কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ০১:১০ পিএম
আপডেট : ০৭ জুন ২০২৬, ০১:২৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

৬ কার্যদিবসের মধ্যে রামিসা হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন, ইতিহাসে প্রথম: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, কার্যত ছয় কার্যদিবসের মধ্যে রামিসার মতো একটি বেদনাদায়ক ঘটনার বিচার সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম।

রোববার (৭ জুন) রামিসা হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর সচিবালয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের উপমহাদেশের ইতিহাসে ১৮৮২ সালে নদীয়ার একটি ঘটনায় নদীয়া সেশন কোর্টে মুল্লুক চাঁদ নামে এক ব্যক্তি তার নয় বছর বয়সী কন্যাকে হত্যার মামলার বিচার একদিনে সম্পন্ন হয়েছিল। এরপর এত দ্রুত বিচার আর সম্ভব হয়নি। আমরা আইনের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করে মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন করেছি। ঘোষিত শাস্তিতে আমরা আপাতত সন্তুষ্ট। আশা করি, উচ্চ আদালতেও এ রায় বহাল থাকবে।

এর আগে বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে ঢাকার শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত রামিসা হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছর বয়সী এক শিশুর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ওই ফ্ল্যাটে বসবাসকারী সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর সোহেল ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলাটি তদন্ত করে ঘটনার পাঁচ দিনের মাথায়, গত ২৪ মে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। একই দিন মামলাটি বিচারের জন্য শিশু ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

তবে সেদিন থেকেই ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হওয়ায় ১ জুন মামলার অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য করা হয়। ঈদের ছুটি শেষে ওই দিন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

অভিযোগ গঠনের দিন সোহেল ‘ডলার’ নামে এক ব্যক্তিকে ঘটনার জন্য দায়ী করার চেষ্টা করেন। তবে তদন্ত কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রপক্ষ জানান, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

পরদিন ২ জুন মামলার ১৭ সাক্ষীর মধ্যে রামিসার বাবা, মা, বোন ও স্বজনসহ ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরপর ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং ৪ জুন উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

পরে যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য ৭ জুন দিন ধার্য করেন। বিচারিক আদালতগুলোতে অবকাশকালীন ছুটি চললেও মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে ট্রাইব্যুনালের ছুটি বাতিল করা হয়েছিল।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার লড়াই আজ

রামিসা হত্যা মামলার রায় পর্যবেক্ষণে যা বললেন আদালত

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা / চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই

দক্ষিণ লেবাননের আরও কয়েকটি শহরে ইসরায়েলি হামলা

মৃত মাকে দেখতে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল মেয়ের

খাদ্য প্যাকেটের সম্মুখভাগে সতর্কবার্তা বাড়াবে ভোক্তা সচেতনতা, কমাবে স্বাস্থ্যঝুঁকি

চরিত্র হনন: এক নীরব ঘাতক

সব ডেথ রেফারেন্সই দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি সিদ্ধান্ত নেবেন: আইনমন্ত্রী

ইসরায়েলের গুপ্তচরবৃত্তির হুমকিতে সতর্ক পেন্টাগন

উত্তাপহীন বিসিবি নির্বাচনে ৩৫ মিনিটে পড়েছে ১ ভোট

১০

ছাত্রদল নেতাকে মারধরের অভিযোগ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কের বিরুদ্ধে

১১

অঝোরে কাঁদছিলেন রামিসার বাবা, চোখ বন্ধ রেখেছিলেন স্বপ্না

১২

ভিসা ছাড়াই যে ৩৬ দেশে যেতে পারবেন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা

১৩

রামিসা হত্যা মামলা / রায়ের সময় কাঠগড়ায় দোয়া পড়ছিলেন সোহেল

১৪

সরকারে আসার ঝুঁকি এতটা ভয়াবহ হবে ভাবিনি: ফারুকী

১৫

৫ কার্যদিবসে মামলার রায় একটি ‘মাইলফলক’: রাষ্ট্রপক্ষ

১৬

দেশে ফিরেছেন ৩৭৪৩৫ হাজি

১৭

দক্ষিণ লেবাননে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত

১৮

চার বছরেও শেষ হয়নি সড়কের কাজ, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

১৯

রামিসা হত্যা মামলা / ৩ মাসের মধ্যে এ বিচার প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব : আইনমন্ত্রী

২০
X