে বসায়। এরপর বর্তমান সরকার এসে তাকে আবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়। যদিও পরে আদেশ স্থগিতের কথা জানানো হয়।

অভিযোগ রয়েছে, এলজিইডির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে নিয়োগ-বাণিজ্য, বদলি-বাণিজ্য এবং ঠিকাদারি সিন্ডিকেট পরিচালনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন আব্দুর রশীদ মিয়া। তিনি এলজিইডির বিভিন্ন পদে থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রকল্প বরাদ্দ নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং বরাদ্দের বড় অংশ তার ঘনিষ্ঠদের হাতে চলে যেতো।

রশীদ মিয়ার স্ত্রী ফাতিমা যাকিয়াহ ও আত্মীয়দের নামে পরিচালিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো ১ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রকল্পে কাজ পেয়েছে। অভিযোগ আছে, প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া প্রভাবিত করা, প্রতিযোগীদের তুলনায় তাদের বেশি অর্থ বরাদ্দ করা এবং সুনির্দিষ্ট ঠিকাদারি গোষ্ঠীর মাধ্যমে প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

এর আগেও তৃতীয় গ্রেডের এই কর্মকর্তাকে সিনিয়রিটি না মেনে প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। বিতর্কিত এই কর্মকর্তার নিয়োগের বিষয় পুনর্বিবেচনা করার দাবি এলজিইডির সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীর।

দুদকের অভিযোগ থেকে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকাসহ রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ায় আব্দুর রশীদ মিয়ার নামে একাধিক সম্পদ রয়েছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডিতে ছয়তলা বাড়ি এবং গুলশান, বনানী ও বসুন্ধরায় ফ্ল্যাট এবং প্লট রয়েছে। রাজশাহীতে পাঁচ ও সাততলা দুটি বাড়ি এবং একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে তার নামে। সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে ফুড গার্ডেন নামে ব্যবসা চালাচ্ছেন, পাশাপাশি বগুড়ার শেরপুর, হিমছায়াপুর ও শাহবন্দেগী ইউনিয়নে বিশাল জমি ও বাগানবাড়ি রয়েছে।

এদিকে, রশীদ মিয়ার অনিয়ম-দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিষ্পত্তির আগেই ফের তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ায় দুর্নীতিকে উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিষয়টি অবাক হওয়ার মতো। যে সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, সেই সরকার এমন একজন ব্যক্তিকে নিয়োগ দেবে, এটা অগ্রহণযোগ্য। যদি এমন হতো যে তার চেয়ে যোগ্য আর কেউ নেই অথবা দুর্নীতির অভিযোগ ছাড়া কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তাহলে এটা ঠিক বলা যেতো।

তিনি বলেন, ‘কোনোভাবেই এ সরকার তাকে নিয়োগ দিতে পারে না। এই নিয়োগ পুনর্বিবেচনা করা দরকার। এলজিইডি এমনিতেই দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান। এখানে বর্তমান কর্মকর্তাদের মধ্যে দুর্নীতিমুক্ত কাউকে নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অসত্য অভিযোগ সামনে এনে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করছে একটি মহল। সরকার সব দিক যাচাই করেই আমাকে নিয়োগ দিয়েছে। কারা কি বলছেন, তা নিয়ে আমি ভাবছি না। সরকার দায়িত্ব দিয়েছে, কাজ করবো। আবার সরকার যখন বলবে চলে যাবো।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ছবি প্রকাশ করলেন রাশেদ খান / সরকার পতনের পর আ. লীগ নেতাদের সঙ্গে কয়েক ধাপে মিটিং হান্নান মাসউদের

বজ্রপাতে সারা দেশে প্রাণ গেল ১২ জনের

অবিলম্বে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম কমানোর দাবি এনসিপির

দাবি এমপি শওকতুলের / শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান নোবেল পাওয়ার যোগ্য

আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন অভিনেতা আলভীর মা

কোটি টাকার ইয়াবাসহ কোস্টগার্ডের হাতে ৪ জন আটক

২২ বলের ফিফটিতে দিলারার রেকর্ড

বিশ্বকাপের আগে ব্যালন ডি’অর জয়ের তালিকায় এগিয়ে যারা

‘জনগণ ভাবছে সরকার ভোট নয়, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে নির্বাচিত’

নজরদারিতে আইভী রহমান, বাড়ির সামনে বসানো হলো সিসিটিভি

১০

প্রশ্ন গোলাম পরওয়ারের / এখনই ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিচ্ছে, ৫ বছরে কী হবে

১১

গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

১২

সামরিক পরাজয়ের পর শত্রুরা গুপ্ত যুদ্ধে নেমেছে : মোজতবা খামেনি

১৩

২ দায়িত্ব একসঙ্গে পালনের নজির আছে, জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

১৪

এক দলে দুই পতাকা! / ইরাকের জার্সিতে বিশ্বকাপ মাতাবেন ‘রাষ্ট্রহীন’ ৪ ফুটবলার!

১৫

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে নারীসহ ৬ জনের মৃত্যু

১৬

স্ত্রীকে হত্যার পর রক্তাক্ত মরদেহ কাঁধে হাসপাতালে স্বামী

১৭

তীব্র গরম কবে কমবে, জানাল আবহাওয়া অফিস

১৮

আফগানিস্তান সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন কোহলি!

১৯

লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ২ বাংলাদেশি আহত

২০
X