মোল্ল্যা মুহাম্মদ শাহাজুদ্দীন
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ইতিহাসের মুখোমুখি: ফুল কি যথেষ্ট?

মোল্ল্যা মুহাম্মদ শাহাজুদ্দীন। ছবি : কালবেলা
মোল্ল্যা মুহাম্মদ শাহাজুদ্দীন। ছবি : কালবেলা

জুলাইয়ের উত্তাল রাজপথে যখন ছাত্র-জনতার রক্ত ঝরেছিল, তখন সেই ঘটনার দায় কার—এই প্রশ্ন আজও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। সময়ের ব্যবধানে যদি সেই ঘটনাগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা অভিযুক্ত কোনো পক্ষ স্মৃতিসৌধে গিয়ে শহীদদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানায়, তখন তা কেবল আনুষ্ঠানিকতা, নাকি জাতির স্মৃতির সঙ্গে এক ধরনের দ্বন্দ্ব—এ প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন দ্বৈততার উদাহরণ নতুন নয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত ছিল, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে তাদের একটি অংশকে নানা সময়ে জনপরিসরে সক্রিয় হতে দেখা গেছে। ফলে, স্মৃতিসৌধে তাদের উপস্থিতি অনেকের কাছেই প্রশ্নের জন্ম দেয়—শ্রদ্ধা কি শুধুই প্রতীকী, নাকি তার সঙ্গে থাকা উচিত দায়স্বীকার ও আত্মসমালোচনা?

একই প্রশ্ন নতুন প্রজন্মের ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে, বিশেষ করে সাম্প্রতিক আন্দোলন-সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে। জুলাইয়ের ঘটনাবলিতে যারা নিহত হয়েছেন, তাদের স্মৃতি এখনও তাজা। এমন অবস্থায়, যদি কোনো পক্ষ বিনা ব্যাখ্যায় বা অনুশোচনা ছাড়াই শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এগিয়ে আসে, তবে তা অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।

এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তিনটি বিষয়—

প্রথমত, বিচার ও দায়বদ্ধতা

যে কোনো সহিংস ঘটনার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার। দায় নির্ধারণ ছাড়া প্রতীকী শ্রদ্ধা অনেক সময় বাস্তব প্রশ্নগুলোকে আড়াল করে দিতে পারে।

দ্বিতীয়ত, আদর্শিক অবস্থান

ইতিহাসে দেখা গেছে, কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক শক্তির অবস্থান পরিবর্তন হলে তারা আত্মসমালোচনার মধ্য দিয়ে নতুন অবস্থান তৈরি করে। কিন্তু সেই পরিবর্তন যদি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান না হয়, তবে অতীতের সঙ্গে বর্তমানের এই ফারাক নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

তৃতীয়ত, জনমানুষের প্রত্যাশা

যে কোনো আন্দোলনের মূল শক্তি থাকে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তারা কেবল প্রতীকী কর্মসূচি নয়, বরং ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চায়।

সব মিলিয়ে, শহিদদের স্মরণ কেবল ফুল দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি নৈতিক অবস্থান—যেখানে সত্য স্বীকার, দায় গ্রহণ এবং ন্যায়বিচারের পথ সুগম করার প্রতিশ্রুতি থাকতে হয়।

ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, সময় অনেক কিছু বদলায়, কিন্তু স্মৃতি ও প্রশ্নকে মুছে দিতে পারে না। তাই শহিদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে হলে, প্রয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়—প্রয়োজন সত্যের মুখোমুখি দাঁড়ানোর সাহস।

লেখক: সাধারণ সম্পাদক, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রদল।

[ নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, প্রতিক্রিয়া প্রভৃতিতে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। দৈনিক কালবেলার সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, দৈনিক কালবেলা কর্তৃপক্ষের নয়। ]
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী / ৩০ দিনের মধ্যে বেনজীরকে দেশে ফেরানোর চেষ্টা চলছে

লিটন-তাওহীদ-মোসাদ্দেকের ফিফটিতে অজিদের বড় টার্গেট দিল টাইগাররা

শাকিবকে দেখে পূর্ণিমার আক্ষেপ, ‘এই লুকটা আগে কোথায় ছিল!’

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হলেন বেনজীর

আত্মসমর্পণ করলেন আমির হামজা

সাংস্কৃতিক চর্চায় নতুন আয়োজন ‘থিয়েটারের গান’

সাবেক আইজিপি বেনজীর গ্রেপ্তার

‘আমি ভুল করেছি, ক্ষমা চাই’, দায় স্বীকার করলেন রামিসার হত্যাকারী

২২ দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তিতে মাদ্রাসার ৩শ শিক্ষার্থী

নেপাল থেকে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছে না বাংলাদেশ

১০

সিলনের আয়োজনে ঢাকায় গাইবেন অনুপম রায়

১১

ইসলামী ব্যাংককে ২৫০০ কোটি টাকা বিশেষ ধার দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক

১২

ভাগ্য ভালো, আরও গোল খাইনি : ব্রাজিল ডিফেন্ডার

১৩

লাশ আটকে ‘কান ধরে উঠবস’, তবুও কর্মবিরতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

১৪

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেই বাজিমাত, ব্রাজিলকে পেছনে ফেলে গ্রুপসেরা স্কটল্যান্ড

১৫

স্বেচ্ছায় বিয়ে, থানার ভেতরেই মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

১৬

দুই মাসের জন্য ইউরোপ ট্যুরে যাচ্ছেন জেমস

১৭

মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ওপর হামলা, আহত ৫

১৮

ড. সুকোমল বড়ুয়া ও ড. হুমায়ুন কবিরের নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

১৯

ঘরে প্রথম স্ত্রী রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়ে অবরুদ্ধ ছাত্রদল নেতা

২০
X