

বাগেরহাটের সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশনের নানাবিধ কার্যক্রম দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
শনিবার (১৮ জুলাই) ফাউন্ডেশনটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা শিবির ও বিশেষজ্ঞ মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মুগ্ধতা প্রকাশ করেন।
কায়সার কামাল বলেন, ‘মরহুম শিক্ষক লতিফ মাস্টার শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আদর্শ মানুষ গড়ার কারিগর। মাদকমুক্ত, মানবিক ও শিক্ষিত সমাজ গঠনে তার আদর্শ ছড়িয়ে দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘সিপিএ রফিকুল ইসলাম জগলু আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বড় ভাই। আমি যখন ব্যারিস্টারি পড়তে বিদেশে যাই, তখন তিনি আমাকে নানাভাবে সহযোগিতা করেন। আজ তিনি তার বাবার স্মৃতিকে ধারণ করে যে মানবিক সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।’
তিনি আরও বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলা, শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চার কোনো বিকল্প নেই। লতিফ মাস্টারের দুই ছেলে সমাজকল্যাণে যে অবদান রেখে চলেছেন, তা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। সন্তানদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবারকেই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে।’
এদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলা ফ্রি চক্ষু শিবির ও বিশেষজ্ঞ মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় দেড় হাজার রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। এ ছাড়া রোগীদের মধ্যে বিনামূল্যে চশমা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়। বাছাই করা চক্ষুরোগীদের আগামী সপ্তাহে লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার করানো হবে।
লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশনের ফ্রি চক্ষু শিবির ও মেডিকেল ক্যাম্পের কো-অর্ডিনেটর সাংবাদিক রুহুল আমিন বাবু জানান, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক চিকিৎসাসেবা অব্যাহত থাকবে।
বাগেরহাটের গুণীজন শিক্ষক প্রয়াত মো. লতিফুর রহমান তার জীবদ্দশায় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে একটি ক্ষুদ্র শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচির সূচনা করেন। তার মৃত্যুর পর স্মৃতি ও জনকল্যাণমূলক আদর্শকে চিরস্থায়ী রূপ দিতে তার সহধর্মিণী হালিমা বেগম এবং সন্তানদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এটি একটি আনুষ্ঠানিক ফাউন্ডেশন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ফাউন্ডেশনটি এগিয়ে নিতে কাজ করছেন তার দুই সন্তান। একজন সরকারের সাবেক সচিব ড. মো. ফরিদুল ইসলাম এবং আরেকজন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সিপিএ রফিকুল ইসলাম। এ দুইজনের আমন্ত্রণেই মূলত বাগেরহাটে আসেন কায়সার কামাল।