

শুভ্র-সফেদ আকাশ যখন কালো মেঘে ঢেকে যায়, তখন মুহূর্তেই শুরু হয় প্রবল দমকা হাওয়া। কখনো সেই বাতাস রূপ নেয় ঝড়-তুফানে। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই ভয় ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়। অনেকেই বিরক্ত হয়ে বাতাসকেই দোষারোপ করেন, এমনকি গালমন্দও করেন। কিন্তু ইসলামের শিক্ষা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাতাস কোনো স্বাধীন শক্তি নয়; এটি আল্লাহ তাআলার এক অনুগত সৃষ্টি, যা তাঁরই আদেশে প্রবাহিত হয়। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) বাতাসকে গালি দিতে নিষেধ করেছেন।
হজরত উবাই ইবনু কাব (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, তোমরা বাতাসকে গালি দিও না। যদি এমন কিছু দেখো যা তোমাদের অপছন্দ হয়, তবে আল্লাহর কাছে এর কল্যাণ প্রার্থনা করো এবং এর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাও। (জামে তিরমিজি: ২২৫২)
এই হাদিস আমাদের শিক্ষা দেয়, কোনো সৃষ্টিকে দোষারোপ না করে সব অবস্থায় সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলার কাছেই কল্যাণ প্রার্থনা করতে হবে এবং তাঁরই কাছে অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাইতে হবে।
প্রবল বাতাস হলে নবী (সা.) এই দোয়া পড়তেন
হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, প্রবল বাতাস বইতে শুরু করলে রাসুলুল্লাহ (সা.) এ দোয়াটি পাঠ করতেন,
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا، وَخَيْرَ مَا فِيهَا، وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا، وَشَرِّ مَا فِيهَا، وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা, ওয়া খাইরা মা ফিহা, ওয়া খাইরা মা-উরসিলাত বিহি। ওয়া আঊযুবিকা মিন শাররিহা, ওয়া শাররি মা-ফিহা, ওয়া শাররি মা-উরসিলাত বিহী।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে এ বাতাসের কল্যাণ, এর মধ্যে নিহিত কল্যাণ এবং যে উদ্দেশ্যে একে প্রেরণ করা হয়েছে তার কল্যাণ প্রার্থনা করছি। আর আমি আপনার কাছে এ বাতাসের অনিষ্ট, এর মধ্যে নিহিত অনিষ্ট এবং যে উদ্দেশ্যে একে প্রেরণ করা হয়েছে তার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই। (মুসলিম: ৮৯৯)
কোরআন আমাদের জানায়, বাতাস কখনো আল্লাহ তাআলার রহমতের বার্তাবাহক, আবার কখনো তাঁর শাস্তি, সতর্কবার্তা বা পরীক্ষার মাধ্যম। তাই ঝড়-তুফানের সময় একজন মুমিনের করণীয় হলো, আতঙ্কিত হওয়া বা অভিযোগ করা নয়; বরং তাওবা, ইস্তিগফার, দোয়া এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা।
লেখক: শরিয়াহ কনসালট্যান্ট