

ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ নামাজ। নামাজের জামাতে শরিক হওয়া প্রতিটি মুসলমানের জন্য অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। তবে দৈনন্দিন ব্যস্ততা বা অন্য কোনো কারণে অনেক সময় আমরা জামাতের শুরু থেকে নামাজে শরিক হতে পারি না। মসজিদে প্রবেশ করে যখন দেখা যায় ইমাম সাহেব নামাজের কোনো একটি পর্যায়ে আছেন, তখন তড়িঘড়ি করে শরিক হওয়ার চেষ্টা করি আমরা। কিন্তু এই শরিক হওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সমাজে একটি ভুল প্রচলিত রয়েছে, যা সংশোধন করা জরুরি।
এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার। নিচে তার আলোচনাটি তুলে ধরা হলো।
ভুলটি আসলে কী?
নামাজের জামাতে শরিক হতে গিয়ে আমরা প্রায়ই দেখি ইমাম সাহেব রুকু শেষ করে দাঁড়িয়ে গেছেন কিংবা সিজদায় চলে গেছেন। মাসয়ালা অনুযায়ী, ইমাম সাহেবকে রুকুতে পাওয়া গেলে ওই রাকাত পাওয়া হয়েছে বলে গণ্য হয়। কিন্তু যদি কোনো মুসল্লি ইমাম সাহেবকে রুকুতে না পান, তবে তিনি মনে করেন এই রাকাত তো আর পাওয়া হলো না, তাই তিনি আর নামাজে শরিক হন না। ইমাম সাহেব সিজদা শেষ করে যখন পরবর্তী রাকাতের জন্য দাঁড়ান, ততক্ষণ পর্যন্ত ওই ব্যক্তি একপাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। এই যে ইমামের সঙ্গে নামাজে শরিক না হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা—এটাই হলো ভুল।
শরয়ি বিধান ও সঠিক নিয়ম
শরিয়তের বিধান হলো, নামাজের জামাতে ইমামকে যে অবস্থায় পাওয়া যাবে, ঠিক সে অবস্থাতেই নামাজে শরিক হওয়া উত্তম। আপনি যদি দেখেন ইমাম সাহেব সিজদায় আছেন, তবে আপনি সেখানেই আল্লাহু আকবার বলে নিয়ত বেঁধে সরাসরি সিজদায় চলে যাবেন। যদিও রুকু না পাওয়ার কারণে আপনার ওই রাকাতটি গণ্য হবে না এবং ইমামের সালাম ফেরানোর পর আপনাকে ওই রাকাতটি পুনরায় পড়তে হবে, তবুও দাঁড়িয়ে না থেকে ইমামের সাথে যুক্ত হওয়াটাই নিয়ম।
দাঁড়িয়ে না থেকে শরিক হওয়ার ফজিলত
কেন আমরা দাঁড়িয়ে না থেকে ইমামের সাথে সিজদায় বা অন্য অবস্থানে শরিক হব? এর বেশ কিছু ফজিলত ও যৌক্তিক কারণ রয়েছে:
আমাদের করণীয়
পরবর্তীতে যখন আমরা মসজিদে যাব এবং ইমাম সাহেবকে রুকু পরবর্তী কোনো অবস্থায় পাব, তখন অলসভাবে দাঁড়িয়ে না থেকে দ্রুত জামাতে শরিক হয়ে যাব। রাকাত না পাওয়ার আফসোস না করে বরং ওই মুহূর্তের ইবাদতে নিজেকে শামিল করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখতে হবে, নামাজের প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান এবং আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের জন্য সিজদাহ হলো শ্রেষ্ঠতম মাধ্যম।