কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ইন্টার্নদের হাত ধরেই চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা বন্ধ হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্যখাতে জনবল বৃদ্ধি এবং আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের মানুষকে বিশ্বমানের চিকিৎসা দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান প্রজন্মের চিকিৎসা শিক্ষার্থী ও ইন্টার্নদের হাত ধরেই চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা কমে আসবে।

শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চিকিৎসক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা প্রতিদিনই মানুষের অনেক আনন্দ-বেদনার সাক্ষী। যারা চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত কিংবা চিকিৎসক হওয়ার জন্য অধ্যয়নরত, প্রতিটি মানুষের মনোজগতে আপনাদের অবস্থান তাদের সুস্থ জীবনের রক্ষক হিসেবে বিবেচিত।’

চিকিৎসকদের মানবিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘এ উপলব্ধি থেকেই সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের একটি অনুষ্ঠানে আমি বলেছিলাম, চিকিৎসকগণই সত্যিকার অর্থে মানুষের বিপদের বন্ধু। চিকিৎসকগণই রোগে-শোকে কাতর মানুষটির পরম বন্ধু হয়ে ওঠেন। একজন চিকিৎসকের উপদেশ ও আন্তরিক ব্যবহারও একজন রোগীর কাছে ওষুধের মতো কার্যকরী হয়ে ওঠে। সুতরাং একজন চিকিৎসকের জন্য পেশাগত উৎকর্ষতার পাশাপাশি মানবিক মানুষ হয়ে ওঠাও জরুরি।’

হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রতিটি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, রোগীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে আরও পাঁচ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, মিডওয়াইফসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য পেশাজীবীর শূন্যপদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘Prevention is better than cure’ নীতিকে সামনে রেখে সরকার স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করছে। পুষ্টি, টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুর বিকাশ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ, হৃদরোগ ও ক্যানসারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আগাম স্বাস্থ্যপরামর্শের মাধ্যমে অনেক রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই নিয়ন্ত্রণ বা নিরাময় করা সম্ভব।

তিনি জানান, সারাদেশে জনগণের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যপরামর্শ পৌঁছে দিতে এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী হেলথ কেয়ারার পরিবারভিত্তিক প্রতিরোধমূলক ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবেন।

স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বৃদ্ধির তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষাখাতের পর এবারই দেশের ইতিহাসে স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ বছর জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের পরিমাণ ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক ০২ শতাংশ। আগামী পাঁচ বছরে এটি জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসা ব্যয় কমাতে ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, হার্টের ভাল্ব, পেসমেকার, অক্সিজেনেটর, পেরিফেরাল ভাসকুলার স্টেন্ট, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন ফাইবার, চোখের লেন্স এবং ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু কাঁচামালের ওপর ভ্যাট ও কর কমানো হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের সব উপজেলায় ৩১ থেকে ৫১ শয্যার হাসপাতালগুলো পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বরিশাল ও রাজশাহীতে নির্মিত ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতালসহ মোট পাঁচটি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজধানীর বাইরে বিশেষায়িত শিশুচিকিৎসা আরও সহজলভ্য হবে।

মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিজ্ঞানসম্মত অপসারণ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আসুন, আমরা সবাই মিলে মেডিক্যাল বর্জ্য বিজ্ঞানসম্মতভাবে অপসারণ এবং হাসপাতালগুলোকে পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করি।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৫০ শতাংশ ছাড়ে মানারাত ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি মেলা

এক রাতে রাশিয়ার ২৮ জাহাজে হামলা ইউক্রেনের

জাপান গার্ডেন সিটির বিদ্যুৎ বিভ্রাট ছিল নিজস্ব উপকেন্দ্রের ত্রুটিতে, জানাল ডিপিডিসি

স্বস্তির জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়ালো বাংলাদেশ

মুহুরী সেচ প্রকল্পের ৪০ রেগুলেটর গেট খুলে দিল পাউবো

মহাখালীতে পরকীয়া প্রেমিকার ছুরিকাঘাতে গোপনাঙ্গ বিচ্ছিন্ন, রেল কর্মকর্তার মৃত্যু

চ্যাটজিপিটি যেন কপি মেশিন না হয়: শিক্ষামন্ত্রী

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নামার আগে সেরা খেলোয়াড়কে হারাল সুইজারল্যান্ড

শাহজালালের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে জাগপা’র দেশব্যাপী সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু

অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে দুই ছাত্রী খোয়ালেন গয়না-প্রবেশপত্র, দেওয়া হলো না পরীক্ষা  

১০

কারাগার থেকে পালানোর ২৩ মাস পর গ্রেপ্তার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি

১১

বন্যা ও পাহাড় ধসে মৃত্যু বেড়ে ৪৪, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি

১২

রয়টার্সের চোখে বাংলাদেশের বন্যা, নিহত ৪৪, পানিবন্দি ১০ লাখের বেশি মানুষ 

১৩

বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব: মিল্টন ভুঁইয়া

১৪

ফরিদপুরে এক্সপ্রেসওয়েতে বাসচাপায় নিহত ৫

১৫

আগের সরকার চুরি করত ভোট, বর্তমান সরকার চুরি করে ফলাফল: হাসনাত আবদুল্লাহ

১৬

২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা ফুটবলারের মৃত্যু

১৭

‘জাতির সঙ্গে বেইমানি করব না, গণভোট বাস্তবায়নে বাধ্য করব’

১৮

চাকরির বয়সসীমা ৩৫-৪০ করার দাবি, এক সপ্তাহের আলটিমেটাম

১৯

সিলেটে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি, নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা

২০
X