

প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেলের শতভাগ মূল বেতন এক ধাপে কার্যকরের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি।
শুক্রবার (১৯ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ দাবি উত্থাপন করেন আহ্বায়ক আবদুল মালেক।
তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক সুরক্ষা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নবম পে-স্কেলের শতভাগ মূল বেতন এক ধাপে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১১ বছরে দুইটি পে-স্কেল পাওয়ার সময় অতিবাহিত হলেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখনো নবম পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত। ২০১৫ সালের পর অধিকাংশ কর্মচারীর মৌলিক বেতনের কাঠামোয় তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফলে তাদের বাস্তব আয় ও ক্রয়ক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে কমেছে।
তিনি আরও বলেন, ব্লক পোস্টধারী ও পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মচারীদের জন্য গ্রেড পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। ২০১৫ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল হওয়ার কারণে একই পদে ১০ বছরের বেশি চাকরি করার পরও অনেক কর্মচারী গ্রেড উন্নয়নের সুযোগ পাচ্ছেন না। এছাড়া ২০২০ সালে নতুন পে-স্কেল কার্যকর না হওয়ায় অনেক কর্মচারী বেতনের সর্বোচ্চ ধাপে পৌঁছে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
দীর্ঘদিন ধরে বেতন বৃদ্ধি না হওয়া এবং দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা চরম আর্থিক সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জাতীয় সংসদে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা কর্মচারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করলেও, এটি ধাপে ধাপে কার্যকরের আলোচনা তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সংগঠনটির দাবি, অতীতে কোনো পে-স্কেলের মূল বেতন দুই ধাপের বেশি সময় নিয়ে বাস্তবায়ন করা হয়নি। ২০০৫ সালের পে-স্কেল দেড় বছরে তিন ধাপে এবং ২০০৯ সালের পে-স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়িত হলেও প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করা হয়েছিল। এছাড়া ২০১৫ সালের অষ্টম পে-স্কেল এক ধাপেই বাস্তবায়ন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ২০১৫ সালে বাতিল হওয়া তিনটি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল, শতভাগ পেনশন উত্তোলনের সুযোগ চালু, পেনশন গ্র্যাচুইটির হার ২৩০ টাকা থেকে দ্বিগুণ করা এবং টিফিন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও যাতায়াত ভাতা সময়োপযোগী হারে বৃদ্ধির দাবিও জানানো হয়।