

অন্যপ্রান্তে ব্যাটাররা ছিলেন যাওয়া-আসার মিছিলে। টানা উইকেট পড়ার চাপ থাকলেও রহমানউল্লাহ গুরবাজ ভাবনা ছিল ভিন্ন কিছু। ভারতের বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণে মারলেন একের পর এক বাউন্ডারি আর চোখের পলকে তুলে নিলেন নিজের সেঞ্চুরি।
ধর্মশালায় শনিবার ভারতের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে মারকাটারি ব্যাটিংয়ে মাত্র ৪৮ বলে সেঞ্চুরি করেছেন গুরবাজ। আফগানিস্তানের হয়ে এটিই দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি এটি।
আফগানদের হয়ে এতদিন দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল মোহাম্মদ শাহজাদ ও করিম সাদিকের। ২০১০ সালে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শাহজাদ ও ২০১২ সালের নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সাদিক ৭২ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন।
তাদের চেয়ে অনেক কম বল খেলেই ভারতের বিপক্ষে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেছেন গুরবাজ। ওয়ানডেতে ভারতের বিপক্ষে এর চেয়ে কম বলে সেঞ্চুরি আছে শুধু শহিদ আফ্রিদির। ২০০৫ সালে কানপুরে ৪৫ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন পাকিস্তানি অলরাউন্ডার।
সব মিলিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড এবি ডি ভিলিয়ার্সের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০১৫ সালে মাত্র ৩১ বলে তিন অঙ্ক স্পর্শ করেছিলেন মি. ৩৬০ ডিগ্রি খ্যাত এই ব্যাটার।
ধর্মশালায় বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে শুরু হয় খেলা। ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমে আসে ইনিংসে ২৫ ওভার করে। কন্ডিশনের সুবিধা কাজে লাগাতে টস জিতে আফগানিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠান ভারতের অধিনায়ক শুবমান গিল।
ভারতের অভিষিক্ত পেসার গুরনুন ব্রার ও আর্শদিপ সিংয়ের তোপে ৫ ওভারের মধ্যে ড্রেসিং রুমে ফিরে যান ইব্রাহিম জাদরান (১), সেদিকউল্লাহ অতল (০) ও রহমত শাহ (৩)। মাত্র ২৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপেই পড়ে যায় সফরকারীরা।
তবে গুরবাজের পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন। রক্ষণের বদলে পাল্টা আক্রমণ করেই চাপ দূর করেন ২৪ বছর বয়সী এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে মাত্র ২৫ বলে তিনি পূর্ণ করেন নিজের ফিফটি।
ওয়ানডেতে আফগানিস্তানের হয়ে এটি দ্বিতীয় দ্রুততম ফিফটি। ২০২৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৪ বলে ফিফটি করেছিলেন মোহাম্মদ নবি। এরপর একই গতিতে এগোতে থাকেন আফগান ওপেনার। একের পর এক বাউন্ডারির সৌজন্যে সব মিলিয়ে ৮ চার ও ৮ ছক্কায় মাত্র ৪৮ বলেই করে ফেলেন সেঞ্চুরি।
তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পর অবশ্য আর টিকতে পারেননি। নিতিশ কুমার রেড্ডির ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে ফেরেন ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরিতে মাত্র ৫১ বলে ১০২ রান করা গুরবাজ।