কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:১৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মানুষের বড় চাওয়া সামাজিক শান্তি : রাষ্ট্রদূত মুশফিক

রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। পুরোনো ছবি
রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। পুরোনো ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকারের কাছে মানুষের সবচেয়ে বড় চাওয়া সামাজিক শান্তি বলে মন্তব্য করেছেন মেক্সিকোয় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফেসবুক পোস্টে রাষ্ট্রদূত লেখেন- বাংলাদেশকে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে দিতে জনগণের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যাত্রা শুরু নতুন প্রত্যাশা ও দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে। নবগঠিত মন্ত্রিপরিষদের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নিযুক্ত সকলের প্রতি জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা। তাদের অধিকাংশই আমার পরিচিত এবং যেমন আছেন অগ্রজ, তেমনি অনুজপ্রতিম। প্রধানমন্ত্রী তাদের ওপর যে আস্থা রেখেছেন, সে আস্থার মর্যাদা তারা নিশ্চয়ই রক্ষা করবেন, এই প্রত্যাশা করি। দায়িত্ব পালনে ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তারা যেনো সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দেন, সেটিই আজ সময়ের দাবি।

তিনি লেখেন, নবনির্বাচিত জনগণের প্রধানমন্ত্রীর কাঁধে রয়েছে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা ও পাহাড়সম সমস্যা। প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে সতর্কতার সঙ্গে। মন্ত্রিপরিষদে যেমন প্রাজ্ঞ ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব আছেন, তেমনি আছেন নবীন মুখও। নবীন হওয়া কোনো দোষের বিষয় নয়; বরং একাগ্রতা এবং কমিটমেন্ট থাকলে তারাই হয়ে উঠতে পারেন আগামীর শক্ত ভিত। কথা ও আচরণে যেনো দীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটে, সেটিই প্রত্যাশিত। মানুষের সবচেয়ে বড় চাওয়া সামাজিক শান্তি, স্থিতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকা। সরকার প্রথম দিন থেকেই সে লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে, এটাই স্বস্তির বিষয়। সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা আজ অত্যন্ত জরুরি।

রাষ্ট্রদূত আনসারী আরও লেখেন, চাঁদা শব্দটি বহুল আলোচিত হওয়ায় এ বিষয়ে কিছু বলা প্রয়োজন। চাঁদা শব্দটির পাশাপাশি রয়েছে আরও কিছু সমার্থক শব্দ, যেমন— হাদিয়া, সাদকা কিংবা লিল্লাহ। অনেক ক্ষেত্রেই এগুলো ঐচ্ছিক দান হিসেবে বিবেচিত হলেও সংগ্রহের প্রবণতা অনেক সময় অস্বাস্থ্যকর রূপ নেয়। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বল প্রয়োগ করে অর্থ আদায় দন্ডনীয় অপরাধ। আবার ধর্মীয় অনুশাসনের দোহাই দিয়ে যত্রতত্র অর্থ সংগ্রহ নি:সন্দেহে অগ্রহণযোগ্য।

তিনি লেখেন, সংস্থা, সংগঠন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, খানকা ও লিল্লাহ বোর্ডিং সকল প্রতিষ্ঠানেরই চলার উপযোগী অর্থ প্রয়োজন। কিন্তু তা আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ বিষয়ে আমাদের রাজনৈতিক বোদ্ধারা নিশ্চয়ই গভীরভাবে ভাববেন এবং একটি বৈধ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলবেন। উন্নত বিশ্বে তহবিল সংগ্রহ একটি সুসংগঠিত ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার এবং কমলা হ্যারিস প্রায় ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছেন, তবে তা ছিল সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও স্বেচ্ছাদানের ভিত্তিতে।

সবশেষ তিনি লেখেন- দেশ গঠনের এ অভিযাত্রায় প্রত্যেকে যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখি। সমালোচনার পাশাপাশি গঠনমূলক আলোচনার ক্ষেত্রও প্রসারিত হোক। আমাদের অঙ্গীকার হোক শৃঙ্খলা, ন্যায়, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। বাংলাদেশ এগিয়ে যাক মর্যাদা ও প্রগতির পথে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশন চলছে

বুবলীর খবরের মাঝেই অপুর পোস্টে কিসের ইঙ্গিত!

দীর্ঘ দুই দশক পর নারী প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার লড়াই আজ

রামিসা হত্যা মামলার রায় পর্যবেক্ষণে যা বললেন আদালত

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা / চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই

দক্ষিণ লেবাননের আরও কয়েকটি শহরে ইসরায়েলি হামলা

মৃত মাকে দেখতে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল মেয়ের

খাদ্য প্যাকেটের সম্মুখভাগে সতর্কবার্তা বাড়াবে ভোক্তা সচেতনতা, কমাবে স্বাস্থ্যঝুঁকি

চরিত্র হনন: এক নীরব ঘাতক

১০

সব ডেথ রেফারেন্সই দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি সিদ্ধান্ত নেবেন: আইনমন্ত্রী

১১

ইসরায়েলের গুপ্তচরবৃত্তির হুমকিতে সতর্ক পেন্টাগন

১২

উত্তাপহীন বিসিবি নির্বাচনে ৩৫ মিনিটে পড়েছে ১ ভোট

১৩

ছাত্রদল নেতাকে মারধরের অভিযোগ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কের বিরুদ্ধে

১৪

অঝোরে কাঁদছিলেন রামিসার বাবা, চোখ বন্ধ রেখেছিলেন স্বপ্না

১৫

ভিসা ছাড়াই যে ৩৬ দেশে যেতে পারবেন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা

১৬

রামিসা হত্যা মামলা / রায়ের সময় কাঠগড়ায় দোয়া পড়ছিলেন সোহেল

১৭

সরকারে আসার ঝুঁকি এতটা ভয়াবহ হবে ভাবিনি: ফারুকী

১৮

৫ কার্যদিবসে মামলার রায় একটি ‘মাইলফলক’: রাষ্ট্রপক্ষ

১৯

দেশে ফিরেছেন ৩৭৪৩৫ হাজি

২০
X