ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

হোটেল ওয়েটারদের বকশিশ দেওয়ার বিধান

ছবি : জেমিনি
ছবি : জেমিনি

বর্তমান সময়ে আমাদের নাগরিক জীবনের ব্যস্ততায় বাইরে বা রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়ার বিষয়টি একটি সাধারণ সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। আর রেস্তোরাঁয় খাবার শেষে যারা আমাদের টেবিলে খাবার পরিবেশন করেন, সেই ওয়েটারদের কিছু অতিরিক্ত অর্থ বা ‘বকশিশ’ দেওয়ার একটি দীর্ঘদিনের প্রচলন আমাদের দেশে রয়েছে। অনেকে এটিকে উদারতা বা সাহায্যের অংশ মনে করেন, আবার অনেকে একে সামাজিক শিষ্টাচার হিসেবে দেখেন।

তবে একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের প্রতিটি কাজের ভিত্তি হওয়া উচিত শরিয়তের বিধান। দৈনন্দিন জীবনের এই সাধারণ বিষয়টি নিয়ে শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি কী এবং এক্ষেত্রে কোন কোন সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি, তা জানা প্রতিটি সচেতন মুমিনের জন্য আবশ্যক।

বকশিশ প্রদানের সাধারণ হুকুম

ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার কালবেলাকে বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে কাউকে খুশি হয়ে কিছু উপহার দেওয়া বা বকশিশ দেওয়া মূলত একটি বৈধ কাজ। আপনি হোটেলের ওয়েটার বা সেবা প্রদানকারীকে বকশিশ দিতে পারেন, এতে সাধারণভাবে কোনো বাধা নেই। তবে এই লেনদেনের ক্ষেত্রে শরিয়ত কিছু নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছে, যা লঙ্ঘন করলে এই বৈধ কাজই গোনাহের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

শরিয়তের মূল শর্ত: হকের সমতা বজায় রাখা

মুফতি আবরার বলেন, হোটেল ওয়েটারকে বকশিশ দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এর বিনিময়ে কোনো অতিরিক্ত সুযোগ বা খাবার গ্রহণ না করা। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, আপনি যে খাবারের অর্ডার দিয়েছেন এবং যে মূল্য পরিশোধ করছেন, ঠিক সেই পরিমাণ খাবার ও সেবাই আপনার প্রাপ্য। বকশিশ দেওয়ার কারণে যদি ওয়েটার আপনাকে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি খাবার দেয় কিংবা অন্য কোনো অন্যায্য সুযোগ সুবিধা প্রদান করে, তবে সেই বকশিশ দেওয়া এবং নেওয়া—উভয়ই শরিয়তের দৃষ্টিতে অবৈধ হয়ে যাবে।

পরিবেশনকারীর সততা ও আমাদের জিম্মাদারি

অনেক সময় দেখা যায়, বকশিশ পাওয়ার আশায় ওয়েটাররা নির্দিষ্ট গ্রাহককে বেশি খাবার দেন বা বিশেষ যত্ন নেন, যা হোটেলের মালিকের অজান্তে হয়ে থাকে। আবার বকশিশ না দেওয়ার কারণে কোনো গ্রাহককে তার প্রাপ্য খাবারের চেয়ে কম দেওয়া বা অবহেলা করার ঘটনাও ঘটে। শরিয়ত বলছে, বকশিশের প্রভাবে খাবারের পরিমাণের কম-বেশি হওয়া বা প্রাপ্য সেবার মান পরিবর্তন হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যদি বকশিশের কারণে সেবার এই বৈষম্য তৈরি হয়, তবে সেই অর্থ দেওয়া এবং গ্রহণ করা—উভয়টিই নাজায়েজ বা নিষিদ্ধ হবে।

সঠিক পদ্ধতি কী?

ইসলামি বিধান অনুযায়ী হোটেল বা রেস্তোরাঁয় বকশিশ দেওয়ার সঠিক পদ্ধতি হলো:

  • প্রথমে আপনার প্রাপ্য সেবা ও খাবার বুঝে নিন এবং নির্ধারিত বিল পরিশোধ করুন।
  • নিশ্চিত হোন যে, আপনি বকশিশ দিচ্ছেন বলে ওয়েটার আপনাকে মালিকের সম্পদের (খাবার বা পানীয়) কোনো অতিরিক্ত অংশ দিচ্ছে না।
  • সব সার্ভিস ঠিকমতো পাওয়ার পর এবং বিল পরিশোধের পর যদি আপনি তাকে সৌজন্যবশত বা উপহার হিসেবে কিছু অতিরিক্ত টাকা দেন, তবে সেটি সম্পূর্ণ জায়েজ এবং এতে কোনো সমস্যা নেই।
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সাকলায়েনের জন্য খারাপ লাগছে, বলেছিলেন পরীমণি

সবার আগে বিশ্বকাপের নকআউটে মেক্সিকো

সিলেটে হাম ও নিউমোনিয়ায় ঝরল আরও ২ শিশুর প্রাণ

বাউফলে বিদ্যুতের ট্রান্সফর্মার চুরির হিড়িক

পাকিস্তানে হামলার দাবি আফগানিস্তানের

সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগ নেতার পদত্যাগ

ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক হচ্ছে : শিক্ষামন্ত্রী

কেমন থাকবে আগামী ৫ দিনের আবহাওয়া

‘আওয়ামী লীগ’ ইস্যুতে সারা দেশে সতর্ক অবস্থানে পুলিশ

স্ত্রীকে ফেরাতে গিয়ে মোটরসাইকেল রেখে পালালেন ছাত্রদল নেতা

১০

সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন অর রশিদের জানাজা সম্পন্ন

১১

ভাড়া বাসায় মিলল আইসিটি কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ

১২

লেবাননে তীব্র লড়াই, ৪ ইসরায়েলি সেনা নিহত

১৩

১৫০০ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে শজিমেক হাসপাতাল

১৪

মেহেরপুর সীমান্তে আবারও পুশ-ইনের চেষ্টা

১৫

'মনে হচ্ছে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছি', কেন বললেন আ খ ম হাসান

১৬

‘মাস্টারমাইন্ড’ তকমা নিয়ে যা বললেন মাহফুজ আলম

১৭

তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শনে যাচ্ছেন ৩ মন্ত্রী

১৮

রাশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রম উইং নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ / ঘুষবাণিজ্য-ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রবাসীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন প্রথম সচিব

১৯

শিগগিরই জামায়াতের পতন হবে : রাশেদ

২০
X