

ওমরা পালনে সৌদি আরব, মালয়েশিয়ায় আয়রনম্যান প্রতিযোগিতা, বাড়ি যাওয়ার ছুটি; তিন পুলিশ কর্মকর্তার গন্তব্য ছিল তিন রকম। কিন্তু ছুটি শেষে কেউই কর্মস্থলে ফেরেননি। একইভাবে ওরিয়েন্টেশন কোর্স শেষে মৌলিক প্রশিক্ষণে অংশ নেননি আরেক শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার। দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় শেষ পর্যন্ত চারজনকেই সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার।
তারা হলেন, শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার আফজালুন নেছা, সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. মাহমুদুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিশু বিশ্বাস ও জুয়েল চাকমা।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনের তথ্যানুযায়ী, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আনা পলায়ন ও অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে গুরুদণ্ড হিসেবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের একজন মো. মাহমুদুল হাসান, পুলিশের টেলিকম শাখার সাবেক টেলিকম অফিসার (এসও)। তিনি ওমরা পালনের জন্য সৌদি আরব যাওয়ার উদ্দেশ্যে ১৫ দিনের ছুটি নিয়েছিলেন। ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আরেক কর্মকর্তা মিশু বিশ্বাস, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। তিনি মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘আইরনম্যান ৭০.৩ ল্যাংকাউই-২০২৪’ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ১০ দিনের ছুটি নিয়েছিলেন। তবে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে না ফেরায় এবং বিভাগীয় কার্যক্রমে অংশ না নেওয়ায় তাকেও চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল চাকমা ৬ দিনের সাধারণ ছুটি নিয়ে বাড়ি গিয়েছিলেন। ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে দীর্ঘসময় অনুপস্থিত থাকেন। পরে কারণ দর্শানোর নোটিশেরও জবাব না দেওয়ায় এবং অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকেও চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এদিকে, শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার আফজালুন নেছা ৩৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ব্যাচের সঙ্গে ওরিয়েন্টেশন কোর্সে অংশ নেন। এই কোর্স শেষে মৌলিক প্রশিক্ষণে অংশ না গিয়ে অনুপস্থিত থাকেন। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে না ফেরায় এবং বিভাগীয় কার্যক্রমে অংশ না নেওয়ায় তাকেও চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে তাদের চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়েছে।