কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম
আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে আইনের শাসনের বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী

ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে আইনের শাসন প্রয়োজন
ছবি : কালবেলা

গণতান্ত্রিক যাত্রা সুসংহত করতে রাষ্ট্রে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, যে রাষ্ট্রে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং মানবাধিকার নেই, সেই দেশ কখনোই একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র হতে পারে না। দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর বাংলাদেশের জনগণ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। এই গণতান্ত্রিক যাত্রা সুসংহত করতে রাষ্ট্রে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ন্যায়বিচার সবার জন্যই প্রযোজ্য। একজন মানুষও যাতে অর্থের অভাবে এক্সেস টু জাস্টিস থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার লিগ্যাল এইড কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। কোনো ভুক্তভোগী যেন টাকার অভাবে আইনজীবীর সহায়তা নিতে না পারেন, এমনটা হতে দেওয়া হবে না। আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের জন্য এক্সেস টু জাস্টিস নিশ্চিত করতে সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ন্যায়বিচার শুধু আইনের বইয়ে সীমাবদ্ধ নয়। এটি প্রতিটি মানুষের জীবনে বাস্তব হয়ে উঠুক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। ন্যায়বিচার কেবল আদালতকেন্দ্রিক কোনো প্রক্রিয়া নয়, এটি একটি জীবন্ত মূল্যবোধ, যা রাষ্ট্রের প্রতিটি নীতি, সিদ্ধান্ত ও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘ন্যায়পরায়ণতা তখনই অর্থবহ হয়, যখন আইন মানুষের ওপর প্রয়োগের যান্ত্রিক উপায় না হয়ে তাদের মর্যাদা রক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করার নৈতিক অঙ্গীকারে পরিণত হয়। ন্যায়বিচার প্রাপ্তি প্রতিটি মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। সেই অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার লিগ্যাল এইড প্রদান অব্যাহত রেখেছে এবং এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বিধি-বিধানের সংশোধন করা হয়েছে।’

রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এর আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে সেরা প্যানেল আইনজীবী হিসেবে ঢাকার সায়েম খান ও রাজশাহীর নীলিমা বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ক্রেস্ট ও সম্মাননা গ্রহণ করেন।

এ ছাড়া সারাদেশে লিগ্যাল এইড কার্যক্রম এগিয়ে নিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি সেল’ ব্র্যাক-কে মনোনীত করা হয়। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মাননা পত্র ও ক্রেস্ট গ্রহণ করেন।

লিগ্যাল এইড ব্যবস্থায় মামলা নিষ্পত্তি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সারা বিশ্বে একটি কথা প্রচলিত, জাস্টিস ডিলেড ইজ জাস্টিস ডিনাই, অর্থাৎ বিচার বিলম্ব মানেই বিচার অস্বীকার। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে মামলার আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় বহু বিরোধ স্বল্প সময় ও কম খরচে আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। এতে আদালতের ওপর চাপ কমেছে এবং সরকারের ব্যয়ও হ্রাস পেয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অনেক সময় মানুষ প্রাথমিকভাবে সঠিক আইনি পরামর্শ না পাওয়ায় ছোট বিরোধ বড় আকার ধারণ করে। ফলে অনেকেই বিচারবিমুখ হয়ে পড়েন। তাই সহজে আইনি পরামর্শ পাওয়ার জন্য লিগ্যাল এইড হেল্পলাইন আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশা করি।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি মানুষের মনে এমন বিশ্বাস থাকতে হবে যে, রাষ্ট্র তাদের পাশে রয়েছে। লিগ্যাল এইড সেই বিশ্বাসেরই প্রতিফলন। আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি ন্যায়ভিত্তিক মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলি, যেখানে ন্যায়বিচারই হবে শেষ কথা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, এক্সেস টু জাস্টিস প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। কোনো নাগরিক অর্থের অভাবে আইনের আশ্রয় বা ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত থাকবে, এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আমাকেও দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হয়েছে। সেখানে আমি দেখেছি, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক মানুষ বছরের পর বছর বিনা বিচারে কারাগারে থাকেন। একজন মানুষ অর্থের অভাবে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়া কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি বলেন, ‘যেকোনো রাষ্ট্র ও সমাজের অগ্রগতি ও শান্তির ভিত্তি হলো ন্যায়বিচার। মানুষ সব সময় বৈষম্যহীন সমাজ চায়, যেখানে তারা সমমর্যাদা ও অধিকার নিয়ে বসবাস করতে পারে। সমতা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক আস্থা, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘ন্যায়বিচার শুধু আদালত বা আইনের বিষয় নয়। এটি একটি মানবিক ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল শক্তি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মানুষের ন্যায়বিচারপ্রাপ্তি সহজ করতে লিগ্যাল এইড কার্যক্রম চালু করেন।’

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং আইনগত সহায়তা অধিদফতরের মহাপরিচালক মনজুরুল হাসান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কলকাতায় মোশাররফ করিমের ওপর হামলার গুঞ্জন, যা বললেন স্ত্রী জুঁই

মাতারবাড়ী সংযোগ সড়ক প্রকল্পে বালু উত্তোলনে অনিয়মের অভিযোগে হাইকোর্টে রিট

দেড় বছরেও মেলেনি বেতন, সংকটে গোবিপ্রবির খণ্ডকালীন শিক্ষকরা

বিজনেস এলিট ক্লাবের নতুন প্রেসিডেন্ট ড. মো. সাদী-উজ-জামান

তেলের মূল্যের পূর্বাভাস কমাল বড় বিনিয়োগ ব্যাংকগুলো

পুলিশের সামনেই আ. লীগের মিছিল, আটক ৪

নিখোঁজের একদিন পর ভুট্টা ক্ষেতে মিলল শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ  

শিশু হত্যা : অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন 

জাবিতে জুলাইয়ে হামলা : শাস্তি কমলো নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৬ নেতাকর্মীর

ইতিহাস বদলানোর লক্ষ্যে বিশ্বকাপে নামছে আর্জেন্টিনা

১০

ঘোষিত বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি স্থগিত করল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস

১১

যুবদল নেতা মাকসুদ হত্যায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা 

১২

তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি / তাইম হত্যায় যেভাবে আসামি করা হয় ১১ পুলিশ সদস্যকে

১৩

পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের, পুশআউট বিজিবির

১৪

সব মামলায় জামিন আবুল বারকাত, কারামুক্তিতে বাধা নেই

১৫

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির খবরে টানা চতুর্থ দিনে বাড়ল স্বর্ণের দাম

১৬

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় : আপিল শুনানি ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মুলতবি

১৭

বিয়ের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক হচ্ছে অনলাইন জন্মনিবন্ধন

১৮

বিশ্বরেকর্ড গড়ল কেপ ভার্দে

১৯

নামাজে রুকু না পেলে অধিকাংশ মানুষ যে ভুল করেন

২০
X