ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

হজ শেষে হাজিদের জন্য যে ৩ কাজ জরুরি

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ পবিত্র হজ পালন শেষে অনেক হাজিই এক ধরনের মানসিক শিথিলতা অনুভব করেন। মনে করেন, হজের মূল কাজ তো শেষ, এখন আর আগের মতো ইবাদতের চাপ নেই। কিন্তু প্রকৃত অর্থে, হজের আধ্যাত্মিক সুফল ধরে রাখা এবং জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য হজ-পরবর্তী সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একজন হাজি হজের পর তার জীবনে কী পরিবর্তন আনবেন এবং কোন কাজগুলো করবেন, তার ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হয় তার হজের সার্থকতা। ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর বয়ান অবলম্বনে নিচে হজের পর হাজিদের জন্য অত্যন্ত জরুরি ৩টি কাজের কথা তুলে ধরা হলো:

১. ইবাদত ও তওয়াফের ধারা অব্যাহত রাখা

হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মিনাতে বা মক্কায় ফেরার পর অনেক হাজি আড্ডাবাজি বা গল্পগুজবে লিপ্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু শয়তানের এই ফাঁদে পা না দিয়ে অবশিষ্ট সময়টুকুকে ইবাদতের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানো উচিত। হজের ভিড় যখন কমতে শুরু করে, তখন হারাম শরিফে মন ভরে তওয়াফ ও নফল ইবাদতের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়। শরিয়ত নির্ধারিত কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলেও, হাজিদের উচিত নিজেদের ওপর প্রতিদিন অন্তত একটি করে নফল তওয়াফ করার বিষয়টিকে অবধারিত করে নেওয়া। বিশেষ করে শেষ রাতে বা তাহাজ্জুদের সময় তওয়াফ ও দোয়া কবুলের সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে, যা কোনোভাবেই হাতছাড়া করা উচিত নয়।

২. জীবন পরিবর্তনের সংকল্প বা হজের ‘গিরা’ দেওয়া

পবিত্র কোরআনে সেই নারীর উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, যে সারাদিন দড়ি পাকানোর পর শেষে গিরা না দিয়ে দড়িটি ছেড়ে দেয়, ফলে তার সারাদিনের পরিশ্রম বৃথা যায়। হাজিদের অবস্থাও যেন তেমন না হয়। হজের মতো বিশাল একটি ইবাদত যেন জীবনের ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হয়। হজের আগে মানুষের জীবনে যেসব বদভ্যাস বা ত্রুটি ছিল, (যেমন: উপার্জনে ভেজাল, আচরণে কর্কশতা, বা কোনো হারাম সম্পর্ক) সেগুলো থেকে চিরতরে ফিরে আসার নামই হলো হজের রশির মাথায় ‘গিরা’ দেওয়া। আল্লাহর কাছে আকুতি জানিয়ে বলতে হবে, ‘হে আল্লাহ, আমি যেন আর আগের সেই গোনাহের জীবনে ফিরে না যাই’। হজের আগের ও পরের জীবনের মধ্যে যদি স্পষ্ট পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়, তবেই সেটি ‘হজে মাবরুর’ বা কবুল হজের আলামত হিসেবে গণ্য হতে পারে।

৩. দ্বীনি পরিবেশ বজায় রাখা ও কবুলিয়তের দোয়া

হজ থেকে ফেরার পর শয়তান নানাবিধ প্ররোচনা দিয়ে মানুষকে আবার পূর্বের পাপাচারের পথে ফিরিয়ে নিতে চায়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অন্যতম হাতিয়ার হলো দ্বীনি পরিবেশ ও ভালো সঙ্গ বজায় রাখা। যেসব বন্ধু বা সার্কেল দ্বীনের পথে চলতে বাধা সৃষ্টি করে, আল্লাহর সন্তুষ্টির খাতিরে তাদের সঙ্গ ত্যাগ করা জরুরি। এর পরিবর্তে যারা দ্বীনের পথে চলতে সহায়তা করবে, তাদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি, হজের মতো বড় ইবাদত করার পর অহংকারী না হয়ে বরং বিনয়ী হতে হবে। নিজের ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা চেয়ে আল্লাহর কাছে প্রতিনিয়ত দোয়া করতে হবে যেন তিনি হজকে কবুল করে নেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এমপি মনিরুল হকের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত: সর্ব মিত্র চাকমা

বেড়িবাঁধকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত ২০

ইসলামী ব্যাংকে নতুন প্রশাসক নিয়োগ

লেবাননে ইসরায়েলের হামলা উচিত হয়নি : ট্রাম্প  

রিজার্ভ বেড়ে ৩৫.৬৩ বিলিয়ন ডলার, ৪৩ মাসে সর্বোচ্চ

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালককে অপসারণ

সিরিজসেরা মোসাদ্দেক, হৃদয় পেলেন ‘চেরি’ ব্র্যান্ডের গাড়ি

সিলেটে অপরাধ দমনে আসছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা : সিসিক প্রশাসক

কবে ও কীভাবে ফেরানো হবে বেনজীরকে?

বেনজীরের আটক সরকারের কৃতিত্ব নয়, ইন্টারপোলের : জামায়াত আমির 

১০

সংসদে নারীদের বোরকা-হিজাব নিয়ে কটূক্তির নিন্দা মাওলানা রাব্বানীর

১১

অটোরিকশার চাপায় সৌদি প্রবাসী নিহত

১২

ছাত্রশিবিরের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

১৩

কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আহত ১৭

১৪

বাগেরহাটের সেই ভুয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তদন্ত করবেন জেলা প্রশাসক

১৫

ইরান রাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে, ইসরায়েলে ‘আতঙ্ক’

১৬

জার্মানি বনাম কুরাসাও ম্যাচে কে জিতবে, নিউইয়র্ক টাইমসের ভবিষ্যদ্বাণী যা বলছে

১৭

সংসদে চানাচুরের পুষ্টিগুণ জানালেন এমপি লিংকন

১৮

বেনজীরের গ্রেপ্তারে ‘মজা’ পেলেন পরীমনি

১৯

রোলেক্স ঘড়ি উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত শাকিব যা বললেন

২০
X