

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও আলেম সমাজের অংশগ্রহণ এবং আত্মত্যাগের একটি ‘পূর্ণাঙ্গ শহীদ তালিকা’ প্রকাশ করেছে তরুণ আলেমদের সংগঠন ‘সাধারণ আলেম সমাজ’ (সাআস)।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের দীর্ঘ ১০ মাসের অনুসন্ধানে জুলাই বিপ্লবে মোট ৮৫ জন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও আলেমের শাহাদাত বরণের তথ্য পাওয়া গেছে। এই শহীদদের আত্মত্যাগের মহিমাকে স্মরণীয় করে রাখতে সংগঠনটি তাদের প্রতীকীভাবে ‘জুলাইয়ের আবাবিল’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
সংগঠনটির ভাষ্যমতে, পবিত্র কোরআনে বর্ণিত ‘আবাবিল’ যেমন জালেম শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক, তেমনি এই তরুণরা কোনো সামরিক শক্তি না হয়েও কেবল ঈমান ও দেশপ্রেমের টানে রাজপথে নেমেছিলেন।
সাধারণ আলেম সমাজের মুখপাত্র রিদওয়ান হাসান কালবেলাকে জানিয়েছে, ইতিপূর্বে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের শাহাদাত নিয়ে বিভিন্ন অসম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশিত হলেও সেগুলোর যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। অনেক ক্ষেত্রে কেবল লোকমুখে প্রচলিত তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। তবে বর্তমান তালিকাটি প্রতিটি শহীদ পরিবারের সাক্ষাৎকার, শাহাদাতের প্রত্যক্ষ ঘটনাপ্রবাহ এবং সরকারি গেজেটের তথ্যের সাথে মিলিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রস্তুত করা হয়েছে। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের শহীদের সংখ্যা ২৬ জন উল্লেখ করা হলেও সংগঠনটির দাবি, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি।
সংগঠনটির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জুলাই আন্দোলনের পুরো সময়ে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিন ছিল ১৯ জুলাই। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, কেবল ওই একদিনেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ২৩ জন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী শহীদ হয়েছেন। ফলে আন্দোলনের ইতিহাসে ১৯ জুলাইকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের মতে, শহীদবিহীন ২১ জুলাইকে ‘প্রতিরোধ দিবস’ ঘোষণা করা শহীদদের প্রকৃত ত্যাগের প্রতি অবহেলার শামিল হতে পারে।
শহীদদের জীবন ও আত্মত্যাগের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে ‘জুলাইয়ের আবাবিল’ নামে একটি গবেষণাধর্মী বই প্রকাশ করা হয়েছে। বইটি লিখেছেন সাধারণ আলেম সমাজের সাধারণ সম্পাদক আকিফ আব্দুল্লাহ এবং সম্পাদনা করেছেন রিদওয়ান হাসান। বইটিতে ৮৫ জন শহীদের জীবনবৃত্তান্ত, পারিবারিক পরিচয় এবং শাহাদাতের বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে।
সংগঠনটি মনে করে, ৮৫ জন শহীদ কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং একেকটি স্বপ্ন ও পরিবারের গল্প। প্রচলিত রাজনৈতিক বয়ানের বাইরে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এবং মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের এই বীরত্বগাঁথা সংরক্ষণ করা এখন জাতীয় দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দলের নয়, বরং জুলাইয়ের এই ইতিহাসকে সমগ্র বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ইতিহাস হিসেবে যথাযথ মর্যাদায় সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছে সাধারণ আলেম সমাজ।
‘পূর্ণাঙ্গ তালিকা’টি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।