ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম
আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

অতিবৃষ্টি থেকে বাঁচতে যে দোয়া শিখিয়েছেন মহানবী (সা.)

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

বৃষ্টি মানে নরম প্রকৃতি, পবিত্রতার মহোৎসব। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বৃষ্টিকে তাঁর তরফ থেকে জগতবাসীর জন্য অপার নেয়ামত হিসেবে ঘোষণা করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘মানুষ নিরাশ হয়ে যাওয়ার পর তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন, আর স্বীয় রহমত ছড়িয়ে দেন, তিনি-ই সকল গুণে প্রশংসিত প্রকৃত অভিভাবক।’ (সুরা শুরা: ২৮)

অন্য আয়াতে রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘আমি আকাশ থেকে বর্ষণ করি কল্যাণকর বৃষ্টি আর তা দিয়ে সৃষ্টি করি বাগ-বাগিচা ও কর্তনযোগ্য শস্যদানা।’(সুরা কাফ: ৯)

তবে বৃষ্টি যেমন আল্লাহর রহমত, তেমনই আবার কখনো গজবও হয়ে উঠতে পারে। অতি বৃষ্টির কারণে বন্যা, পাহাড়ধস, ভূমিধস, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সৃষ্টি হয়। তাই অতি বৃষ্টি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া উচিত।

হাদিসে শরিফে হজরত আনাস (রা.) বলেন, একবার জুমার দিন রাসুলুল্লাহ (সা.) খুতবা দিচ্ছিলেন। তখন এক সাহাবি মসজিদে ঢুকে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, (অনাবৃষ্টির কারণে) জীবজন্তু মরে গেছে। পথ বন্ধ হয়ে গেছে। আল্লাহ তাআলার কাছে আমাদের জন্য বৃষ্টির দোয়া করুন।’

তখন রাসুল (সা.) দুই হাত উঠিয়ে দোয়া করতে শুরু করেন, ‘আল্লাহুম্মাসকিনা, আল্লাহুম্মাসকিনা, আল্লাহুম্মাসকিনা।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আমাদের বৃষ্টি দান করুন। হে আল্লাহ, আমাদের বৃষ্টি দান করুন। হে আল্লাহ, আমাদের বৃষ্টি দান করুন।’

আনাস (রা.) বলেন, আল্লাহর কসম! তখন আকাশে বিন্দুমাত্র মেঘের ছোঁয়াও ছিল না, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দোয়ার পর আকাশে মেঘের উদয় হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে পুরো আকাশ মেঘে ছেয়ে যায়। এরপর মুষলধারে বৃষ্টি আরম্ভ হয়।

আনাস (রা.) আরও বলেন, আল্লাহর কসম! পরের ছয় দিন আমরা সূর্য দেখিনি। পরের জুমায় ফের ওই ব্যক্তি যখন মসজিদে প্রবেশ করেন, তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) খুতবা দিচ্ছিলেন। ওই ব্যক্তি আরজ করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, ধনসম্পদ সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, পানিতে পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে, আল্লাহর কাছে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার দোয়া করুন।

তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই হাত উঁচিয়ে দোয়া করলেন, ‘আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়ালা আলাইনা; আল্লাহুম্মা আলাল আ-কাম ওয়াজ জিরাব ওয়া বুতুনিল আওদিআ; ওয়া মানাবিতিস শাজার।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আমাদের আশপাশে বৃষ্টি দিন, আমাদের ওপরে নয়। হে আল্লাহ, পাহাড়-টিলা, খাল-নালা এবং গাছ-উদ্ভিদ গজানোর স্থানগুলোয় বৃষ্টি দিন।’

বর্ণনাকারী বলেন, ‘তখনই বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যায়, এরপর আমরা নামাজ শেষে রোদের মধ্যে বের হই।’(বোখারি: ১০১৩)

বন্যা ও অতিবৃষ্টি থেকে মুক্তি পেতে হাদিসে উল্লিখিত দোয়াটি বেশি বেশি পড়তে পারেন।

কালবেলা
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মনপুরায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ 

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কাজ শুরু হয়েছে: অর্থমন্ত্রী

নৌভ্রমণে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে দুই যুবকের মৃত্যু

নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমের পরিচয়

জেলেনস্কির বিরুদ্ধে ইউক্রেনজুড়ে বিক্ষোভ

দেশের ১৩ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঝড়-বৃষ্টির আভাস

ফিক্সিংয়ের অভিযোগে সাকিবের দলের মালিক গ্রেপ্তার

বলিউডে আসছে জম্বি মহাযুদ্ধ, শেষ হাসি কে হাসবেন

কানাডায় ভয়াবহ দাবানল, ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ

সংবিধান সংস্কার নয় সংশোধন করতে চাই: মির্জা ফখরুল

১০

বেলুচিস্তানে পাক বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে সংঘর্ষ, নিহত ৩

১১

বিদ্রোহীদের ২০৫ যুদ্ধযান ধ্বংসের দাবি সুদান সেনাবাহিনীর

১২

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত, অপেক্ষায় অভিভাবকরা

১৩

অবৈধভাবে বসবাসরত প্রবাসীদের সুখবর দিল ইতালি

১৪

লেবাননে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি গড়ছে ইসরায়েল

১৫

রোমে রেড অ্যালার্ট জারি, তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি ছোঁয়ার আশঙ্কা

১৬

ছয় মাসে তুরস্কের আকাশপথ ব্যবহার করেছে ১১ লাখের বেশি ফ্লাইট

১৭

ডেমরা পুলিশ লাইন্সে কনস্টেবলের আত্মহত্যা

১৮

শনিবার খোলা হতে পারে কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট

১৯

কেন ফাইনাল দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন না আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট?

২০
X