

সুরে সুরে কিংবদন্তি ভারতীয় শিল্পী মোহাম্মদ রফিককে স্মরণ করা হয়েছে। আগামী ৩১ জুলাই সংগীতশিল্পী মোহাম্মদ রফির মৃত্যুবার্ষিকী। দিনটি সামনে রেখে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (আইজিসিসি) এক মনোমুগ্ধকর সংগীত সন্ধ্যার আয়োজন করে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে এ অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ও তার সহধর্মিণী। এছাড়াও দেশের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যমকর্মী, সংগীতের শিক্ষার্থী ও সংগীতপ্রেমীরা অংশ নেন।
রফির স্মরণে এমন মনোমুগ্ধকর সংগীত সন্ধ্যার আয়োজন করায় সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, ভারতীয় কালচারাল সেন্টার ও ভারতীয় হাইকমিশনকে ধন্যবাদ জানান এবং তিনি উল্লেখ করেন, কিংবদন্তি শিল্পী মোহাম্মদ রফি শুধু ভারত নয়, সমগ্র উপমহাদেশের সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, রফির কালজয়ী গান বিশ্বজুড়ে প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। তিনি এই সংগীত কিংবদন্তির বিনয়, উদারতা এবং তার শিল্পের প্রতি অবিচল নিষ্ঠাকে ব্যতিক্রমী গুণাবলী হিসেবে তুলে ধরেন। এ সময় ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার পাওয়ান বঢ়ে, ভারতীয় হাইকমিশনের ফাস্ট সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল অ্যান্ড প্রেস) গোকূল ভি কে উপস্থিত ছিলেন।
মোহাম্মদ রফি ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্লে-ব্যাক শিল্পী ছিলেন, যিনি তার বহুমুখী কণ্ঠ, আবেগের গভীরতা এবং অসাধারণ বিস্তৃতির জন্য প্রশংসিত ছিলেন। তিনি হিন্দিসহ আরও বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় হাজার হাজার গান গেয়েছেন। তার সংগীতে রোমান্টিক সুর, ভক্তিগীতি, দেশাত্মবোধক সংগীত এবং শাস্ত্রীয় সংগীতসহ বিভিন্ন শৈলী অন্তর্ভুক্ত ছিল। রফি শীর্ষস্থানীয় সংগীত পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং অনেক বিখ্যাত অভিনেতার জন্য গান গেয়েছেন, যার মাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও সম্মান অর্জন করেন। তিনি ১৯৬৭ সালে পদ্মশ্রীসহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন এবং তার কালজয়ী গানগুলো বিশ্বজুড়ে গায়কদের অনুপ্রাণিত করে
সংগীত সন্ধ্যায় ভারতের কণ্ঠশিল্পী প্রিয়ংবদা ব্যানার্জি এবং বাংলাদেশের শিল্পী মো. রাশেদ উদ্দিন রফির কালজয়ী গানসহ কয়েকটি শাস্ত্রীয় সংগীত পরিবেশন করেন। তাদের পরিবেশনা ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক সুরেলা প্রতিফলন হয়ে ওঠে।
প্রিয়ংবদা ব্যানার্জি রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত, লোকসংগীত ও সমকালীন সংগীতের শিল্পী। সংগীতপ্রেমী পরিবারে বেড়ে উঠেছেন তিনি। রবীন্দ্রসংগীতের একাধিক অ্যালবাম রয়েছে প্রিয়ংবদার। উনিশ ও বিশ শতকের বাংলা সংগীতধারার প্রতি তার গভীর অনুরাগ রয়েছে। অনুষ্ঠানেও তিনি গান গেয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। তার সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন বাংলাদেশের কণ্ঠশিল্পী মো. রাশেদ উদ্দিন। শাস্ত্রীয় ও সমকালীন বাংলা গানের প্রাণবন্ত পরিবেশনার জন্য তিনি সুপরিচিত। বাংলাদেশের সংগীতচর্চা ও প্রসারে তার অবদান এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনে আকর্ষণীয় মঞ্চ উপস্থিতির জন্য তিনি প্রশংসিত। দুজন শিল্পীই মোহাম্মদ রফির কালজয়ী গানগুলো গেয়েছেন।
অনুষ্ঠানটি ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের চলমান সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রমের অংশ। সংগীতের মাধ্যমে সীমান্ত অতিক্রম করে মানুষের হৃদয়কে একসূত্রে গেঁথে দেওয়া কিংবদন্তি শিল্পীদের সম্মান জানানো এবং ভারত-বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।