

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (০৬ জানুয়ারি) নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ইশতেহার ঘোষণা করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবীর খান।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এক বার্তার মাধ্যমে তিনি গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান।
শায়রুল কবীর খান জানান, আজ বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ ইশতেহার প্রকাশ করা হবে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের ইশতেহারে বিএনপির ৩১ দফা এবং জুলাই সনদকে মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের চাওয়া-পাওয়াকে ইশতেহারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জনকল্যাণমূলক কাজের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড এবং কৃষক কার্ডের মতো আধুনিক সেবাগুলো চালুর প্রতিশ্রুতি থাকছে এই দলিলে।
ইশতেহারে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা এবং প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণের পাশাপাশি দুর্নীতি দমনে শক্তিশালী কাঠামোর রূপরেখা থাকবে। এ ছাড়াও মানবাধিকার রক্ষা, অর্থনীতি এবং পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরা হবে। আলেম-ওলামা, কৃষক এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কল্যাণে বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক প্রতিশ্রুতিও যুক্ত করা হয়েছে এই নির্বাচনী ইশতেহারে।
চলুন দেখে নেওয়া যাক বিএনপির ইশতেহারে প্রধান্য পেতে পারে যেসব বিষয়-
প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে 'ফ্যামিলি কার্ড' চালু করে প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থ সেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা হবে।
কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে 'কৃষক কার্ড-এর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষি বীমা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদার করা হবে। মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী খামারি ও কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এই সুবিধা পাবেন।
দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন, প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা এবং 'মিড-ডে মিল' চালু করা হবে।
তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে মুক্তকরণ এবং মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।
পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে দেশপ্রেমী জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল খনন ও পুনঃখনন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।
ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম (পেপাল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন এবং 'মেড ইন বাংলাদেশ' পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ করা হবে।
এই ইশতেহার কেবল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়; এটি একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা। বিএনপি প্রতিশোধ নয়, ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই আমাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। লুটপাট নয়, উৎপাদন; ভয় নয়, অধিকার; বৈষম্য নয়, ন্যায্যতা-এই নীতিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।
জনগণের রায়ে দায়িত্ব পেলে বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, যেখানে ভোটের মর্যাদা থাকবে, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অবসান হবে, আইনের উর্ধ্বে কেউ থাকবে না এবং প্রতিটি নাগরিক গর্ব করে বলতে পারবে-সবার আগে বাংলাদেশ।