কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম
আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

১৭ বছর রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেকের প্রমোশন হয়নি: রিজভী 

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রাজনৈতিক বিবেচনা নিয়ে এসে কাউকে এগিয়ে দেন আর কাউকে ফেলে রাখেন, তাহলে তো সেই ব্যক্তি বাংলাদেশের মানুষের ক্ষতি করছেন, মানবতার ওপর আঘাত করছেন। এটাই ১৭ বছর ধরে হয়েছে।

তিনি বলেন, কত ব্রিলিয়ান্ট ছাত্র, সে ছাত্রজীবনে হয়তো ছাত্রদল করেছে বা তৎকালীন সরকারি দল করতো না, অন্য কোনো দল করতো—এই কারণে তার প্রমোশন হয়নি। হয়তোবা প্রথমে চাকরিই হয়নি, পরবর্তীতে চাকরি পেলেও প্রমোশন হয়নি। সবদিক থেকে সে বঞ্চিত হয়েছে এবং দিনের পর দিন বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে তাকে ফেলে রাখা হয়েছে।

বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে দলীয় বিবেচনায় সরকারি চাকরিজীবীদের প্রমোশন বঞ্চনার প্রসঙ্গ টেনে শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটি’ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রিজভী।

তিনি বলেন, কেউ যদি ভালো ডাক্তার হন, উনি যদি রোগীদের প্রতি অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ হন, তাহলে আপনি তাকে বাদ দেবেন কেনো? তার যোগ্যতাকে কেনো অবমূল্যায়ন করবেন? এই অজ্ঞতার কারণে দেশে কোনো ব্রেন গেইন হচ্ছে না, বরং আপনারা মেধার অপচয় করলেন এবং দেশের সর্বনাশ করলেন।

রিজভী বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেখেছি, বাপের বা পরিবারের কেউ হয়তো অন্য দল করে—এই কারণে কারও কোনো প্রমোশন হয়নি। এখানে আমাদের যারা আছেন, যেমন ডা. রফিক (বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক), ডা. লোহানী, ডা. জাহাঙ্গীর, ডা. শাকিলসহ যাদেরকে আমি চিনি, তাদের অনেকেরই পাবলিকেশনস আছে। প্রমোশন পাওয়ার জন্য যে সাপোর্ট ও কোয়ালিটি দরকার, কোয়ালিফাই করার জন্য যা যা প্রয়োজন, সবকিছুই তাদের আছে। কিন্তু তাদের প্রমোশন দেওয়া হয়নি, তারা মেডিকেল অফিসার হিসেবেই থেকে গেছেন। যদি ৫ আগস্টে পরিবর্তন না হতো, তাহলে এরা কেউ অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর বা প্রফেসর হতে পারতেন না, তাদের সেই পরিচয়টাই আসতো না। তাহলে তাদের মতো ভালো ডাক্তাররা প্রফেসর বা অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর হওয়ার জন্য যে পড়াশোনা ও রিসার্চ করেছেন, তার তো কোনো মূল্য থাকল না। এইভাবে বিভিন্ন সেক্টরের মতো এই সেক্টরটাকেও যা সরাসরি মানুষকে নিয়ে কাজ করে, মানুষের বাঁচা-মরা নিয়ে কাজ করে নষ্ট করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, নেতৃত্বে যদি সামগ্রিক বাংলাদেশ না থাকে, তার হৃদয়ের মধ্যে যদি গোটা বাংলাদেশ না থাকে, সে কিসের নেতা? ১৭ বছর ধরে আমরা সেটাই দেখেছি। দেশের মধ্যে দেশ, ঘরের মধ্যে ঘর তৈরি করা হয়েছে। আর এটা করতে গিয়ে আমরা অনেক মেধাবী মানুষকে হারিয়েছি। কেউ হয়তো দেশের বাইরে চলে গেছেন, সেখানেই স্থায়ী হয়ে গেছেন আর ফিরে আসেননি। কেউ হয়তো আজীবনের জন্য বঞ্চিত হয়েছেন, যার ফলে নিজের বিকাশ ঘটিয়ে জাতিকে যে সার্ভ করবেন, সেই জায়গাটা হারিয়ে গেছে।

আশাবাদ প্রকাশ করে রিজভী বলেন, অত্যন্ত আশাবাদী হয়ে উঠেছি। সেই পরিস্থিতি আর নেই, সেই জায়গা থেকে অনেক উত্তরণ ঘটেছে। এখন যে সরকারটি দায়িত্বে আছে, তারা মেডিকেল সেক্টরে ও শিক্ষা সেক্টরে অনেক বরাদ্দ বাড়িয়েছে; গত বছরের চেয়েও বাজেট বরাদ্দ বেশি করা হয়েছে। অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে, দুরারোগ্য ব্যাধি যেমন ক্যানসার, কিডনি, থ্যালাসেমিয়া এবং হার্টের ডিজিজের চিকিৎসার ক্ষেত্রে যেখানে আগে ২ লাখ বা ২ লাখ ২০ হাজার টাকা লাগত, সেখানে খরচের বোঝা কমাতে সুপারিশ করা হয়েছে এবং তা প্রত্যাহার/হ্রাস করে এখন হয়তো ১ লাখ, ১ লাখ ২০ হাজার বা ৯০ হাজার টাকার মধ্যে নিয়ে আসা হচ্ছে। এই সুবিধাটা এখন আমরা পাব। এটাই হচ্ছে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

কালবেলা
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দাবানল, বিষাক্ত ধোঁয়া ও আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত আমেরিকা

ধারাবাহিকে ফিরছেন সুমাইয়া শিমু

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সামরিক মহড়া ‘টাইগার লাইটনিং ২৬’ শুরু রোববার

বিশ্বকাপের উন্মাদনায় বেড়েছে ইন্টারনেট গ্রাহক

সন্তান প্রসবের জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে ট্রাকচাপায় অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের আইনি পদক্ষেপ শুরু

মসজিদুল হারামে নতুন প্রযুক্তি, যেসব সুবিধা পাবেন হাজিরা

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পুরোনো ফর্মুলা বাদ দিতে হবে: আখতার হোসেন

স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী তারকাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা

টালিউডে কাজ করতে চান কাজল

১০

ফাইনালের আগে স্কালোনির ক্ষোভ, কিন্তু কেন?

১১

ভারতীয় বিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধের মেয়াদ বাড়াল পাকিস্তান

১২

রাজাকারদের রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে বর্জন করতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

১৩

চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু

১৪

আলোচনা সভায় বক্তারা / জুলাইয়ের শক্তি নিয়েই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী লড়াই চালিয়ে যেতে হবে

১৫

আওয়ামী লীগ নেতাকে গলা কেটে হত্যা

১৬

ভারতের আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ৮

১৭

চার বছরের মধ্যে সব কৃষক পাবেন কৃষি কার্ড: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

১৮

শহীদ জিয়ার স্মরণে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ভ্যানগাড়ি দিলেন যুবদল নেতা

১৯

বাগেরহাটে ‘লতিফ মাস্টার’ ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম দেখে মুগ্ধ ডেপুটি স্পিকার

২০
X